Published : 05 Dec 2025, 10:46 PM
বিএনপি সরকার গঠন করলে ১৮ মাসে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অর্থনীতি এবং অর্থায়নের মডেলে পরিবর্তন নিয়ে আসার কথা বলছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অর্থায়নের ক্ষেত্রে এমন মডেলের দিকে সরকার যাবে, ঋণের জন্য বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে পেছনে ঘুরতে হবে না।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নির্ধারণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটা রাজনৈতিক বক্তব্য না। আমরা প্রত্যেকে কিছু হোমওয়ার্ক করেছি, বিস্তারিত হোমওয়ার্ক করেছি এবং কোন কোন সেক্টর থেকে অর্থায়ন করব, সেটা আমরা ঠিক করেছি।
“আমাদের ইকোনমিক মডেলটা চেইঞ্জ হবে, আমাদের অর্থায়নের মডেলও চেইঞ্জ হয়ে যাবে। আমরা চার বিলিয়ন ডলারের জন্য আইএমএফের পিছে পিছে ঘুরে বেড়াব না, আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি।”
আর্থিক সংকট সামাল দিতে ২০২২ সাল থেকে কয়েক দফা আলোচনা শেষে পরের বছরের প্রথম দিকে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ।
সবশেষ গত জুনে অর্থ ছাড়ের সময়ে ঋণের আকার বাড়িয়ে করা হয় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এখন পর্যন্তি ঋণের পাঁচ কিস্তি ছাড় করেছে আইএমএফ। ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের আগে আলোচনা সারতে অক্টোবরে ঢাকা সফর করে সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল।
তবে এই কিস্তির অর্থ নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবে আইএমএফ, অর্থ উপদেষ্টার বরাতে সংবাদমাধ্যমে এই খবর এসেছে।
খামার বাড়ি এলাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে জাতীয় যুবনীতি সংলাপে বক্তব্য দেন বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতা।
ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ (ডিএফআই) এবং ইয়ুথ স্কুল ফর সোশ্যাল এন্ট্রেপ্রেনিউরার্স (ওয়াইএসএসই) যৌথভাবে এই সংলাপ আয়োজন করেছে।
পুঁজিবাজারকে উন্নত করতে করণীয় ইতোমধ্যে নির্ধারণ করার কথা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, “আমরা ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপ করার জন্য যা যা করার, ইতোমধ্যে আমরা কাজ শেষ করেছি। এবং ক্যাপিটাল মার্কেটের সাথে বাংলাদেশিরা যারা বিদেশে কাজ করছে, ওয়ালস্ট্রিট থেকে শুরু করে গোল্ডম্যান স্যাকস, যারা বড় বড় প্রতিষ্ঠানে আছে, সবাই আমাদের সাথে কানেক্টেড এবং আমরা বিলিয়নস অফ ডলার আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটে আনব, ইনশাআল্লাহ।
“ওই টাকা বাংলাদেশে ইনভেস্টও হবে। আইএমএফের পিছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পিছে, তাদের কথা মতো আমরা ঘোরাঘুরি করব না।”
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে খাত-ভিত্তিক সব পরিকল্পনা ইতোমধ্যে সেরে ফেলার কথা তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “আমরা ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলছি, এটা অনেকে বিশ্বাস করছেন না আমি জানি।
“এবং বিশ্বাস না করার যথেষ্ট কারণও আছে। কিন্তু আমরা তো আমাদের কমিটমেন্ট থেকে বলছি এবং আমরা সেক্টর-ওয়াইজ কাজ করেছি। কোন সেক্টরে প্রথমে কত কর্মসংস্থান হবে, কত আত্মকর্মসংস্থান হবে, কত বিদেশি কর্মসংস্থান হবে। এক কোটি চাকরির আমরা সেগমেন্টগুলো করেছি এবং কোথায় কত ইনভেস্টমেন্ট করব, ঠিক করেছি।”
এটাকে ‘উচ্চাভিলাষী’ পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, এটা উচ্চাভিলাষী। আমাদের তো উচ্চাভিলাষী হতেই হবে, তাই না? উচ্চাভিলাষী হওয়া ছাড়া কোনো জাতি আগাতে পারে নাকি।
রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা যে পালন করে না, সে প্রসঙ্গে দর্শকসারি থেকে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটা থাকলেও বিএনপির ক্ষেত্রে ‘ব্যতিক্রম’ দেখা যাবে। সবগুলো অর্থনৈতিক সংস্কারের বেশিরভাগ বিএনপির আমলে হয়েছে।
“আমাদের কর্মসংস্থানের রেখচিত্র যদি আপনি দেখেন, বিএনপি রেজিমগুলো, সবসময় কিন্তু সেটা উপরের দিকে আছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জিডিপি প্রবৃদ্ধি যদি বলেন, আমরা যখন সর্বশেষ সরকার ফেলে আসি ৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ছিল। রেখচিত্রটা উপরের দিকে যাচ্ছিল। ওই ধারা থাকলে বাংলাদেশ এখন দুই সংখ্যায় বাড়ত।”
বিএনপি সরকারের উদারীকরণের কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের অগ্রগতি এবং জিয়াউর রহমান সরকারের উদ্যোগের কারণে বিদেশে প্রচুর মানুষ যাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিগত বিএনপি সরকারের মন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, “আমরা বলছি না যে, আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, শতভাগ করতে পেরেছি। তবে, যতটুকু পেরেছি আমার মনে হয়, যেটা বাংলাদেশকে ডিভিডেন্ড দিয়েছে অর্থনৈতিকভাবে, গণতন্ত্রণের ক্ষেত্রে।”
বাংলাদেশ ‘ওভার-রেগুলেটেড’ হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই যে আমাদের যারা ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে তাদের পেমেন্টের জন্য সমস্যা, তাদের রেজিস্ট্রেশনের সমস্যা। একটা লিমিটের পর আবার বাংলাদেশ ব্যাংকে যেতে হয়। রেজিস্ট্রেশন করতে হয়, কেন? কোনো কারণ তো নাই।
“আমরা পেপ্যাল চালু করে দেব। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা পেপ্যাল চালু করে দেব। আপনারা, পেপ্যাল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আমরা ট্রাজেকশন করবেন। আপনি টাকা আয় করবেন, এটা তো বাংলাদেশ সরকারের টাকা না। এটা আপনার টাকা। আপনি পরিশ্রমের মাধ্যমে, ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করছেন। আপনার টাকা সহজে বাংলাদেশে আসবে, আপনি টাকা তুলবেন, খরচ করবেন।”
দেশে বসে আয়, বিদেশ থেকে করা আয়, দেশের বাইরে খরচ করার সুযোগ অবারিত করার পক্ষে যুক্তি দিতে তিনি বলেন, “কেননা, এটা আপনার টাকা, এটা বাংলাদেশ সরকারের টাকা না। এই টাকাটা আপনারা আয় করেছেন। আপনার টাকা আপনি আনবেন সহজে, আপনি উইথড্র করবেন আর আপনার যদি কোন কাজের জন্য টাকা বাইরে পাঠাতে হয় আপনার একাউন্ট থেকে, আর্ন ইনকাম থেকে আপনি পাঠাবেন।”
বিনিয়োগকারীদের লাভের টাকা ফেরত নিতে পারার বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমি যদি টাকা আয় করি, আমার টাকা আমি বাইর নিতে আপনার সমস্যাটা কোথায়? এটা শুধু বাংলাদেশিদের জন্য না, এটা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও প্রযোজ্য। ওরা বলে যে ভাই, তোমাদের দেশ থেকে টাকা কামাইয়াতো বাইর করতে পারি না। আমি বিনিয়োগ করলাম, আমি টাকা যে এখানে রোজগার করলাম।
“এটা, টাকা প্রত্যাবাসন করে আমার দেশে নিয়ে যাওয়া খুব বড় সমস্যা। এইভাবে তো কোনো ইনভেস্টমেন্ট হবে না এখানে, দেশেরও হবে না, বাইরেরও হবে না। এইজন্য ডিরেগুলেশন আমাদের কর্মসূচির মধ্যে সবচেয়ে বড় কর্মসূচি।”
ডিএফআই-এর চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট আশফাক জামানের সঞ্চালনায় ওই যুব নীতি সংলাপে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী এবং যুব উদ্যোক্তার অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।