Published : 10 Jan 2026, 06:03 PM
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটভুক্ত কারা কত আসনে প্রার্থী দেবে, সেটি চূড়ান্ত নাহলেও এনসিপি কত আসনে প্রার্থী দেবে তা দুয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণার কথা বলছেন নাহিদ ইসলাম।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষ সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, আগামীকাল (রোববার) বা পরশুর মধ্যে ঘোষণাটা আসবে, অন্তত এনসিপির জায়গা থেকে আমরা কত আসনে নির্বাচন করতেছি এই জোটে, সেটা আমরা পরিষ্কার করতে চাই।”
১১ দলের এ জোটের কারা কত আসনে প্রার্থী দেবে তা চূড়ান্ত নাহলেও জোট নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন নাহিদ।
ভোটের প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম কোনো দল বা জোটই ভালোভাবে শুরু করতে পারেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বিএনপির জায়গা থেকেও তারা কিন্তু তাদের বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে বসানো, ‘ফুল ফ্লেজে’ (পুরোদস্তুর) কিন্তু তারাও নামতে পারেনি। জামায়াত ও এনসিপি জোট কিন্তু অনেকখানি এগিয়ে৷
“আমরা অলরেডি গণভোটের প্রচার শুরু করে দিয়েছি। আমরা মাঠেঘাটে মসজিদে সব জায়গায় গণভোটের পক্ষে কথা বলতেছি। আসন সমঝোতা জিনিসটার কিন্তু আলোচনা চলমান, বাইরে হয়তো ঘোষণা আসাটা বাকি। কিন্তু আমাদের অভ্যন্তরীণ যে কাজ সেটা আমরা করতেছি, নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা রাখতেছি।”
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ বলেন, “আসন সমঝোতার ঘোষণাটা, সেটা কেবল একটা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। যেহেতু এখানে জামায়াতে ইসলামও একটি সুশৃঙ্খল দল। এনসিপি নিজের মধ্যেও মোটামুটি একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছে কারা নির্বাচন করবে, কোথায় করবে; ফলে এই ডিসিশন হওয়া মাত্র কিন্তু আমাদের আর কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকবে না।”
‘অন্যান্য জোটের চ্যালেঞ্জ এখনো পরিষ্কার হয়নি’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তাদের জোটসঙ্গীদের জন্য তারা ‘ক্লিয়ার’ করতে পারে নাই আসন; নিজের দলের ভেতরে বিশৃঙ্খলা।
“ফলে আমরা মনে করতেছি যে একটু দেরি হলেও আমাদের নির্বাচনি যেই আয়োজন বা নির্বাচনি যে প্রস্তুতি, সেখানে (দেরি হলেও) আসলে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থেকে রাজনীতিতে নামা এ তরুণ নেতার অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দল সরকারের পক্ষ থেকে ‘বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও প্রোটোকল’ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে ভোটের মাঠে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হতে পারে।”
সংবাদ বা প্রচার মাধ্যমেরও ‘একদিকে ঝুঁকে যাওয়ারও’ প্রবণতা দেখছেন নাহিদ। তার ভাষ্য, “এনসিপিকে নিয়ে মেইনস্ট্রিম (মূলধারা) মিডিয়াতে নানা ধরনের ‘নেতিবাচক’ নিউজ বা ‘ফলস’ নিউজ; বিশেষত কয়েকটি মিডিয়াতে এটা টার্গেট করে করা হচ্ছে।
“আপত্তির বিষয়গুলো এনসিপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে জানানো হবে। আমরা দেখব যে ইলেকশন কমিশন আসলে কতটা ব্যবস্থা নিতে পারতেছে।”
ঋণ খেলাপিদের মনোনয়ন কোথাও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে আবার কোথাও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন নাহিদ। একইসঙ্গে নির্বাচনের প্রচারে পোস্টার ব্যবহারসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসিকে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।