Published : 13 Sep 2025, 03:12 PM
ছয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন হয়েছে, আর ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই লেখা যখন লিখছি–তখনো ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। ফলাফল ঘোষণা নিয়ে নানান রকম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন ভোট বর্জন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পরে আরো চারটা প্যানেল ভোট বর্জন করেছে। আরেকটি লক্ষ্যণীয় দিক হলো, জাকসুতে পাঁচ জন শিক্ষকও ভোট বর্জন করেছেন।
একটা গণঅভ্যুথানের পর এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তো আলাদা একটা তাৎপর্য আছেই। ডাকসু, জাকসুর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনও এ মাসেই হবে। পরে হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। এ নির্বাচনগুলোর মধ্য দিয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের একটা পথও তৈরি হয়েছে।
ডাকসু নির্বাচন খুবই প্রাণবন্ত ছিল, অংশগ্রহণমূলক এবং নির্বাচনি প্রচারণা ও নির্বাচন শান্তিপূর্ণই হয়েছে বলা যায়। যদিও ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কিছু অভিযোগ এসেছে। তবে বাইরে থেকে আমরা যারা সাদা চোখে দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ছিল। আমাদের সময় যেমন ব্যানার ফ্যাস্টুন, মিছিল, শো-ডাউন দেখা যেত, এবারের ডাকসুতে তেমনটা দেখা যায়নি। জাকসুতে তো আরো নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তারা জমায়েত সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। ডাকসু ও জাকসু উভয় নির্বাচনেই টাকা খরচের ব্যাপারটিও অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ব্যানার, বিলবোর্ড অনুমোদন পায়নি।
আগে আমরা দেখতাম বড় বড় শো-ডাউন সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করত। এখন কিন্তু সেটাও নেই। বরং বড় বড় শো-ডাউন ভোটারদেরকে বিরক্ত করছে এবং তারা সেই প্রার্থী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে লোক জমায়েত করত ক্যাম্পাসের ভেতরে। এবার ক্যাম্পাসের ভেতরে সেটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকারি দলের পক্ষ হয়ে কাজ করার অভিযোগ ছিল। এবারও নির্বাচনে কিছু অভিযোগ রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণটাও চোখে পড়ার মতোই ছিল। এবারও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আস্থার অভাব তৈরি হয়েছে, তা একাডেমিকভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নির্বাচনে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে, তা মিটিয়ে ফেলা উচিত।
ডাকসুতে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর অভিযোগগুলো সামনে এনে কিছু প্রার্থী ভোট প্রত্যাখানের ঘোষণা দিয়েছে। তবে জাকসুতে তো নির্বাচন চলাকালীনই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে একটি প্যানেল। আর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আরো চারটি প্যানেল ভোট বর্জন করেছে। যখনই কোনো প্যানেল নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি অনাস্থা জানাবে, সেটি তদন্ত হওয়া উচিত। জাকসুতে আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে শিক্ষকদের মধ্যে যারা দায়িত্বে ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। এটা নির্বাচনকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। শিক্ষকদের যারা নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন, তারা যদি নির্বাচন বর্জন করেন, তবে সেটা নিয়ে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত।
নির্বাচনে কোনো রকম অনিয়ম হয়ে থাকলে, তা ঠেকানোর দায়িত্ব থাকা শিক্ষকদের, তারা তো সেই অনিয়ম ঠেকানোর চেষ্টা করবেন। তা না করে তারা পদত্যাগ করলেন। অথবা ঠেকাতে পারছেন না বলে তারা পদত্যাগ করেছেন। ফলে জাকসু নির্বাচনটা নিয়ে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেল। এজন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিষয়টা আরো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা উচিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অধিকাংশের জন্যই তো জাকসু নির্বাচন নতুন অভিজ্ঞতা। কারণ শিক্ষকদের অনেকেই যখন ছাত্র ছিলেন, তখনও তারা বেশির ভাগই নির্বাচন দেখেননি। ৩৩ বছর পর জাকসু হচ্ছে। ফলে এই নির্বাচন তাদের জন্য একটা নতুন অভিজ্ঞতা।
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে আরেকটি লক্ষ্যণীয় দিক হলো স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিপুল ছড়াছড়ি। এই বিষয়টা একটি নতুন বার্তাও দেয় যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়তো প্রচলিত রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এটাও ইতিবাচক দিক যে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় ছাড়াই সাহসী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসকে আরো বাড়িয়ে তুলছে।
ডাকসুতে আমরা দেখেছি স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীরা অনেক ভোট পেয়েছেন। আরেকটি আলোচনাও আছে, স্বতন্ত্র পরিচয়ে যারা জিতেছেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় লুকানো কিনা। সেটা নিয়েও হয়তো কথা আছে। ডাকসুর হল সংসদ নির্বাচনে শুধু ছাত্রদল তাদের নামেই প্যানেল দিয়েছে। আর কেউ দেয়নি। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও রাজনৈতিক পরিচয় আছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানেও রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি নবগঠিত সংগঠন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নেবেন। রাকসুতে নির্বাচনের আগেই শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রদের একটা মুখোমুখি অবস্থানও আমরা খবরে দেখলাম। সেখানে একজন শিক্ষক রাগের মাথায় বলেছেন, ‘মামা বাড়ির আবদার’। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা দূরত্বও দেখা যাচ্ছে।
ডাকসু নির্বাচনে যে ফলাফল আমরা দেখেছি, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের বিজয়। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েও শিবির ডাকসুতে জিতেছে। এটা হতে পারে, বিগত সরকার মুক্তিযুদ্ধের নাম বিক্রি করে যে নিপীড়ন করেছে, একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট করেছে, শিক্ষকরাও দলবাজি করতে গিয়ে শিক্ষকদের যে ঐতিহ্যবাহী ভাবমূর্তি, সেটাকে নষ্ট করেছেন–সেই জায়গা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরক্তিটা এই পর্যায়ে হয়তো দাঁড়িয়েছে যে তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পক্ষকেই নির্বাচনে জিতিয়ে দিয়েছে।
