Published : 03 May 2026, 10:14 PM
বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন।
তার দাবি, বিচারককে ‘দশবার ভাবতে হচ্ছে’, তিনি আসলে জামিন দেবেন কিনা।
রোববার ঢাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত জাতীয় কনভেশনে সারা হোসেন এই অভিযোগ তোলেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী, এমপি ও দলটির নেতা, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের অনেকেই জামিন পাচ্ছেন না, বিচারও হচ্ছে না।

এমন প্রেক্ষাপটে সারা হোসেন, “মানবাধিকার কেবল আমার দল ও মতাদর্শের মানুষের জন্য নয় বরং এটি সবার জন্য হতে হবে। ভিন্ন মতাদর্শের যারা রয়েছেন, তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রযোজ্য হবে।
বিগত সরকারের সময় গুমের ঘটনার কথা তুল ধরে তিনি বলেন, যাদের গুম করা হয়নি, তারা অনেকদিন পর ফিরে এসেছেন। যারা ফিরে এসেছেন তাদের অনেক দিন পর আদালতে সোপর্দ করা হতো, তারা জামিন পেত।
এখনকার পরিস্থিতি তুলে ধরে সারা হোসেন বলেন, “জামিনই তো শুরু হয় না। জামিনই তো পাওয়া যায় না। আপনারা কি আমার সঙ্গে অ্যাগ্রি করবেন, এরকম তো দেখছি, জামিন পাওয়া যায় না। কি মনে করেন। যারা ভিন্নমতের লোক তাদের জামিন তো হয় না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একজন ডাক্তারকে গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো, জামিন না পাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে বলা হয়, চার্শিট তো হয়ে যাবে, কদিন পরই তো তদন্ত শেষ হয়ে যাবে, তখন তো প্রমাণ পাওয়া যাবে। সে জন্য ওনাকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।”
এখনকার পরিস্থিতি তুলে ধরে সারা হোসেন বলেন, “এখন কি অবস্থা, একজন বিচারককে দশবার চিন্তা করতে হয়, তিনি আসলে জামিন দেওয়া যায় কিনা।”
তিনি বলেন, “আমরাও চাই, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার সঠিকভাবে হোক। কিন্তু তদন্ত শেষ হচ্ছে না এবং অনেককেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া ছাড়া আটক রাখা হচ্ছে।”
এনসিপির এ কনভেশনের তৃতীয় পর্বে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার: বর্তমান ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা হয়, তাতে সভাপতিত্ব করেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, “৫ অগাস্টের পর যখন সংবাদমাধ্যম দখল হওয়া শুরু করে, সময়ের পরিক্রমায় সেগুলো কেবল হাতবদল হয়েছে। গণমাধ্যম নিয়ে কাজ করতে গেলে যে কোনো সরকার চিন্তায় পড়ে যায়। এর পরিণতি কী হতে পারে, এটা নিয়ে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে।
“সাংবাদিকরা, মালিকরা ক্ষেপে যেতে পারে এবং সরকারের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে। এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও হয়েছে।”
সাংবাদিক এবং আওয়ামী লীগের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকার বিষয়ে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, যথাযথ আইনি কাঠামো না থাকায় যারা ‘ফ্যাসিবাদী’ হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে, তাদের এখন ‘হিরো ট্রিটমেন্ট’ দেওয়া হচ্ছে। অথচ তাদের আরও ভয়াবহ শাস্তি হওয়া দরকার ছিল।
সাংবাদিক আশরাফ কায়সার বলেন, “বর্তমান সরকার অনেক বেশি অপতথ্য নিয়ে আলোচনা করছে। এর আগে একজন মন্ত্রী আরাফাত এরকম অপতথ্যের কথা বলতেন। সরকার যখন অপতথ্য, অপতথ্য বলে, তখন চিন্তায় পড়তে হয়। কারণ তখন অনেক গঠনমূলক সত্য তথ্যকেও অপতথ্য মনে হতে পারে।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “যারা গুমের শিকার হয়েছেন, সেখান থেকে যারা বেঁচে ফিরেছেন, তাদের সবার এবং তাদের পরিবারের আলাদা দুঃখের কাহিনী আছে। কিন্তু সেগুলো সেভাবে প্রচার হয়নি। ফলে আমি যখন আয়নাঘরের কথা বলি, তখন ফেইসবুকে আমাকে বুলিংয়ের শিকার হতে হয়।
“তাই বিগত সরকারের সময়ের হাজার হাজার গুমের ঘটনার বিচার করতে হবে। যদি বিচার না হয়, তাহলে বর্তমানরা একইপথে পা বাড়ানোর সাহস পাবে।”
রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ এর মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক এনসিপি জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করে।
এ আয়োজনের তৃতীয় পর্বে ছিল ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার: বর্তমান ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা।
আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।
এ পর্বের বক্তারা মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক জায়মা ইসলাম, গুম (প্রতিরোধ) কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম ও মানবাধিকার কর্মী মিনহাজ আমান।