Published : 08 Jan 2026, 02:13 AM
জুলাই আন্দোলনে নারীরা সামনের সারিতে থাকলেও বদলে যাওয়া বাংলাদেশের আইনসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ার যে আকাঙ্খা, তা কতটা পূরণ হতে যাচ্ছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে?
দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে রাষ্ট্র সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের যে উদ্যোগ, সেখানে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেই বিদ্যমান ৩০০ সংসদীয় আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের কথা বলা হয়েছে, তা মেনেছে দলগুলো?

এ নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে শতাধিক নারী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, এরমধ্যে বাছাইয়ে টিকে রয়েছেন ৬৫ জনের মতো। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কজন থাকবেন তা চূড়ান্ত হবে ২০ জানুয়ারি।
প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করা দলগুলোর মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি এগিয়ে থাকলেও ৫ শতাংশের হিসেবে পিছিয়ে আছে।
বিএনপির একই আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নিয়ে তিন শতাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও দলটির নারী প্রার্থী ছিলেন ১০ জন।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নতুন নিবন্ধিত দল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) দলের ৯ জন; একমাত্র এই দলটিই তাদের মোট প্রার্থীর এক তৃতীয়াংশ নারী মনোনয়ন দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ৫১টি রাজনৈতিক দল ভোটে থাকলেও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি অন্তত ৩০টি দল, এসব দলের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনও রয়েছে।
অথচ ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ বা ১০০ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ বর্ধিত হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদে।
দলগুলো প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা দুঃখজনক। দলগুলো একমত হয় এবং অঙ্গীকার করে যে আগামী নির্বাচনে ৫ শতাংশ দলীয় নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। এটা না করা তো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করবে না।
“আমি কিছুটা হতাশ হয়েছি, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের এ অঙ্গীকারটুকু রক্ষা করেনি,” বলেন এ নির্বাচন বিশেষজ্ঞ।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের অন্তর্বর্তী সরকার দেশের হাল ধরে।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয়; এরপর প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা, সংলাপ ও নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে কিছুক্ষেত্রে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্টসহ) মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে সহমতে আসে রাজনৈতিক দলগুলো।
সেখানে আগামী জাতীয় সংসদের ৫ শতাংশ আসনে সরাসরি নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হলেও সংলাপ চলাকালেই ইসলামপন্থি দলগুলোর ‘অনীহা’ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
সংসদের ৩০০ আসনের সরাসরি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে এক তৃতীয়াংশ বা ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছিল ঐকমত্য কমিশন। প্রায় একই দাবি ছিল নারী অধিকারকর্মীদেরও।

এ নিয়ে নারী অধিকার কর্মীরা রাস্তায় নেমেছেন, সভা-সমাবেশ করেছেন।
বিএনপি সহ কয়েকটি দল নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও অধিকাংশ দলের প্রার্থী তালিকায় নারী না রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম।
তিনি বলেন, “নারীর নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলের অগ্রগতি খুবই দুঃখজনক। যে অগ্রগতি হয়েছে সেটাও গ্রহণযোগ্য না, ‘নমিনেশনের প্যাটার্ন’ দেখে মনে হচ্ছে নারীকে রাজনীতিতে যুক্ত করতে রাজনৈতিক দলের এটাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে বলে কোন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না।”
গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে, তখন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার তিনটিসহ মোট ১২টি আসনে ১০ জন নারী বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়।
তখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সরাসরি ভোটের জন্য দলীয়ভাবে ৫ শতাংশ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ৩টি আসনে মনোনয়নপত্র দেন, মৃত্যুর পর তা বাছাই কার্যক্রমের বাইরে ছিল।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিএনপি নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে। সেই লক্ষ্যে নির্বাচনেও সরাসরি ভোটে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই প্রক্রিয়া আরো বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
এবার বিএনপির পর সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২৭৬ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ জন, জাতীয় পার্টি ২২৪ জন, গণঅধিকার পরিষদ ১০৪ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪ জন।
তবে জোট সঙ্গীদের ছাড় দিয়ে চূড়ান্ত যে প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াবে, সেখানে দলগুলোর নিজেদের প্রার্থী কমে যেতে পারে।
দলীয় ৬৮ নারী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রেখে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
মনোনয়নপত্র রোববার বাছাই শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। পরদিন শুরু হয়েছে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আপিল আবেদন। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১৮ জানুয়ারি।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে ১ হাজার ৮৪২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা; আর বাতিল হয়েছে ৭২৩ জনের।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরদিন থেকে ভোটের প্রচার শুরু হবে।

এবারের নির্বাচনে ২০ দল থেকে ৬৮ জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন; পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৩৭ জন নারী। তাদের মধ্যে টিকে আছেন ৫ জন।
মনোনয়ন দেওয়া অন্য দলগুলোর মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২ জন, জাতীয় পার্টির ৫ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৫ জন, ইনসানিয়াত বিপ্লব ৬ জন, জেএসডি ৬ জন, এবি পার্টি ৩ জন, লেবার পার্টি ১ জন, গণসংহতি আন্দোলন ৪ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট ১ জন, আমজনতার দল ১ জন, গণঅধিকার পরিষদ ৩ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ২ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি ১ জন, গণফোরাম ২ জন, রিপাবলিকান পার্টি ১ জন, সুপ্রিম পার্টি ১ জন ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১ জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়।
নারী প্রার্থী মনোনয়নে দলগুলোর অনীহায় ‘খুবই’ হতাশ নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আক্ষরিক অর্থেই আমি হতাশ। আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, প্রায় অর্ধেক ভোটার নারী; সেখানে আড়াই হাজার মনোনয়নের মধ্যে শতাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পেল নারী। বেশি ভাগ দলই নারী প্রার্থীই মনোনয়ন দেয়নি। এটা খুবই হতাশাজনক।”
২০৩০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্বে বাধ্যবাধকতাও রয়েছে, সেটাও পূরণ হচ্ছে না।
আব্দুল আলীম বলেন, “এখন আমাদের ভাবতে হবে, দলগুলো যেন আগামী নির্বাচনে বেশি যেন মনোনয়ন দেয়; এটা শুরু করতে হবে আগামী স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে। নারী মনোনয়নে সক্ষমতা বাড়াতে এখনই উদ্যোগী হতে হবে দলকে।”
কোন দলের নারী প্রার্থী মনোনয়ন কোথায়?
রাঙ্গামাটিতে জুঁই চাকমা (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি); খাগড়াছড়ি মিথিলা রোয়াজা (জাতীয় পার্টি); চট্টগ্রাম-১১ দীপা মজুমদার (বাসদ-মার্কসবাদী); চট্টগ্রাম-১০ আসমা আকতার (বাসদ-মার্কসবাদী), সাবিনা খাতুন (ইনসানিয়াত বিপ্লব)।
লক্ষ্মীপুর-৪ তানিয়া রব (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি); নোয়াখালী-৫ মুন তাহার বেগম (বাসদ-মার্কসবাদী); নোয়াখালী-১ রেহানা বেগম (জেএসডি); চাঁদপুর-২ রাশিদা আক্তার, এবি পার্টি (বাতিল), নাসিমা নাজনীন সরকার, বাংলাদেশ লেবার পার্টি (বাতিল); কুমিল্লা-৬ কামরুন্নাহার সাথী-বাসদ (বাতিল); কুমিল্লা-৫ শিরিন আক্তার (জেএসডি); ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নাদিরা জাহান (গণসংহতি); ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আয়শা আক্তার (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ); ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ শরিফা আক্তার (আমজনতার দল);
মৌলভীবাজার-২ সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (বাসদ-মার্কসবাদী)।

সিলেট-২ তাহসিনা রুশদীর (বিএনপি); মাদারীপুর-১ নাদিরা আক্তার (বিএনপি); ফরিদপুর-৩ আরিফা আখতার বেবি (জেএসডি); ফরিদপুর-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম (বিএনপি); নরসিংদী-৫ মেহেরুন নেছা খাঁন হেনা (জাতীয় পার্টি), তাহমিনা আক্তার (ইনসানিয়াত বিপ্লব); নরসিংদী-১: শিরিন আক্তার (গণঅধিকার পরিষদ)।
গাজীপুর-২ সরকার তাসলিমা আফরোজ (ইনসানিয়াত বিপ্লব); গাজীপুর-১: তসলিমা আক্তার (বাসদ-মার্কসবাদী); ঢাকা-২০ নাবিলা তাসনিদ (এনসিপি); ঢাকা-১৯ দিলশানা পারুল (এনসিপি); ঢাকা-১৮ বিলকিস নাসিমা রহমান (গণসংহতি), সাবিনা জাবেদ, এনপিপি (বাতিল)।
ঢাকা-১৭ ফারাহ নাজ সাত্তার, এবি পার্টি (বাতিল); ঢাকা-১৪ সানজিদা ইসলাম (বিএনপি); ঢাকা-১৩ ফাতেমা আক্তার মুনিয়া (ইনসানিয়াত বিপ্লব); ঢাকা-১২ সালমা আক্তার (ইনসানিয়াত বিপ্লব), তসলিমা আক্তার (গণসংহতি); ঢাকা-১০ বহ্নি বেপারী (জাতীয় পার্টি), নাসরিন সুলতানা (এবি পার্টি); ঢাকা-৯ নাজমা আক্তার (গণফোরাম); ঢাকা-৮ মেঘনা আলম (গণঅধিকার পরিষদ); ঢাকা-৭ শাহানা সেলিম (জেএসডি), সীমা দত্ত (বাসদ-মার্কসবাদী); ঢাকা-৫: শাহিনুর আক্তার সুমি (বাসদ-মার্কসবাদী)।
মানিকগঞ্জ-৩ আফরোজা খানম (বিএনপি); মুন্সিগঞ্জ-১ রোকেয়া আক্তার (ইনসানিয়াত বিপ্লব); নেত্রকোণা-৪ জলি তালুকদার (সিপিবি), চম্পা রানী সরকার (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাতিল); শেরপুর-১ সানসিলা জেবরিন (বিএনপি); টাঙ্গাইল-৫ ফাতেমা আক্তার, (গণসংহতি, বাতিল); ঝালকাঠি-২ ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো (বিএনপি); বরিশাল-৫ মনিষা চক্রবর্তী (বাসদ)।
খুলনা-৫ শামীম আরা পারভিন ইয়াসমিন (জাতীয় পার্টি, বাতিল); মাগুরা-১ শম্পা বসু (বাসদ); যশোর-২ সাবিরা সুলতানা (বিএনপি); ঝিনাইদহ-৪ খনিয়া খানম (গণফোরাম); ঝিনাইদহ-১ মনিকা আলম (জাতীয় পার্টি); কুষ্টিয়া-৪: রুম্পা খাতুন (বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি); ফরিদপুর-৩ নায়াব ইউসুফ আহমেদ (বিএনপি); মেহেরপুর-১ রোমানা আহমেদ, বিএনপির দলীয় প্রত্যয়ন নেই (বাতিল); সিরাজগঞ্জ-৬ ইলোরা খাতুন (জেএসডি); সিরাজগঞ্জ-১ মল্লিকা খাতুন (গণঅধিকার পরিষদ)।
নাটোর-২ তাহমিনা ইসলাম তানিয়া (গণসংহতি); নাটোর-১ ফারজানা শারমীন (বিএনপি); বগুড়া-৬ দিলরুবা (বাসদ); জয়পুরহাট-১ তৌফিকা দেওয়ান (বাসদ-মার্কসবাদী); কুড়িগ্রাম-৪ শেফালী বেগম (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি); রংপুর-৪ প্রগতি বর্মণ তমা (বাসদ-মার্কসবাদী); দিনাজপুর-৩ কিবরিয়া হোসেন (বাসদ), লায়লা তুল রীমা (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ); ঠাকুরগাঁও-২ নুরুন নাহার বেগম (জাতীয় পার্টি)।

স্বতন্ত্র যারা বাদ পড়লেন
চট্টগ্রাম-৫ সাকিলা ফারজানা; চট্টগ্রাম-২ জিন্নাত আকতার; নোয়াখালী-৬ শামীমা আজিম; কুমিল্লা-৯ সামিরা আজিম; মৌলভীবাজার-৩ রেজিনা নাসের; শরীয়তপুর-২ ফারহানা কাদির রহমান; গোপালগঞ্জ-৩ রওশন আরা; ফরিদপুর-১ লায়লা আরজুমান বানু; নারায়ণগঞ্জ-৪ ফাতেমা মনির; গাজীপুর-২ তাপসী তন্ময় চৌধুরী; ঢাকা-১২ ফাহমিদা মজিদ; ঢাকা-১১ কহিনুর আক্তার বিথী; ঢাকা-৯ তাসনিম জারা (আপিল করেছেন); ঢাকা-৩ পারুল মোল্যা; কিশোরগঞ্জ-৪ কাজী রেহা কবির; ময়মনসিংহ-৯ হাসিনা খান চৌধুরী; জামালপুর-৫ হোছনেয়ারা বেগম; টাঙ্গাইল-৩ আইনুন নাহার; ভোলা-২ তাছলিমা বেগম; নড়াইল-২ ফরিদা ইয়াসমিন; নড়াইল-১ মাহফুজা বেগম; ঝিনাইদহ-৪ মুর্শিদা খাতুন; পাবনা-১ খায়রুন নাহার খানম; রাজশাহী-৩ হাবিবা বেগম; নওগাঁ-৪ আরফানা বেগম; বগুড়া-১ শাহজাদী আলম লিপি; জয়পুরহাট-১ সাবেকুন নাহার; রংপুর-৬ তাকিয়া জাহান চৌধুরী; রংপুর-৩ রিটা রহমান; ঠাকুরগাঁও-৩ আশা মনি; নাটোর-৩ ফাতেমা খানম।
স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী বৈধ যারা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ রুমিন ফারহানা; নেত্রকোণা-৪ তাহমিনা জামান; ময়মনসিংহ-৬ আখতার সুলতানা; জামালপুর-৪ মেহেরজান আরা তালুকদার; নাটোর-২ সাবিনা ইয়াসমিন।
সংরক্ষিত আসন যেভাবে যেভাবে ৫০ হল
সরাসরি ভোটের জন্য ৩০০ সংসদীয় আসনের বিপরীতে ১৯৭৩ সালে ১৫ আসন ছিল নারীদের জন্য সংরক্ষিত। পরে তা বাড়িয়ে দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ট ও সপ্তম সংসদে ৩০ আসন করা হয়। আইনের মেয়াদ না থাকায় চতুর্থ সংসদে ছিল না সংরক্ষিত নারী আসন। মেয়াদ না থাকায় অষ্টম সংসদের শুরুতেও ছিল না নারীদের জন্য সংরক্ষিত এ আসন।
তবে ২০০৪ সালে সংবিধানের চতুর্থদশ সংশোধনী এনে আসন বাড়িয়ে ৪৫ করা হয়। নবম সংসদেও ছিল ৪৫ আসন। ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনীতে আরও ৫ আসন বাড়িয়ে সংরক্ষিত আসন করা হয় ৫০টিতে।

ভোটেও বেড়েছে নারীর অংশগ্রহণ
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে ৩৯ জন নারী প্রার্থী অংশ নেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন জয়ী হয়ে সংসদে যান।
ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে ৩৬ নারীর প্রার্থীর মধ্যে আটজন, সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৩৮ নারী প্রার্থীর ছয়জন, অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৫৯ নারীর মধ্যে ১৯ জন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯ নারী প্রার্থীর ১৮ জন নির্বাচিত হন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৯ আসনে জনপ্রতিনিধি হতে লড়েন ৬৮ নারী, তাদের মধ্যে রেকর্ড ২২ জন সরাসরি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান।
সবশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৯৪ জন নারী প্রার্থী। এর মধ্যে ২৬ জন লড়াই করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এ নির্বাচনে ১৪টি রাজনৈতিক দল মনোনয়ন দিয়েছিল ৬৮ নারীকে।
সে নির্বাচনে জয় পাওয়া ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জন আওয়ামী লীগের, বাকিরা স্বতন্ত্র।