Published : 18 Jan 2026, 09:27 PM
একটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীকে জেতাতে বাইরের ভোটারদের রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের মত ‘কূটকৌশল’ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
এমন প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে স্থানান্তরিত ভোটারের সব তথ্য ‘শিগগির’ সরবরাহ করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছে দলটি।
একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলটির তরফে ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগও করেছে দলটি।
রোববার বিকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির তরফে এমনসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব বিষয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। তবে ওই দলের নাম বলেননি তিনি।
বৈঠকে সিইসির কাছে পোস্টাল ব্যালটের বিষয়েও ‘আপত্তি’ জানিয়ে তা বদলের দাবি জানানোর কথা বলেছেন তিনি।
বৈঠকের পর বিফ্রিংয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে আমাদের অভিযোগ তাদের কাছে দিয়ে এসেছি। আমরা মনে করি এই ব্যালট পেপারটি সঠিক নয়, এখানে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। কোনো একটি দলকে বিশেষভাবে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।”
এছাড়া নির্বাচনে দায়িত্বরতদের জন্য বরাদ্দ করা পোস্টাল ব্যালট প্রতীক বরাদ্দের পরে বিতরণের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সঠিকভাবে একটা পোস্টাল ব্যালট (যাতে তৈরি করা হয়) আমরা যেভাবে ভোট দেই, সেইভাবে যেন পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়।”
‘একটি রাজনৈতিক দলের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিএনপির তরফে ইসিকে বলা হয়েছে, ওই দলের নির্বাচনি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডির কপি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে।
সাংবাদিকদের সামনে সেই দলের নাম প্রকাশ না করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ ধরনের কাজ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ এবং ফৌজদারি অপরাধ।
“এ বিষয়ে আমরা ইতিপূর্বে আচরণবিধি ভঙ্গের আপত্তি জানিয়েছি। এই বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা বলে আমরা মনে করেছি এবং সে আহবান জানিয়েছি।”
নির্বাচন ‘সুষ্ঠ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য’ করতে বিএনপি ‘সবার জন্য সমান সুযোগে’ বিশ্বাসী মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এইজন্য আমাদের দলের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফরও বাতিল করেছেন। অথচ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রধানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভঙ্গ করে দলীয় প্রচারণা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।”
আবারও নাম না নিয়ে ‘একটি রাজনৈতিক দলের’ দিকে অভিযোগ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল তাদের মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার অনৈতিক কূটকৌশল অবলম্বন করেছে। ব্যাপকহারে দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা হতে ভোটার এলাকা পরিবর্তনপূর্বক ঢাকা মহানগর এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
“মোট কত সংখ্যক ভোটার কোন কোন এলাকা থেকে ঢাকা মহানগরীর সংসদীয় নির্বাচনি এলাকার কোথায় কোন কোন তারিখে এবং কী কারণে স্থানান্তর করা হয়েছে, ঘোষিত কারণসমূহ স্থানান্তরিত ভোটারদের বিস্তারিত বিবরণ জরুরিভিত্তিতে সরবরাহ করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।”
এর বাইরে কোনো কোনো এলাকায় নির্বাচনি কর্মকর্তারাও ‘পক্ষপাতিত্ব’ করছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার, থানার ওসি, অন্যান্য কর্মকর্তাসহ একটি দলের পক্ষে কিছু কিছু ন্যাক্কারজনকভাবে কাজ করছে মর্মে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সেই বিষয়গুলো আমরা তাদের গোচরীভূত করেছি। তদন্তপূর্বক তাদেরকে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছি।
“সিনিয়র কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি যে, তারা কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে হয়ে কাজ করছেন। আমরা সেই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছি।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা মনে করছি এই কমিশন দ্বারা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, যদি সমস্যাগুলোকে সমাধান করা যায় এবং আমরা যে বিষয়গুলো তাদের সামনে এনেছি, এগুলো যদি সমাধান করতে পারেন।”
একইসঙ্গে এই ‘ছোটখাট ত্রুটি’ নির্বাচন কমিশন ‘ঠিক করে নিতে পারবেন’ বলে আশা তার।
বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জকরিয়া ও আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।