গণতন্ত্র এখন তাদের হয়ে গেছে: ফখরুল

“সত্যিকার অর্থে জনগণের গণতন্ত্র, একটা মুক্ত বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Jan 2023, 06:58 PM
Updated : 22 Jan 2023, 06:58 PM

দেশে বিরোধী দলগুলোর ‘সত্যিকারের গণতন্ত্র’ ফেরানোর আন্দোলন দমাতে সরকার ‘গুম-হত্যার মতো নিপীড়ন’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “কথায় কথায় বলে, আজকেও বলেছে। আমার কথা শুনে একটু আকর্ষণ করেছে… কথাটা যে, আমাদের গণতন্ত্র আমাদের মতো করে করব।

“গণতন্ত্র এখন তাদের হয়ে গেছে। কোন গণতন্ত্র? সেই মুজিববাদের গণতন্ত্র, বাকশালের গণতন্ত্র, একদলীয় শাসন ব্যবস্থার গণতন্ত্র। না, এদেশের মানুষ তা হতে দেবে না।”

শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে একথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “সত্যিকার অর্থে জনগণের গণতন্ত্র, একটা মুক্ত বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে, আমাদের সংগ্রাম শুরু হয়েছে।

“আমরা বিশ্বাস করি, আমরা অবশ্যই এই সংগ্রামে জয়ী হব এবং বাংলাদেশকে একটা কল্যাণমূলক সুখী সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারব, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ আর বিএনপির আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ একে ছড়িয়ে দিতে হবে আমাদের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে যে কীভাবে একজন মানুষ মানুষকে ভালোবাসলে, দেশকে ভালোবাসলে, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে উঠলে সে আত্মত্যাগ করতে এতটুকু কোনো দ্বিধাবোধ করে না। কোনো দুর্ঘটনার জন্য নয়, একেবারে পুরোপুরি সচেতনভাবে লড়াই করে সংগ্রাম করে মিছিলের মধ্যেই মানুষটি প্রাণ দিয়েছিলেন।

“আমি বলব, আমাদের আশার কথা যে, এবারও আমাদের ১৫ জন কর্মী তারা প্রাণ দিয়েছেন রাস্তায়, তারা প্রাণ দিয়েছেন মিছিলে পুলিশের গুলিতে। সেজন্য আমি অনেক বেশি আশাবাদী, আমি অনেক বেশি আত্ম প্রত্যয়ী যে, আমরা এবার যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রামে নেমেছি, অবশ্যই আমরা এই দেশকে এই ফ্যাসিবাদীদের হাত থেকে, এই ভয়াবহ দানবদের হাত থেকে মুক্ত করে সত্যিকার অর্থেই একটা কল্যাণমূলক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করতে সক্ষম হবো।”

ফখরুল বলেন, “আজকে আন্দোলনে শুধু আমরা নই, আমাদের সঙ্গে কিন্তু সমস্ত দলগুলো যারা দেশকে ভালোবাসে, যারা বর্তমানে বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তন করে একটা কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চান।

“আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনকে দমন করবার জন্য তারা (সরকার) যত রকমের নিপীড়নমূলক কাজ করছে, গুম করছে, হত্যা করছে, নির্যাতন করছে।এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক মুক্তি করার জন্য আমাদেরকে আরো বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে এদেরকে পরাজিত করতে হবে।”

আলোচনা সভায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গেও কথা বলেন এ বিএনপি নেতা।

“আমরা সবাই জানি, কীভাবে প্রত্যেকটা দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে বলেন রাশিয়া, ইউক্রেইন যুদ্ধের জন্য দাম বেড়েছে, অনেকে বলে কোভিডের জন্য দাম বেড়েছে। আর যে চুরিটা করেছ, যে ডাকাতিটা করেছ সেটার পার্থক্য হিসাব করো তাহলে বেরিয়ে যাবে। যে কথা মান্না (মাহমুদুর রহমান মান্না) বলেছেন, ১০ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট ৩০ হাজার কোটি টাকায় শেষ হচ্ছে। ওই চুরিটা বন্ধ করলে তো ওখানে কাভার হয়ে যেত।

“গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। গ্যাসে যে চুরিটা করেছ সেটা বন্ধ করলে তো এই দামটা কমিয়ে নিয়ে আসা যেত। ওয়াসার চেয়ারম্যান তার কী হয়েছে, এখন পর্যন্ত আমরা জানি না। পত্রিকায় বলছে যে, তার আমেরিকারতে কতগুলো বাড়ি আছে, সম্পদ কত বানিয়েছে, বেতন কত নেয় এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে।”

অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আমরা এমন একটা শাসকের সামনে আছি, যার সামনে কোনো মূল্যবোধ নাই, এমন একটা শাসকের সামনে আছি যারা দানবের মতো, যারা পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করে ক্ষমতায় থাকবার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।”

শহীদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের আত্মদানের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে শহীদ আসাদ পরিষদের উদ্যোগে এ আলোচনাসভা হয়।

১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা আসাদ। তার এই আত্মত্যাগ আইয়ুববিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করে, পদত্যাগে বাধ্য হন সামরিক শাসক আইয়ুব খান।

সভায় শহীদ আসাদের ছোট ভাই নুরুজ্জামান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, হাবিবুর রহমান রিজু, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন বক্তব্য দেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক