তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনগণের বোঝা কমাতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি রাজনৈতিক দলের
“আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দায় সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না।”
জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদের পাশাপাশি নিন্দা করেছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
দাম বাড়ানোর ঘোষণার পরদিন এসব দলের কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হওয়ার আশঙ্কায় সরকারকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছে।
কোনো দল মনে করে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর ‘বোঝা’ আরও বাড়ল।
সোমবার পৃথক বিবৃতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা তাদের এমন অবস্থান তুলে ধরেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে এদিন বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ডিজেলসহ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করবে এবং তাদের দুর্ভোগকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, বলে মনে করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকারের উচিত ছিল জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দায় সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না।”
তিনি সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
জ্বালানি তেলের দামের বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, “সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির যুক্তি দেখালেও জনগণের ওপর এর পুরো ভার চাপিয়ে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না।
“জ্বালানি মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা, বিপিসির আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং রাষ্ট্রের বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা জরুরি।”
নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হবে। রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এর আগে গত জুনে তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ডিজেল ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রেখে কেরোসিন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা করা হয়। এরপর জুলাই, অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরেও সেই দাম বহাল ছিল।
এক লাফে এতটা দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগে সরকারের উচিত ছিল এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অভিঘাতের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা।
হঠাৎ কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোকে ‘আত্মঘাতী’ বলে মনে করেন বাংলাদেশ ন্যাপ এর চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া।
তারা বলেন, “সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনস্বার্থবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে। জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। মূলত: সরকার ছলে বলে কৌশলে সাধারণ মানুষের আয়ের উপর গোপন হামলা চালাচ্ছে। জনগণের পরিশ্রমের অর্থ নানা কায়দায় হাতিয়ে নিচ্ছে।”
জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে ‘নতুন অর্থনৈতিক চাপ’ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ।
