Published : 29 Jan 2026, 04:46 AM
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’—দুটোর পরিণতি কী হতে পারে, তা কি সত্যিই আমরা স্পষ্ট করে জানি? জানলেও কতজন জানি? বাস্তবতা হলো, ‘না’ জিতলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ কার্যত অচল হয়ে যাবে, বলা যায় বাতিলই হবে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে সেই সনদ বাস্তবায়নের একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক পথ খুলবে—এর বেশি নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যায় না। কীভাবে, কতটা ও কত দ্রুত তা বাস্তবায়িত হবে, তা ভবিষ্যতের প্রশ্ন; এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’-কেই যেকোনোভাবে জেতাতে হবে—সরকার ঠিক সেদিকেই ঝুঁকে আছে। কারণ, এতদিন ধরে এত মানুষকে যুক্ত করে, এত আলোচনা-সমালোচনার ভেতর দিয়ে যে প্রক্রিয়াটি গড়ে তোলা হয়েছে, তা তো ব্যর্থ হতে দেওয়া যায় না। একজন মানুষ কত দূর থেকে উড়ে এলেন, কত অর্থ ব্যয় হলো, শেষ পর্যন্ত একটি সনদও প্রস্তুত হয়ে গেল মানুষটির অক্লান্ত পরিশ্রমে—এখন কেবল ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের অপেক্ষা। ইতিপূর্বে এদেশে যে তিনবার ‘হ্যাঁ-না’ ভোট হয়েছে, প্রতিবারই ‘হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে, হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে, হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে’। জাতি হিসেবে আমরা বড্ড ইতিবাচক বটে! জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে দেশজুড়ে যে গণভোটের প্রস্তুতি চলছে, তার ফলও কি আগের তিনটি গণভোটের মতো হতে যাচ্ছে?

গণভোটের ব্যালটে মোট চারটি প্রশ্ন থাকবে। প্রশ্নগুলোর কোনোটির কোনো আলাদা মূল্য নেই। সেখানে লেখা থাকবে: “আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?”; (হ্যাঁ/না)
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।
(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে।
(গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐক্যমত্য হইয়াছে—সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে।
(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।”
এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত জানাতে হবে।
চতুর্থ প্রশ্নে বলা হয়েছে— ‘জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।’ এই প্রশ্নের মধ্যেই আগের প্রশ্নগুলো অর্থহীন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হইবে কি হইবে না, তাহাই এক কথায় প্রকাশ করুন—হ্যাঁ অথবা না। সিদ্ধান্তের ভার জনগণের হাতে কতটা এই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ মোট ৪০ পাতার। এখানে ৮৪টি ধারা আছে। যার মধ্যে ৪৭টি ধারা সংবিধান সংশোধন বিষয়ক। বাকি ৩৭টি আইন, অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ধারা নিয়ে আলোচনা করলে দেখা যায়—
১. ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধানে কোথাও আর ‘বাঙালি’ শব্দটি থাকবে না। নাগরিকগণ শুধু ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পরিচিত হবেন।
২. বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এসব রাখা হবে না। সেখানে লেখা হবে: সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি। এই কথাগুলো খুব সুনির্দিষ্ট নয়, এগুলো একরকম ধোঁয়াশাপূর্ণ শব্দ। বরং আগের কথাগুলো স্পষ্ট ছিল। শুধু সমাজতন্ত্র বাদ দিলে বলার কিছু থাকত না, অন্তত আমার নিজের থাকত না। কারণ বাংলাদেশের জন্মলগ্নে সংবিধানে সমাজতন্ত্র যুক্ত হলেও রাষ্ট্রটি পরিচালিত হয়েছে পুঁজিবাদী ধারায়।
৩. ধর্মনিরপেক্ষতার জায়গায় স্থান পাবে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা। রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু রাষ্ট্র একটি যন্ত্র, তাই যন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষ হওয়াই বাঞ্ছনীয়। আমার বিশ্বাস এমনটা আরও অনেকেই মনে করেন।
৪. সংসদ দুই কক্ষবিশিষ্ট হবে। উচ্চকক্ষে ১০০ এবং নিম্নকক্ষে ৩০০ আসন থাকবে। সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী উচ্চকক্ষে আসন লাভ করা যাবে। নির্বাচনে যে দল শতকরা যত ভোট পাবে, সেই দল উচ্চকক্ষে ততগুলো আসন পাবে। যেমন: এনসিপি নির্বাচনে ১০ শতাংশ ভোট পেলে উচ্চকক্ষে তাদের ১০টি আসন থাকবে। আমরা সংসদ সদস্যদের সীমাহীন দুর্নীতি প্রত্যক্ষ করেছি। তাদের প্রায় সবাই জনগণ দ্বারা নির্বাচিত দুর্নীতিবাজ। আগামীতে আমরা কি অতিরিক্ত ১০০ জন ‘উচ্চ-দুর্নীতিবাজ’ পেতে যাচ্ছি?
