জাতীয় পতাকা হাতে ৩২ নম্বরে নারী, সরিয়ে দিল পুলিশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দিনসহ আরো কয়েকজনও সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান।
ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গুঁড়িয়ে দেওয়া বাড়ি সামনে এসে জাতীয় পতাকা হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এক নারী।
পরে তিনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দেন, যার একটি ভিডিও ছড়িয়েছে।
নির্বাচনের তিন দিন পর রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আজিমপুর থেকে ওই নারী ৩২ নম্বরে আসেন। তার সঙ্গে একটি শিশু ছিল।
তবে সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন সাংবাদিক বলেছেন, ওই নারী ফুল দেওয়ার পর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দিনসহ আরো কয়েকজনও সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান। পুলিশ তাদের সেখান থেকে দ্রুত সরিয়ে দেয়।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তাদের এক সময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলে বসতে যাচ্ছে।
নির্বাচনের দুই দিন পর গুলিস্তানে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানায় সাত-আটজনের একটি দল।
পরদিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গেলেন ওই নারীসহ কয়েকজন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জড়িত এই বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনার অনলাইন ভাষণের পাল্টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে গেল বছর ৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি এক্সক্যাভেটর ও ক্রেন দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভিডিওতে মধ্য বয়সি বোরকা ও মুখে মাস্ক পরা ওই নারী হ্যান্ড মাইকে বলতে শোনা যায়, “যেভাবে অপমানিত করা হয়েছে, এই ৩২ নম্বর ভাঙা হয়েছে, ওনাকে (বঙ্গবন্ধু) যেভাবে অসম্মানিত করা হয়েছে, কটুক্তি করা হয়েছে…।”
এ সময় পুলিশ তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেয় এবং তাকে সেখান থেকে সরে যেতে বলে। পুলিশের একজন সদস্য বলছিলেন, এখানে দাঁড়ানো যাবে না। ওই নারী পাল্টা প্রশ্ন করেন, কেন সেখানে দাঁড়ানো যাবে না?
তিনি পতাকা তুলে ধরে বলছিলেন, “বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা, পতাকা এনে দিসেন।
“এই আপনি (পুলিশের) এ পোশাকে দাঁড়ায়া আছেন…।”
তার পরিচয় ও তিনি কোথা থেকে আসছেন, তা জানতে চান কয়েকজন সাংবাদিক।
জবাবে তিনি বলেন, তার নাম তাহমিনা আক্তার। তিনি আজিমপুর থেকে এসেছেন।
ধানমন্ডির বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার জিসানুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা সেখানে এলে ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেয়।”
