Published : 08 Mar 2026, 11:13 AM
দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গ্যাংস্টার সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বটাকে আগুনের গোলায় পরিণত করতে নেমে পড়েছেন তিনি। তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অজুহাতে তার নির্দেশে ইরাক, নাইজেরিয়া ও সোমালিয়ায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা; ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহজনক মাদকবাহী নৌযান ধ্বংস, ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক অপহরণ, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এবং ইয়েমেনে হুতি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এসব কাণ্ডের পর চিরদোসর ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে দ্বিতীয় দফায় আগ্রাসন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ আগ্রাসন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ববর্তী সময়ের ধারাবাহিক সামরিক সাফল্য থেকে সাহস ও আত্মবিশ্বাস পায় বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে আগের সামরিক অভিযানগুলোতে সাফল্য এসেছিল বেশ দ্রুত। এতে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি বা অর্থ ব্যয়ের পরিমাণও ছিল খুবই কম। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে এবারের যৌথ আগ্রাসনে দ্রুত সাফল্য না-ও আসতে পারে।
ইরানে আগ্রাসনের শুরুতে কোনো রাখঢাক না করেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, দেশটিতে রেজিম বা শাসক পরিবর্তন করাই তার লক্ষ্য। সে কারণেই যে প্রথমেই নিশানা করা হয় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে তা সহজেই বোঝা যায়। প্রথম দিনের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুর রহিম মৌসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হন। হামলায় প্রাণ হারান খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও। ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি ছিলেন একাধারে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সেনাবাহিনীর প্রধান। জাতীয় পুলিশ ও মোরাল পুলিশের ওপরও তার নিয়ন্ত্রণ ছিল। ইরানের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বিপ্লবী গার্ড কোর বা বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীও (আইআরজিসি) ছিল খামেনির নিয়ন্ত্রণে। স্বভাবতই ট্রাম্প মনে করেছিলেন, এই বুঝি ইরানে সরকারের পতন হলো। সম্ভাব্য পতন ত্বরান্বিত করতে ট্রাম্প ইরানের বিক্ষুব্ধ বিভিন্ন গোষ্ঠীকে বিদ্রোহে ঝাঁপিয়ে পড়তেও খোলাখুলি আহ্বান জানান। আগ্রাসনের তিনদিনের মাথায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, তাদের সৃষ্ট ‘অবিশ্বাস্য সুযোগ’ কাজে লাগাবে ইরানের জনগণ। তবে তাতে খুব একটা কাজ হয়নি। ফলে এরপর ট্রাম্প কুর্দি বিদ্রোহীদের উসকানি দিতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমনটিও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কিছুদিন আগে থেকেই কুর্দি বিদ্রোহীদের অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে বলীয়ান করে আসছে। ট্রাম্প যে আসন্ন স্থল হামলার কথা বলছেন তাতে ওই কুর্দিরাই হতে পারে ফুট সোলজার।
তবে ইরানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ডনাল্ড ট্রাম্পের হিসাব-নিকাশ উল্টে যাচ্ছে বলে মনে করছেন খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই কোনো কোনো বিশ্লেষক। তাদের মতে, ট্রাম্পের হিসাবটা এমন ছিল যে এই সামরিক অভিযান চালাতে খুব কমসংখ্যক মার্কিন নাগরিকের প্রাণহানি হবে এবং অর্থনীতিতেও সামান্যই প্রভাব পড়বে। অথচ ইরানে যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতেই ট্রাম্পের সেই ধারণা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে গেছে। এরই মধ্যে মার্কিন সেনারা নিহত হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলো হামলার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার টালমাটাল। গ্যাসের দাম বাড়ছে লাফিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার খরচ করছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে আগ্রাসন শুরু করেছে, তা শুধু এমন দ্রুত সময়ের অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না-ও থাকতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন যদি ইরানের শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে যুদ্ধটা দীর্ঘ হতে পারে। কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদ এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জ্যাসন ক্রো একসময় মার্কিন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অভিজ্ঞার আলোকে গত বুধবার তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই ‘অনন্ত যুদ্ধের পথে’ এগোচ্ছে, যা তিনি সরাসরি দেখেছেন। ক্রো বলেন, ‘আবারও সেই লাখো কোটি ডলার খরচ, হাজার হাজার মার্কিন নাগরিকের প্রাণহানি, কয়েক দশকের অন্তহীন সংঘাত, আমার পুরো প্রাপ্তবয়স্ক জীবন, শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ ধরে মার্কিন যুদ্ধ—এসবের দিকেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) গবেষণার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় ওয়াশিংটনের প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন (৩৭০ কোটি) মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। সেই হিসাবে দৈনিক তাদের খরচ হচ্ছে ৯০০ মিলিয়ন (৯০ কোটি) ডলার। মূলত বিপুল পরিমাণ গোলা-বিস্ফোরক ব্যবহারের কারণেই তাদের এই অর্থ ব্যয় হয়েছে। গবেষক মার্ক ক্যানসিয়ান ও ক্রিস পার্ক বলেন, প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয় হওয়া ৩৭০ কোটি ডলারের সামান্যই তাদের বাজেটে বরাদ্দ ছিল। ৩৫০ কোটি ডলারই ছিল বাজেট বরাদ্দের বাইরে। এর অর্থ হলো বাজেটের বাইরে থাকা ব্যয় মেটাতে পেন্টাগনকে শিগগিরই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন করতে হতে পারে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে এবং যুদ্ধবিরোধী পক্ষের জন্য ‘বিরোধিতার কেন্দ্রবিন্দু’ হয়ে উঠতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং সংঘাতের কারণে গ্যাসের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন আরও কমে যেতে পারে। এটি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সমর্থকদের মধ্যেও বিভাজন সৃষ্টি করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। বাহারাইন, কুয়েত, ইরাক, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ইরান হাজার হাজার ড্রোন এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। রিয়াদ ও কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করেও হামলার দাবি করেছে তেহরান। শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব হামলা ও বিস্ফোরণের খবর। খবরে বলা হয়, কুয়েত উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দুবাইয়ের বিলাসবহুল পাম জুমেইরাহ হোটেল ও বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও আঘাত হেনেছে ইরানের শাহেদ ড্রোন। সপ্তাহব্যাপী ক্রমাগত ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। যদিও এর বেশিরভাগই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ধ্বংস করা হচ্ছে, তবুও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছয়টি জাহাজে হামলার পর বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সামরিক বিশ্লেষক ও গোয়েন্দারা মনে করেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ড্রোন হামলা চালিয়ে কয়েক মাস ধরে অচল করে রাখার সক্ষমতা ইরানের আছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে চলা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স’ (সিআইআর) জানিয়েছে, ইরানের প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা আছে। ড্রোন প্রস্তুতকারক দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বের প্রথম সারিতে অবস্থান করছে ইরান। তবে ইরানের কাছে কত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অনুমান, তেহরানের কাছে আড়াই হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত আছে। আর অন্য বিশ্লেষকদের হিসাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৬,০০০। সংঘাত কত দিন চলতে পারে, বা এর গতিপথ কেমন থাকবে তা অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদন মতে, ইরানের শাহেদ সিরিজের ‘কামিকাজে’ ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে এক ভয়ংকর আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। এর রয়েছে জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন, রাডার এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং ৪০-৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা। মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার খরচে একেকটি শাহেদ ড্রোন তৈরি করা যায়। বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব বলে এসব ড্রোন দিয়ে যেকোনো দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সহজেই দিশেহারা করে দেওয়া সম্ভব। শাহেদ-১৩১ ও ১৩৬ সিরিজের এসব ড্রোন মূলত সাধারণ মানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরান এগুলোকেই প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ড্রোনগুলো সামরিক ঘাঁটি, তেল শোধনাগার ও বেসামরিক স্থাপনায় নিখুঁতভাবে আঘাত হানছে। হাইপারসনিক গতি বা অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির নয়, বরং এ ড্রোনের মূল শক্তি হলো এর বিপুল সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখতে ইরান শত শত ড্রোনের ‘ঢেউ’ পাঠায়। সংক্ষেপে বললে, ইরানের কৌশল হলো এই ‘উড়ন্ত ক্ষেপণাস্ত্র’ দিয়ে প্রথমে প্রতিপক্ষের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকেজো করে দেওয়া। এরপর বড় ও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো, যেন এগুলো অনায়াসেই লক্ষ্যভেদে সফল হয়।
নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া ড্রোন ধ্বংস করতে মার্কিন প্রযুক্তির প্যাট্রিয়ট বা থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাও উল্লেখ করার মতো। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানি ড্রোনের ৯০ শতাংশের বেশি রুখে দিতে পেরেছে। অন্য কিছু দেশ এই সাফল্যের হার ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বলে দাবি করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসব ড্রোনের বেশির ভাগ ভূপাতিত করা হলেও ইরানের জন্য তা একধরনের জয়। কারণ, মাত্র ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৪০ লাখ ডলার মূল্যের শক্তিশালী রকেট খরচ করতে হয়। চার বছর আগে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের সময় থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব একটি বড় সমস্যার কোনো সমাধান খুঁজে পাচ্ছে না। তা হলো শাহেদ ড্রোনের উৎপাদন খরচের সঙ্গে একে ঠেকানোর খরচের বিশাল ব্যবধান।
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ব্যাপক বিমান হামলার এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই নিজেদের অত্যাধুনিক ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী (প্রিসিশন) অস্ত্রের মজুত নিয়ে সংকটে পড়তে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পেন্টাগন যে হারে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করছে, তাতে ওয়াশিংটন আর মাত্র ‘কয়েক দিন’ পরই কোন লক্ষ্যবস্তুগুলোকে আগে রক্ষা করা হবে, সে অগ্রাধিকার নির্ধারণের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, এই অভিযানে এ পর্যন্ত ইরানের ২ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এই ব্যাপকতা মার্কিন কমান্ডারদের নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করছে যে, প্রতিপক্ষ ইরান কত দ্রুত তাদের নিজস্ব গোলাবারুদ শেষ করবে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ধারণা দিয়েছেন, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাতগুলো আসা এখনও বাকি। তবে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের তথ্য মতে, ইতিমধ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো বিশ্বের সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শত শত ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করা হয়েছে। এ ছাড়া ইরানি নেতার অবস্থান ও ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইটগুলো লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক টমাহক ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয়েছে। অস্ত্রের এই দ্রুত ঘাটতি ওয়াশিংটনকে কৌশলগতভাবে চাপে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সমরবিদরা।