Published : 08 Nov 2025, 01:00 AM
চলমান সিমেস্টারে একটা কোর্স পড়াচ্ছি, শিরোনাম ‘গ্লোবালাইজেশন, মিডিয়া অ্যান্ড কালচার’। সিমেস্টারজুড়ে বিশ্বায়নের নানান সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলাপ হচ্ছে। বিশ্বায়নের সঙ্গে মিডিয়া ও সংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে। জোসেফ স্টিগলিৎজের বই ‘মেকিং গ্লোবালাইজেশন ওয়ার্ক’ (২০০৬) থেকে বুধবারের ক্লাসের আলোচ্য বিষয় ছিল ’অন্য এক দুনিয়া সম্ভব‘। ক্লাসের শেষ ১০ মিনিটে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম, ’মামদানি প্রপঞ্চের সঙ্গে বিশ্বায়নের সম্পর্ক কী?’ উন্মুক্ত আলোচনায় আহ্বান করলাম শিক্ষার্থীদের।
আগের দিন, ৪ নভেম্বর রাতে জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। স্টিগলিৎজের ২০০৬ সালের বইয়ের এক অধ্যায়ের আলোচনা থেকে হঠাৎ ২০২৫ সালের মেয়রের আলাপের উল্লম্ফনে, ক্ষণিকের দ্বিধা দেখা গেল শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে। তাদের সুবিধার্থে বললাম, দুটো প্রেক্ষাপট থেকে আলাপটা হোক। এক, মামদানির আত্মপরিচয় ধরে ও দুই, তার নির্বাচনি ইশতেহারকে প্রতিপাদ্য করে।
এবার তাদের চিন্তার জট খুলল। আলাপ জমে গেল। শেষ ১০ মিনিটের আলাপ ১৫ মিনিটে গিয়ে ঠেকল। আমেরিকার ক্লাসরুমগুলোয় শিক্ষার্থীরা সাধারণত ক্লাসের সময় শেষ হলে আর থাকতে চায় না। এ তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস নয় যে, শিক্ষক ক্লাসশেষের ঘোষণা দেননি, তাই বসে রইবে তারা। কিন্তু সেদিন পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত বসে রইল শিক্ষার্থীরা, আলোচনায় মজে গেল।
জোহরান মামদানির আত্মপরিচয় খুঁজতে খুঁজতে পেছনে গেলে জানতে পারা যায়, তার বাবার বাড়ি ছিল ভারতের গুজরাটে। ২০০ বছর আগেই পূর্বপুরুষ গুজরাট ত্যাগ করেছেন। তবে বাবা মাহমুদ মামদানির জন্ম মুম্বাইতে। তবে পিতার চাকরির সূত্রে তিনি বড় হয়েছেন উগান্ডায়। জোহরানের জন্ম ১৯৯১ সালে, উগান্ডার কামপালায়। সাত বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে জোহরান আমেরিকার নিউ ইয়র্কে আসেন। এর আগে তার পরিবার তানজানিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাতেও ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে আন্ডারগ্র্যাডে পড়াশোনার সময় মেজর হিসেবে জোহরান বেছে নেন আফ্রিকান স্টাডিজ। রেখে আসা আফ্রিকান আইডেন্টিটিকে তিনি পদ্ধতিগতভাবে পড়লেন। ওদিকে জাতিগতভাবে তিনি ভারতীয়। পড়াশোনা পর্ব শেষ করার পর, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান ২০১৮ সালে। দু’বছর পরেই, তিনি নিউ ইয়র্ক স্টেট এসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন ২০২০ সালে। ২০২২ ও ২০২৪ সালে আরও দু’বার তিনি একই পদে নির্বাচিত হন। তবে এবছরের জুন মাসে তিনি শহরের মেয়র পদের নির্বাচনের প্রাইমারি রেসে, ডেমোক্রেট প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুওমোকে হারিয়ে দিয়ে রাতারাতি বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ এক চরিত্রে পরিণত হন।
জোহরানের বাবা মাহমুদ মামদানি পণ্ডিত ব্যক্তি এবং সাম্প্রতিক সময়ে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। বিশেষত উত্তর-ঔপনিবেশিকতা অধ্যয়নে তিনি একজন শীর্ষস্থানীয় স্কলার। তার ভারত ও আফ্রিকার জাতিগত ও সংস্কৃতিগত অভিজ্ঞতা তাকে ওই বিষয়ে একজন পণ্ডিত ব্যক্তিতে পরিণত করে। জোহরান মামদানির মধ্যনাম হলো ’কোয়ামে’ যা এসেছে ঘানার প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ন্ক্রুমাহ কোয়ামের নাম থেকে, যাকে মাহমুদ মামদানি সম্মান করেন এবং তার প্রতি ট্রিবিউট হিসেবে ছেলের নামে ওই নামের অংশ জুড়ে দিয়েছেন। কোয়ামে ছিলেন প্যান আফ্রিকান মুভমেন্টের অন্যতম নেতা।
জোহরান মামদানির মায়ের খ্যাতির পরিধি সম্ভবত আরেকটু বিস্তৃত। জোহরানের মা মীরা নায়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি ভারতে ও যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। হার্ভার্ডে চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। প্রথম জীবনে অবশ্য তিনি থিয়েটারে আগ্রহী ছিলেন, কলকাতায় গিয়ে বাদল সরকারের শিষ্যত্ব নিয়েছিলেন। মীরা নায়ারের পাঞ্জাবী পরিবারে জন্ম, বৈবাহিক সূত্রে ও কর্মসূত্রে তিনিও কামপালা ও নিউ ইয়র্কে বসবাস করেছেন। তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র হলো ’সালাম বোম্বে’, ’মিসিসিপি মাসালা’, ’কামাসূত্রা’, ’মনসুন ওয়েডিং’, ’নেইম সেক’, ’ভ্যানিটি ফেয়ার’ ইত্যাদি। উগান্ডায় তরুণ এক প্রজন্মকে চলচ্চিত্র শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন মীরা নায়ার। তার আগে উগান্ডায় চলচ্চিত্র চর্চা প্রায় অনুপস্থিত ছিল। ’মিসিসিপি মাসালা’ বা ’নেইম সেক’ দেখলে বোঝা যায়, সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, বর্ণবাদ, মাইগ্রেশন ইত্যাদি বিষয়ে মীরা নায়ারের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। মাহমুদ যদি তাত্ত্বিকভাবে উত্তর-উপনিবেশবাদ চর্চা করেন, তবে মীরা নায়ার সৃষ্টিশীল উপায়ে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, অভিবাসন ও বর্ণবাদকে মোকাবেলা করেছেন। এরকম পিতামাতার সন্তান জোহরান, যার প্রগতিশীল রাজনীতিতে আগ্রহী হওয়া বিস্ময়কর কিছু নয়। তবে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী (ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট) হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভূমিকম্প ঘটানো কেবল বিস্ময়কর নয়, অত্যন্ত দরকারি ছিল। এদিকে তার স্ত্রী রামা দুয়াজি সিরীয় বংশোদ্ভূত,যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে জন্ম হলেও, ছোটবেলা কেটেছে দুবাইয়ে। অবশ্য উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই, পেশাদার আর্টিস্ট তিনি।
ভারত, পূর্ব আফ্রিকা, সিরিয়া ইত্যাদি দেশ ও অঞ্চলের নানান পরিচয় ও সংস্কৃতি বহন করে, পরিবারের সদস্যরা এসে থিতু হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের (সম্ভবত পৃথিবীরও) সবচাইতে বৈচিত্র্যময় শহর নিউ ইয়র্কে। সেই পরিবারের ৩৪ বছর বয়েসী সদস্য জোহরান মামদানি ওই শহরের মেয়র নির্বাচিত হলেন।
এটাই হলো বিশ্বায়ন। এরা হলেন বিশ্বায়নের টেক্সটবুক উদাহরণ। বিশ্বায়নের ইতিবাচক ফলাফলের উদাহরণ। যদিও যে বিশ্বায়ন আমরা পেয়েছি, তা মানুষের এই বৈশ্বিক চলাচলকে একেবারেই সুনজরে দেখে না। বর্ডার, ভিসানীতি, অভিবাসনবিরোধী রাজনীতি ইত্যাদির মধ্য দিয়ে মানুষের চলাচলকে বাধা দিয়ে থাকে। কিন্তু সুদূরের পিয়াসী মানুষ, সব বাধা পেরিয়ে বেরিয়ে পড়বেই। আদিম কাল থেকেই এটা হয়ে আসছে।
আমরা বিশ্বায়নের নেতিবাচক প্রভাবই বেশি দেখেছি বিশ্বজুড়ে। বিশ্বায়ন গড়ে উঠেছিল নয়াউদারবাদী নীতিতে যেখানে, মুক্ত বাজারের কথা বলা হয়েছে, বেসরকারিকরণের কথা বলা হয়েছে, বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপকে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে, যদিও বাজার বিপদে পড়লে সরকারকে বলে প্রণোদনা দিয়ে বা বেল আউট করে, তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে শৃঙ্খলা আনতে। বিশ্বায়নের ফলে সবাই উপকৃত হবে বলা হলেও, বাস্তবে দেখা গেছে বিশ্বায়ন বাস্তবায়নকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন নীতি ও কার্য়ক্রম বিশ্বে বৈষম্য বাড়িয়েছে, অল্প কিছু দেশ উন্নতি করলেও বেশিরভাগ দেশই অর্থনৈতিক উন্নতির ধারায় যেতে পারেনি, পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গরিব দেশগুলো গরিবই রয়ে গেছে, লাভবান হয়েছে উন্নত দেশগুলোই। কারণ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত দেশগুলোর প্রভাবেই পরিচালিত হয় (বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সবসমই আমেরিকান হন, আমেরিকান প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরে নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর হেডকোয়ার্টার ওয়াশিংটন ডিসিতে, অনতিদূরের ভবন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ–এই তিন বিভাগ মিলেই গড়ে তোলে ‘ওয়াশিংটন কনসেনসাস’, যার ভিত্তিতে বিশ্বায়নকে পরিচালনা করা হয়)।
এবার ভিন্ন একটা চিত্রের কথা বলা যাক। যখন চীন বা ভারতের মতো দেশ বিশ্বায়নের শর্ত ব্যবহার করে, ম্যানুফ্যাকচারিং বা আউটসোর্সিংয়ের সুবিধা নিয়ে নিজেদের অর্থনীতি গতিশীল করেছে, তখন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বা উন্নত দেশের অনেক কাজ ওই দুই দেশের নাগরিকের কাছে চলে গেছে। কারণ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো দেখেছে, ওসব দেশে অনেক কম খরচে একই কাজ করানো যায়। ওসব দেশে শ্রমের মূল্য অনেক কম (বাংলাদেশও এই আলোচনায় প্রাসঙ্গিক কিছুটা)। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছে, বেকার হয়েছে বা ভিন্ন পেশা বেছে নিতে হয়েছে। জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশ্বায়নের নেতিবাচক ফল পড়েছে, উন্নত দেশগুলোতেও। জোসেফ স্টিগলিৎজ বলছেন, বিশ্বায়ন তৈরি করেছে ’গরিব মানুষের ধনী দেশ’। অর্থাৎ বিশ্বায়ন এমন এক ব্যবস্থা উপহার দিয়েছে, যেখানে রয়েছে অল্প কিছু ’সুপার রিচ’ (হয়তো ১ শতাংশ মানুষ), বাকি সবাই (৯৯ শতাংশ) কায়ক্লেশে জীবনযাপন করছে। কিছু দেশ ধনীদের দেশ হিসেবেই পরিচিত হচ্ছে কারণ, ওইসব দেশে মূলধন ও সম্পদের পাহাড় রয়েছে, কিন্তু তা কুক্ষিগত হয়েছে অল্প কিছু লোকের হাতে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র চালান বিলিয়নাররা, রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট, উভয় দলের রাজনীতিবিদরা তাদের স্বার্থই দেখেন। নিউ ইয়র্ক শহরে এরকম বিলিয়নার রয়েছেন অনেক। কিন্তু সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর নিউ ইয়র্ক।
জোহরান মামদানি সেই শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এবং তিনি এই বাস্তবতা জানতেন, অনুভব করতেন। তিনি বিশ্বায়নের ফসল, তাই তিনি এর সঙ্কটগুলোর কথাও ভালো করে জানেন। তবে তার রাজনৈতিক আদর্শ তাকে সাহায্য করেছে, সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো বুঝতে। তাই তিনি নিউ ইয়র্কারদের ’এফর্ডোবিলিটি’ বা সামর্থ্যের দিকটিকে তার নির্বাচনি ইশতেহারের কেন্দ্রে স্থাপন করেছেন। তিনি নিউ ইয়র্কবাসীদের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করবেন, শিশু পরিচর্য়া ফ্রি করে দেবেন, বাসা ভাড়া কয়েক বছরের জন্য বাড়তে না দিয়ে ফ্রিজ করে দেবেন, ন্যায্যমূল্যে শহরে মুদিখানা চালু করবেন। নব্বই লাখ মানুষের জন্য এই ব্যবস্থা করতে যে বাড়তি খরচ হবে, তার যোগান আসবে ধনিকদের ওপরে বাড়তি কর বসিয়ে।
এজন্যই ধনিক গোষ্ঠী, তীব্রভাবে মামদানির বিরোধিতা করেছেন। ট্রাম্প থেকে ইলন মাস্ক, সব রিপাবলিকানই মামদানিবিরোধী। কিন্তু তারা কুওমোকে ভোট দিতে বলেছেন তারা, যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী কুওমো একজন ডেমোক্রেট। কুওমোর নির্বাচনি প্রচারাভিযানে টাকা দিয়েছেন বিলিয়নাররা। তারা সবাই মিলে, এক মেয়র নির্বাচনে, প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন, যতটা কুওমোর পক্ষে তারও বেশি মামদানির বিরুদ্ধে। তাদের এই ব্যাকুল প্রচেষ্টার কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে করনীতিই এরকম–তেলা মাথায় তেল দেওয়া। বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ব্যাপক মাত্রায় কর রেয়াত পায়। অথচ সাধারণ আয়ের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ক্ষেত্রে করের কড়াকড়ি। অথচ বাড়ি ভাড়া বাড়ছে, মুদ্রস্ফীতির কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, ট্রাম্প প্রশাসন স্বাস্থ্যবীমাসহ সব সামাজিক সেবায় কোপ বসাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের মানুষেরা স্বস্তিতে নেই। আমেরিকান ড্রিম আসলে ভেঙ্গে চৌচির। জোহরান মামদানি ঠিক এই জায়গায় কথা বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বিলিয়নারদের ওপরে কর বসাবেন এবং ৯৯ শতাংশ সাধারণ মানুষদের জীবন আরেকটু সহজ করবেন।
এই সঙ্কট বা তার সমাধানের এই প্রয়াস বা অঙ্গীকার কেবল নিউ ইয়র্ক শহরের ব্যাপার নয়। পুরো বিশ্বের ব্যাপার। বিশ্বায়নের ব্যাপার। এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ববাসীকে পর্যুদুস্ত করে রেখেছে। মামদানির রাজনীতি তাই আমাদের সবার রাজনীতি। ওই ধনিক শ্রেণি তার সর্বশক্তি নিয়োগ করবে, যাতে তিনি সফল হতে না পারেন। তবে আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, জোহরান মামদানির রাজনীতি কেবল তার নিজের রাজনীতি নয়, নয় কেবল নিউ ইয়র্কের রাজনীতি। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিও নয়। এই হলো আজকের বিশ্বের রাজনীতি। আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই যে, তরুণ রাজনীতিবিদ মামদানির হাতে সময় আছে, তিনি কেবল নিউ ইয়র্কবাসী নয়, বা আমেরিকানদের নয়, বিশ্ববাসীকে পথ দেখাবেন। বিশ্বায়নের নেতির দিকগুলোকে মোকাবেলা করে, ইতির দিকগুলোকে তিনি আমাদের সামনে হাজির করবেন। আমরা হয়তো একদিন এক সাম্যের, সমৃদ্ধির ও গণতান্ত্রিক বিশ্ব দেখতে পাব।