৫. ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে এখনকার মতো একজন ব্যক্তির অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকার সুযোগ থাকবে না। দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না।
৬. বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে তার নিজ দলের প্রধান হতে কোনো বাধা নেই। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী এবং নিজ দলের প্রধান ছিলেন। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সেটা হওয়া যাবে না।
৭. সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান যুক্ত হবে। কীভাবে গঠন করা হবে, কারা সদস্য হবে—তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে। এই বিষয় নিয়ে অনেকগুলো ধারা আছে।
৮. সংসদে নারী সদস্য সংখ্যা ক্রমান্বয়ে ১০০-তে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেবে। পরের নির্বাচনে ১০ শতাংশ। এভাবে ৩৩ শতাংশ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার চার শতাংশের কম এবং তার মধ্যে অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিশনের উল্লেখযোগ্য কোনো সুপারিশ সনদে স্থান পায়নি। বরং কমিশনকে উন্মুক্তভাবে ও অশ্রাব্যভাবে গালিগালাজ করা হয়েছে।
৯. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে অনেকগুলো ধারা আছে। রাষ্ট্রপতি আর প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারবেন না। আপিল বিভাগ থেকে নিয়োগ করা হবে। এখন প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলেও তখন গোপন ভোটে নির্বাচিত করা যাবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারবেন। এরকম আরও কথা আছে।
১০. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও অনেকগুলো ধারা আছে। ধারাগুলোতে সরকারের পরিবর্তে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টকে ক্ষমতায়িত করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, সকল প্রশাসনিক বিভাগে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ দেবেন।
১১. ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, বিরোধীদলের চিফ হুইপসহ সাত জনের কমিটি পিএসসির লোকবল নিয়োগ করবে।
১২. দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে সংসদ সদস্য, আপিল বিভাগের প্রতিনিধি এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধির সমন্বয়ে নিয়োগ প্রদান করা হবে।
১৩. সরকারের অধীনে থাকা সরকারি কর্মচারীগণ এবং স্থানীয় সরকারে থাকা সরকারি কর্মচারীরাও সংসদ সদস্যের অধীনে থাকবে। অর্থাৎ যেখানে যে দলের এমপি, সেই জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন চলবে তার নির্দেশে। সেখানকার সব প্রকল্প তার অধীনে থাকবে। এই প্রস্তাব কি বাস্তবসম্মত? এতে দুর্নীতি বাড়বে নাকি কমবে? এভাবে জনপ্রশাসন ভালোভাবে চলার নজির আছে কি?
১৪. সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে সরকারের অনুমতি নিতে হবে না। আইনজীবীরা রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হতে পারবে না।
১৫. কোনো অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি পাঁচ বছর পর নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তা আর সম্ভব হবে না। কোনো সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আর কখনোই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না। এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা এবং বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করার প্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
১৬. কালো টাকা সাদা করার জন্য আইন প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছে।
১৭. কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে দু’টি নতুন বিভাগ করে বর্তমান আটটির জায়গায় ১০টি বিভাগ করার কথা বলা হয়েছে।
আরও অনেক কিছুরই উল্লেখ রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদে, যা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের চারটি প্রশ্নে স্পষ্ট হয়নি, করা সম্ভবও নয়। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই জুলাই সনদের অনেক কিছু দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এমন পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে, যা আমাদের অনেকের পক্ষেই মেনে নেওয়া কঠিন। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিতে চাই এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্য সব জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি চাই। গণভোটের ব্যালট শুধু ভাষাগতভাবেই ত্রুটিপূর্ণ নয়, অনেক চাতুর্যপূর্ণও বটে। গণভোট এভাবে জটিল করা যায় না। কয়জন মানুষ জুলাই জাতীয় সনদ বিস্তারিত জানে যে তারা বাস্তবায়নের জন্য রায় দিয়ে দেবে? অথচ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সরকার যেকোনো মূল্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করে আনতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। সরকারি সমস্ত যন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যবহৃত হচ্ছে এই কাজে।
অবশ্য এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন একটা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক বিশেষ প্রতিবেদন বলছে। ‘গণভোট: সরকারি চাকুরেদের পক্ষ নিতে মানা করে চিঠি দেবে ইসি’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদন বলছে, আসন্ন গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ না হলেও, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের এই প্রচারে অংশ নেওয়া একটি গভীর নৈতিক সংকটের জন্ম দেবে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান আল মাসউদের বক্তব্য সেই সত্যটিই মনে করিয়ে দেয়। তিনি “গণভোটের প্রচারে সরকারি চাকরিজীবীদের বাধা না থাকলেও ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষালম্বন করা থেকে বিরত থাকতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেওয়া হবে” বলে জানিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে যখন রিটার্নিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাখ লাখ সদস্য নির্বাচনের দায়িত্বে থাকেন, তখন সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে জনগণের চোখে প্রশ্নবিদ্ধ করে। প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান এবং সরকারি খরচে একপাক্ষিক প্রচার একটি অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে, যা গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী। একদিকে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিচ্ছে, অন্যদিকে খোদ সরকারের পক্ষ থেকেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য চাপ বা প্রচারণা চালানো হচ্ছে—এই দ্বিচারিতা মাঠ প্রশাসনের জন্য বিভ্রান্তিকর।
গ্রহণযোগ্য গণভোটের পূর্বশর্ত হলো ভোটারের স্বাধীন ও অবাধ মতামত প্রকাশের সুযোগ। কিন্তু যখন রাষ্ট্রযন্ত্র বা সরকারি কর্মচারীরা একপাক্ষিকভাবে প্রচারণায় নেমে পড়ে, তখন সেই ভোটের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে। তার ওপর এই গণভোটের আইনি কাঠামোও আন্তর্জাতিক রীতি ও প্রচলিত সাংবিধানিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক। তার মতে, এভাবে ভোটে কেবল সংখ্যার হিসাবে ‘জয়’ এলেও তা আইনি ও নৈতিক দিক থেকে নড়বড়ে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি প্রবল। সংবাদমাধ্যমকে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দুনিয়াজুড়ে রীতি হলো—প্রথমে সংসদে কোনো প্রস্তাব পাস হয়, তারপর তা গণভোটে তোলা হয়; উল্টোটা নয়। আগে গণভোট, পরে সংসদ—এই ধারণা প্রচলিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংসদ বসার পর ২৭০ দিনের মধ্যে কোনো প্রস্তাব ‘আপনা-আপনি’ পাশ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়ার যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটিও আইনের চোখে টেকে না।