গণঅধিকার পরিষদকে যুগপৎ আন্দোলনে পাবে বিএনপি

বিএনপির সঙ্গে অনেক বিষয়ে একমত হওয়ার কথা এবং খুব ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 August 2022, 11:55 AM
Updated : 3 August 2022, 11:55 AM

সরকার পতনে যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্যে ঐক্যমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি এবং গণঅধিকার পরিষদ।

বুধবার সকালে দেড় ঘন্টার আলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া একথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আজকে গণঅধিকার পরিষদের সাথে আলোচনায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছি,খুশি হয়েছি যে, তারা আমাদের সঙ্গে সবগুলো বিষয়ে একইমত ধারণ করেন।

“বিশেষ করে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, সেই ব্যাপারে একমত। আমরা এ বিষয়েও একমত হয়েছি যে, আর এই সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া যায় না।”

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন বর্তমান সরকার সচেতনভাবে দেশের গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, সাম্য ও সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি ন্যায় বিচারের অধিকার ধবংস করে দিয়েছে।

“এই কারণে এই সরকারকে সরানোর জন্য জনগনকে সঙ্গে নিয়ে একটা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। আমরা একমত হয়েছি এই আন্দোলন আমরা যুগপৎ করব।”

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রভৃতি বিষয়ে গণঅধিকারের সঙ্গে ঐক্যমত্য হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

এসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি জনগণের পার্লামেন্ট ও একটি সরকার গঠন করা, যে সরকার সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে।”

যেসব বিষয়ের পরিবর্তন এবং সংস্কার হওয়া প্রয়োজন সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মেরামতের জন্য সবাইকে নিয়ে আমরা একটি জাতীয় সরকার গঠন করব। এ বিষয়টি আলোচনার মধ্যে আছে।”

বিএনপির সঙ্গে অনেক বিষয়ে একমত হওয়ার কথা এবং খুব ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া।

“এখানকার দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর আমরা বুঝেছি যে, আমরা একই পথে, একই চিন্তায় আমরা আছি। ওয়ে অন দ্য সেম পেইজ যেটা ইংরেজিতে বলে।

“আমাদের খুব বেশি ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই– এটা একটা খুশির খবর সব বিরোধী দলের জন্য এবং যারা বাংলাদেশে একটা পরিবর্তনের দিকে, পরিবর্তন চায় তাদের জন্য একটা সুখবর।”

এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আমরা সেটা মনে করি না।”

এ বিষয়ে একটা জাতীয় ঐক্য তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সে লক্ষ্যে অনেক দলের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে এবং আরও হবে বলে জানান গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা।

“আমাদের দুই দলের অবস্থান খুব কাছাকাছি এবং আমরা একসঙ্গে কাজ করব এই স্বৈরাচার, দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। যারা দেশে গণতন্ত্র চায় তারা সবাই একই ব্যানারে একসঙ্গে কাজ করব।”

বিএনপির সঙ্গে আলোচনা নিয়ে গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নূর বলেন, “চলমান সংকটকে যেভাবে আমরা দেখি তাতে বিএনপির সাথে আমাদের খুব একটা পার্থক্য নাই যে সংকট থেকে উত্তরণে আমাদের করণীয় নিয়ে।

“আজকের আলোচনায় আমাদের ১০টা বিষয় ছিল সেই ১০টা বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করেছি।”

সরকার হটাতে যুগপৎ কিংবা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের লক্ষ্যে বিএনপির দাবির সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদ একমত জানিয়ে দুই দলের মধ্যে আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি।

অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা,সংসদ বিলুপ্ত করা, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা। এই অন্তবর্তীকালীন সরকার একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করবে এবং ইভিএম বাতিল করে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করবে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৩৬ লক্ষ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে দাবি করে নূর বলেন, “আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অনেক ধর্মীয় নেতা বরেণ্য ব্যক্তিদেরকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করে রাখা হয়েছে।

“সেই ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিদের মুক্তি এবং ধর্মীয় নেতাদেন নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।”

গত বছর ২৬ অক্টোবর রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে সদস্য সচিব করে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ‘গণঅধিকার পরিষদ’।

পুরানা পল্টনের প্রতিম-জামান টাওয়ারে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির এই সংলাপ হয়। সকাল ১১টায় বিএনপি মহাসচিব ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সেখানে যান।

প্রতিনিধি দলের বাকি সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মিডিয়া সেলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।

সংলাপে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বাকি সদস্যরা হলেন- সদস্য সচিব নুরুল হক নূর, যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া মশিউজ্জামান, হাবিবুর রহমান, রাশেদ খান, ফারুক হাসান ও জিসান মহসিন।

সরকার বিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম গড়তে তুলতে গত ২৪ মে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে বিএনপি। এ পর্যন্ত ২২টি দলের সঙ্গে তাদের সংলাপ হয়েছে।

দলগুলো হচ্ছে- আসম আবদুর রবের জেএসডি, মোস্তফা মোহসিন মন্টুর গণফোরাম, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, সাইফুল হকের বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন।

২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে বিএনপি যাদের সঙ্গে এ পর্যন্ত সংলাপ করেছে সেগুলো হল- জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী ঐক্যজোট, কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাতীয় দল, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, সাম্যবাদী দল, ডেমোক্রেটিক দল (ডিএল), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), ইসলামিক পার্টি, পিপলস লীগ, ন্যাপ-ভাসানী ও বাংলাদেশ ন্যাপ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক