“অযৌক্তিক কারণে আন্দোলনের নামে জনজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি”, মনে করে দলটি।
Published : 28 Feb 2025, 07:59 PM
দেশের জনগণের ‘ভোট-বঞ্চনার’ মেয়াদ যেন আর দীর্ঘায়িত না হয়, সে জন্য ‘সবার আগে’ সংসদ নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।
দলের বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি বলেছে, “অবাধ নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে সবার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বিএনপি আহ্বান জানাচ্ছে।”
বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের এলডি হল সংলগ্ন মাঠে বিএনপির বর্ধিত সভা হয়। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া সভা চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত।
এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সভার মূল মঞ্চে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসন।
বর্ধিত সভায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌর কমিটি প্রতিনিধিসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার নেতা অংশগ্রহণ করেন।
সভার প্রস্তাব ও সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ঐকমত্যের যেসব সংস্কার নির্বাচনের আগে বাস্তবায়ন সম্ভব, তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং যেগুলোয় সংবিধান পরিবর্তন প্রয়োজন, তা সংসদে অনুমোদনের জন্য বিএনপির বর্ধিত প্রস্তাব করছে।”
মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে দলকে ‘সর্বাত্মক প্রস্তুত’ করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে জনগণের মধ্যে সক্রিয় হওয়া এবং কথা-কাজে জনগণের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
গণবিরোধী কর্মকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে বিরত থাকার জন্যও সবাইকে ‘কঠোর নির্দেশ’ দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
সেখানে বলা হয়, “বর্ধিত সভা মনে করে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমেই শুধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে থাকে।
“এই মৌলিক অধিকার থেকে দেশের জনগণকে প্রায় দেড় যুগ বঞ্চিত রাখা হয়েছে। ফলে এই বঞ্চনার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।”
দেশে দ্রব্যমূল্যের ‘অযৌক্তিক ঊর্ধ্বগতি’ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান অবনতিতে সভায় ‘গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ’ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ‘পতিত সরকারের সিন্ডিকেটের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া প্রয়োজন।
“অযৌক্তিক কারণে আন্দোলনের নামে জনজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।”
শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীরা কীভাবে নির্বিঘ্নে দেশ থেকে পালিয়ে গেল এবং এখনও অসংখ্য অপরাধী অবাধে কীভাবে বিচরণ করছে, সরকারের কাছে তার একটি ‘স্পষ্ট’ ব্যাখ্যা বিএনপির তরফে চাওয়া হয়।
ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি স্থাপন ও তা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকা নেওয়ায় সভায় তারেক রহমানের প্রশংসা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দুঃসময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে দলের কার্যক্রম শক্তিশালী, দলকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত করা, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং সর্বোপরি ফ্যাসিবাদ পতনে নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।”
লন্ডনে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দেশবাসীসহ দলের সর্ব নেতাকর্মীকে প্রার্থনা করার আহ্বান জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
আরও পড়ুন-