এক দফা ছেড়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গড়ে ভোটের মিছিলে সৈয়দ ইবরাহিম

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, আন্দোলন ছেড়ে ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাকে ‘মীরজাফর’ বলা হতে পারে, তা তিনি জানেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2023, 08:42 AM
Updated : 22 Nov 2023, 08:42 AM

‘এক দফা’ দাবিতে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি সিদ্ধান্ত পাল্টে ভোটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আর সেই লক্ষ্যে ১২ দলীয় জোটের সঙ্গ ছেড়ে তিনটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, আন্দোলন ছেড়ে ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাকে ‘মীরজাফর’ বলা হতে পারে, তা তিনি জানেন। ঝুঁকি মেনেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ তারা চান, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ‘গ্রহণযোগ্য’ হোক।

বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন জোট গঠন করে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইবরাহিম। তিনিই এ নতুন জোটের সভাপতি।

কল্যাণ পার্টি ছাড়া যুক্তফ্রন্টের বাকি দুই দল হল বাংলাদেশ মুসলিম লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন)।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, “আমরা তিনটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক মিলে আজকে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছি। আমাদের বক্তব্য… সকলের জন্য সমালোচনার দুয়ার উন্মুক্ত থাকল… জনগণের দয়া, আপনাদের সহযোগিতা, সর্বোপরি আল্লাহর রহমত থাকলে সাফল্য আসবে।”

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, “সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সম্ভাবনা আছে, গ্যারান্টি নাই। সম্ভাবনা আছে যে ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন কয়েক দিন বিলম্ব হতেও পারে, নাও হতে পারে। যদি মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন বিলম্ব হয়, তাহলে বাকি তারিখগুলো আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে। আমরা যুক্ত ফ্রন্ট এখানে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেব।

“আমরা তার জন্য বড় রিস্ক নিচ্ছি। অতীতেও আন্দোলনের অংশ হিসেবে বড় বড় দল, ছোট ছোট দল অংশ নিয়েছে। আমরাও অনেক বড় দল নই, ছোট দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেব আশঙ্কা নিয়ে। আশঙ্কার উত্তর হচ্ছে সরকারের ওয়াদা… এবার ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনকে জাতির সামনে, বিশ্বের সামনে গ্রহণযোগ্য করতে চাই।”

সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচিতে রয়েছে। কল্যাণ পার্টিসহ সমমনা দল ও জোটগুলোও একই কর্মসূচি পালন করে আসছিল।

ইবরাহিম বলেন, “আমাদের এই সিদ্ধান্ত কারো পছন্দ হবে, কারো হবে না। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই থাকবে। বাংলাদেশে সাধারণত সমালোচনা করার শব্দগুলো হয় এরকম– বেচা হয়ে গেছে, দালাল হয়ে গেছে, বিশ্বাসঘাতক হয়ে গেছে, মীরজাফর হয়ে গেছে…।”

“আমার আবেদন থাকবে, পরিস্থিতি-পরিবেশকে পূর্ণাঙ্গভাবে মূল্যায়ন কর মন্তব্য করবেন। কিন্তু প্রত্যেকের মন্তব্যের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ইচ্ছা থাকবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কিছু সাপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংকটময় এবং এই সংকটের মধ্য দিয়ে আমাদের উত্তরণ ইনশাল্লাহ ঘটবে, ঘটলে যে প্রত্যয়গুলো আমরা ব্যক্ত করেছি, এগুলো অর্জনে আমাদের সহায়তা হবে।”

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির (ওয়ান-ইলেভেনের) পর জরুরি অবস্থার মধ্যে দেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক বিশেষ মুহূর্তে ‘পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি’ স্লোগান সামনে রেখে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির আবির্ভাব হয়।

যুক্তফ্রন্ট গঠনের আগে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং সর্বশেষ জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে ১২ দলীয় জোট ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ১০০ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে যুক্তফ্রন্টের। জোটের প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নেবেন।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, মহাসচিব তফাজ্জল হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (মতিন) মহাসচিব জাফর আহমেদ জয়, নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাসচিব ফারক-উল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হাসান মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।