Published : 07 Jan 2026, 06:40 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যাদের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার, তাদের অনেকেই ‘দলীয় পরিচয়ে’ পদায়ন পাওয়ায় প্রার্থিতা বাছাইয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ‘বৈষম্যের’ শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
এ ধরনের ডিসি বা এসপি যারা আছেন তাদের অপসারণের দাবি জানান তিনি।
বুধবার বিকালে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন-ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য আমরা দেখেছি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তেরও ভিন্নতা দেখেছি। যেমন দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে একইধরনের ঘটনায় কোন কোন জায়গায় মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে। আবার একইরকম ঘটনায় কোন কোন জায়গায় এটাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।”
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে।
২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫১টি দলের ও স্বতন্ত্র মিলে আড়াই সহস্রাধিক। ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাছাইয়ে বাদ পড়েছে ৭২৩ জন, তাদের অধিকাংশই স্বতন্ত্র আর বিএনপি ও জামায়াতের। বাকিরা এনসিপিসহ অন্য দলের।
ইতোমধ্যে জামায়াত ২৭৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে; দলটির বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ আপিল করেছেন।
৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিলের সুযোগ রয়েছে, ১০-১৮ জানুয়ারি আপিল শুনানি হবে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে জামায়াত প্রতিনিধিরা ইসির সঙ্গে বৈঠক করল।
মনোনয়নপত্র বাছাই বিষয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় ডিসিরা…‘দলীয় ডিসি’ নিয়োগ করা হয়েছে এবং সেই দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তারা দেখেছে। তারা আইনকে দেখে। আমরা বলেছি এ ধরনের ডিসি-এসপি (জেলা পুলিশ সুপার) যারা আছে তাদেরকে অপসারণ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ ডিসি-এসপিকে সেখানে নিয়োগ করতে হবে। নাহলে নির্বাচন ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হবে।”
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “যেমন আবদুল আউয়াল মিন্টু সাহেব বিএনপির প্রার্থী। আব্দুল মালেক সিলেটে বিএনপির প্রার্থী- এরকম প্রায় ১২-১৩ জন আছেন (দ্বৈত নাগরিক বিষয়ক)। এর ভেতরে কয়েকজন গ্রহণ করা হয়েছে।

“কিন্তু একই ঘটনায় আপনার আমাদের কুড়িগ্রামের ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী তাকে গ্রহণ করা হয় নাই। আমরা এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি (ইসির)।”
একইরকম ঘটনা একটি মামলার ক্ষেত্রে ঘটেছে তুলে ধরে আব্দুল্লাহ তাহের বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে সেখানে আমাদের তিনজন নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল ‘অবৈধভাবে’। এর ভেতরে দুইজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই ঘটনায়, একই কোর্ট, একই মামলা। কিন্তু আমাদের ‘সিনিয়র লিডার’ আপনারা জানেন, যাকে আপনারা সকলেই চেনেন যে হামিদুর
রহমান আযাদ, তার মনোনয়নটাকে বাতিল করা হয়েছে। এইরকম। এক দেশে দুইরকম সিদ্ধান্ত। একই আইনের দুইরকম সিদ্ধান্ত-আমরা এটা জানিয়েছি এবং প্রতিবাদ করেছি।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির সম্মেলন কক্ষে হওয়া বৈঠকে জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
কোনো একক ব্যক্তিকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ায় নির্বাচনকালীন সময়ে ‘রং মেসেজ’ যাচ্ছে তুলে ধরে তাহের বলেন, “আপনারা দেখছেন যে নিরাপত্তার ব্যাপারে দেখা যায়, কোনো কোনো ব্যক্তিকে অনেক নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। আবার একই ধরনের অন্য নেতাদেরকে সেরকম নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। এখানে নিরাপত্তা তাকে বেশি দেবেন, কম দেবেন-এটা আমাদের ইস্যু নয়।
“আমাদের ইস্যু হচ্ছে-এটা যেহেতু নির্বাচনের সময়, একটা ‘পাবলিক ইমপ্রেশনের’ প্রশ্ন আছে সেজন্য। নির্বাচনের বাইরে কোনো সময় হলে, সেটা কোনো ইস্যু হতো না। কিন্তু এখন নির্বাচনের সময়, এটা একটা ইস্যু। কারণ মানুষ দেখবে যে একজনকে অনেক নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তার প্রতি মানুষের একটা ইমপ্রেশন হইতে পারে যে-‘বিকাম সামথিং ইন ফিউচার’। যেটা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত করছে’ একটা ‘রং
মেসেজ’ জনগণকে দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা এর মাধ্যমে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি (ইসির)।