যদিও শিবির নির্বাচনে নিজেদের নামে ভোট করেনি, তারা ভোট করেছে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ নামে একটি প্যানেল দিয়ে। ফলে শিক্ষার্থীরা শিবিরকে ভোট দিয়েছে, ব্যাপারটা এরকমও বলা যায় না। ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল যে নির্বাচনি ইশতেহার দিয়েছে, তাতে কিন্তু শিবির যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির চর্চা করে, তা থেকে বেরিয়ে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শিবির রাজনীতিতে যেমন নারী নেতৃত্বকে মেনে নেয় না, ডাকসুতে তেমন দেখা যায়নি। ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের প্রতিশ্রুতিতে কিন্তু নারীদের অধিকারের কথাও বলেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কথা বলেছে। তাদের প্যানেলে আদিবাসী প্রার্থীকেও যুক্ত করেছে। মেয়েরা হিজাব পরবে বলে শিবিরের অবস্থান থাকলেও শিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলে কিন্তু হিজাবহীন এক নারীকেও প্রার্থী রেখেছে। এটা তারা শিবিরের বাইরে নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ভিন্ন নামে প্যানেল দিলেও ডাকসুতে শিবিরই জিতেছে ভিন্ন কৌশল নিয়ে।
ডাকসুতে জয়ের পর শিবির যদি মনে করে শিক্ষার্থীরা তাদেরকে ভোট দিয়েছে এবং তারা একাত্তুরের বিরুদ্ধে অবস্থান জারি রাখবে, তাহলে তারা বড় ভুল করবে। মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে তারা যদি কোনো রকম অপমান করার সাহস করে, আমার ধারণা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবার তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেবে।
এর প্রমাণ হলো, গণঅভ্যুথানের পরে শিবির মনে করেছিল তারা যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে যারা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত, তাদেরকে মহিমান্বিত করতে পারবে। তারা টিএসসিতে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি টানিয়েছিল। কিন্তু সেটি টানিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। শিবির ছবি টানানোর পরই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। এই বিক্ষোভে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, সেই প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক পরিসর সীমিত হওয়ার পরও টিএসসি থেকে কিন্তু শিবিরকে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি সরিয়ে ফেলতে হয়েছিল। কারণ নৈতিক সাহস। শিবির নৈতিক সাহসের অভাবে সেই সীমিত শক্তির প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে কিন্তু দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি সরিয়ে ফেলে। এটা একটা উদাহারণ। এখন ভোটে জিতে তারা যদি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার সংগ্রামকে নিয়ে কোনো অপমান করতে আসে, তারা নৈতিক সাহসের অভাবেই পরাজিত হবে। শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়বে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য মুক্তিযুদ্ধের স্মারক আছে। ইতোমধ্যে রায়েরবাজারে গিয়ে শহীদদের কবর জিয়ারত করেছে ডাকসুর নবনির্বাচিতরা। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি যেমন আছে, আবার চব্বিশের শহীদদেরও কবর আছে। ফলে ডাকসু নির্বাচিতরা সেখানে একাত্তুরের শহীদ নাকি চব্বিশের শহীদদের কবর জিয়ারত করতে গিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তারা নবাব সলিমুল্লাহ্র কবর জিয়ারত করেছেন। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরেই শহীদ শিক্ষকদের কবর রয়েছে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের একটি স্মৃতিস্তম্ভ আছে। সেখানে কিন্তু তারা যাননি। তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও যাননি, সাভার স্মৃতিসৌধেও যাননি। দেখা যাক তারা আগামীতে যাচ্ছেন কিনা।
তাই আমি মনে করছি, তারা যদি একাত্তুরকে অস্বীকার করা বা অপমান করার চেষ্টা করেন, তবে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। তারা লিবারেল একটা রূপ দেখাতে পেরেছেন বলেই শিক্ষার্থীরা হয়তো ভোট দিয়েছেন। যারা তাদেরকে ভোট দিয়েছেন, আমি আশা করি, তাদের সম্মান তারা রাখবেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবেন। কোনো রকম উসকানির সৃষ্টি করবেন না এবং যথাসময়ে আগামী বছর যেন ডাকসু নির্বাচনটা হয়, তারা এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকবেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের ফলাফল যেন সঠিকভাবে প্রকাশ হয়। সেই অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সেটি করবেন বলেই আশা করছি। যে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে সেই অনিয়মের তদন্ত করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি আস্থার জায়গা তৈরি হবে বলে আশা করছি। জাকসুতে একটা বড় অনিয়ম হয়েছে আগেই। একজন জনপ্রিয় প্রার্থীকে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ প্রার্থিতা বাতিল করেছিল। সেটি তারা কিভাবে বাতিল করলেন এবং আদালত যখন প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিতে বললো তখন নির্বাচন কর্তৃপক্ষ বলল যে ব্যালট পেপার ছাপা হয়ে গেছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের অনেকেই বলেছেন, ব্যালট পেপার তখনো ছাপা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই আচরণও খুবই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে নির্বাচনকে।
আর রাকসুতে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তাতে যে ডাকসু ও জাকসুর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে বলে আশা করছি। সেখানে যে অনিয়ম হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা যেন এখনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাধানে তৎপর হন। এছাড়া চাকসুসহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও যেন দ্রুত নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়, সেই প্রত্যাশা করি। জাতীয় নির্বাচনেও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকুক। ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকুক এবং প্রগতিশীল চিন্তা চলমান থাকুক।