দক্ষ জনশক্তি গড়তে আওয়ামী লীগও কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

“শুধুমাত্র আমরা বিনিয়োগ আনব তা না, আমরা বিনিয়োগ করতেও পারব; সেই দক্ষতাও আমাদের আনতে হবে,” বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 July 2022, 11:50 AM
Updated : 31 July 2022, 11:50 AM

তরুণরা কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের যাতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, সেজন্য সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, “আমাদের যে প্রতিষ্ঠান আছে সিআরআই, তার মাধ্যমে ইয়াং বাংলা… তারা (যুবকরা) যেন স্বপ্রণোদিত হয়… সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে তাদেরকে আমরা উৎসাহিত করার পদক্ষেপ নিয়েছি।”

রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’র গভর্নিং বোর্ডের প্রথম সভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, শুধু বিএ, এমএ পাস করে লাভ নেই। আমি চাই কৃষি কলেজ, কৃষি স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল ও কলেজ, যাতে সত্যিকারের মানুষ পয়দা হয়। বুনিয়াদি শিক্ষা নিলে কাজ করে খেয়ে বাঁচতে পারবে।

“এটা হলো বাস্তবতা। আমরা দেখেছি শুধু কোনোমতে ঘষে-মেজে বিএ, এমএ পাস করেই চাকরির পেছনে ছুটে বেড়ায়।”

দেশের প্রতিটি যুবক সুদক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে উঠুক, এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র নিয়মমাফিক একটা পড়াশোনা করা না, সেই সাথে সাথে যেহেতু বিশ্ব আজ প্রযুক্তির যুগে যাচ্ছে; প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এই সমাজে আমাদের দেশে যারা, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যারা আসবে- তারাও যেন দক্ষতা নিয়েই সমাজে তাদের অবস্থান ঠিক করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

“আমরা চাই শুধু আমাদের নিজের দেশে না, দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আমাদের দেশের যারা কর্মক্ষম যুবক; তারা যেন যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়েই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে। যার যে মেধা আছে, দক্ষতা আছে সেটাও যেন বিকশিত হতে পারে।”

সরকারপ্রধান বলেন, “‘আমার কাজ আমি করে খাব, দরকার হলে আমি চাকরির পেছনে ছুটব না; নতুন চাকরি দেব।’- এভাবেই তাদেরকে কিন্তু আমরা উৎসাহিত করে যাচ্ছি। আমাদের যুব সমাজকে সেটাই অনুধাবন করাতে হবে।

“সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের এই পদক্ষেপ। আর সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাটা নিলে পরে এটা আরও বেশি কার্যকর হবে।”

দক্ষ জনশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “যত বেশি দক্ষ জনশক্তি আমরা গড়তে পারব; আমাদের দেশের কাজেও যেমন লাগবে, আবার বিদেশেও লাগবে। আমরা চাই আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক।”

শেখ হাসিনা বলেন, “এখন অনেক দেশ কিন্তু বয়োবৃদ্ধের দেশে পরিণত হয়ে গেছে; সেখানে আমাদের একটা বড় বিষয় হলো আমাদের বিশাল আকারের যুবশ্রেণি আছে।

“কাজেই তাদেরকে আমরা চাই যে শ্রমবাজারের বিদ্যমান যেই সম্ভাবনা ভবিষ্যতে দেখা যাচ্ছে, তার সাথে সাথে উপযুক্তভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যে আভাসটা পাচ্ছি, আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না, বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে না; সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের জনশক্তিকে আমরা গড়ে তুলতে চাই।

“শুধু বৈদেশিক বিনিয়োগ না, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ যাতে হয়, সেই ক্ষেত্রটাও আওয়ামী লীগ সরকার তৈরি করতে চায়। কারণ দেশের ভেতরে মানুষকে আমরা উৎসাহিত করতে চাই। কারণ আমরা যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করি, শুধুমাত্র রেমিটেন্সের উপর নির্ভর করলে আমাদের হবে না।”

দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন বহুমুখীকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, “এখানে আরও কী কী পণ্য আমরা রপ্তানি করতে পারি, তার জন্য নতুন বাজার আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। সেই পণ্য যেন আমরা বাংলাদেশে উৎপাদন করতে পারি অথবা আমরাও বিদেশে যেন বিনিয়োগ করতে পারি; আমাদের সেই চিন্তাও থাকতে হবে।

“শুধুমাত্র আমরা বিনিয়োগ আনব তা না, আমরা বিনিয়োগ করতেও পারব; সেই দক্ষতাও আমাদের আনতে হবে। সবকিছুর মাঝে সব থেকে বেশি প্রয়োজন আমার দক্ষ জনশক্তি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দক্ষতা সনদায়নের ক্ষেত্রে একক সনদায়নের ব্যবস্থা প্রবর্তন কার্যকর করতে হবে, যা বিদেশে বাংলাদেশের দক্ষতার ব্র্যান্ডিং হিসেবে কাজ করবে। বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে।”

অনেক সময় যারা বিদেশ যায়, তারা দক্ষ কি না সেটা জানা যায় না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সেইজন্য আমাদের দক্ষ জনবল এটা দেশে হোক আর বিশ্ববাজারে হোক, আমাদের সেভাবেই তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। এবং যেসব পেশায় দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে বা সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে দেশে-বিদেশে দক্ষতা মেলার আয়োজনও করা যেতে পারে।”

তাতে বাংলাদেশের কর্মীদের দক্ষতা থাকার বিষয়টি সবাই জানবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখানে কিন্তু আমাদের তৃতীয় লিঙ্গ যাদেরকে আমরা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছি, তাদেরকেও আমরা প্রশিক্ষণ দিতে চাই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।

“কারণ তারা সমাজের বা পরিবারের কাছে বোঝা হবে বরং তারা পরিবারের একটা অ্যাসেট হতে পারে। তারা পরিবারের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।“

এই সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এমপি, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক