Published : 22 Sep 2025, 08:50 AM
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদের সংখ্যা নিয়ে কুতর্ক ছড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রশ্ন হলো, কেন এমনটা করা হচ্ছে?
এর অনেক কারণের একটি হচ্ছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ২০২৪ সালের মুখোমুখি করে দেওয়া। যা করা সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। জুলাই অভ্যুত্থানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় দেড় দশকের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারলে, অনেক পক্ষেরই অনেক লাভ হয়। শহীদের সংখ্যা নিয়ে নতুন প্রজন্মের মনে সন্দেহ-সংশয়ের জন্ম দিতে পারলে, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তীকালে গুপ্ত রাজনীতি থেকে প্রকাশ্যে আসা জামায়াতের পূর্বপুরুষেরা একাত্তরে যে যুদ্ধাপরাধ করে গেছেন, তার দায় কমিয়ে দেখাতে পারা যাবে। তারা জানে, সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস টিকে থাকলে বাংলাদেশে তারা রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার হারাবে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে যে কুতর্কের অবতারণা করা হয়েছে, সেটা আসলে শুধু সংখ্যার খেলা নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এর লক্ষ্য হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। তাই যারা আজ ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে তর্ক তোলে, সংখ্যাটাকে ৩ লাখে নামিয়ে আনতে চায়, তারা আসলে মুক্তিযুদ্ধের সত্যকে আড়াল করতে চায়—যাতে বাংলাদেশের ইতিহাসের ভিত্তিটাই নড়বড়ে হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে কিছু গবেষণার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের আগে এ বিষয়ে ভারত, পাকিস্তান ও জামায়াতে ইসলামীর বয়ানে যে সাদৃশ্য রয়েছে, সেটি নিয়ে একটু আলোকপাত করা যাক।
প্রথমেই আসি ভারতের কথায়। সন্দেহাতীতভাবে সত্য যে ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছে। যুদ্ধের সময়ে ভারত লাখ লাখ শরণার্থীকে তাদের বিভিন্ন রাজ্যের আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় দিয়েছে। কেন ভারত এই সহযোগিতা দিয়েছে? শুধুই কী মুক্তিকামী একটি দেশের মানুষের স্বাধীনতা এনে দেওয়ার জন্য? প্রশ্নটা সহজ হলেও উত্তরটা এত সহজ নয়। আপাতত সেই উত্তর দিয়ে কূটতর্কের জন্ম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ভারত যে পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ বলে ভাবে এবং সেই যুদ্ধ জয়ের গৌরবে এখনও আহ্লাদিত হয়, সেই সত্যটি নিয়ে আলাপ করি। হাল-আমলে এই সেদিন, এই বছরের এপ্রিলে পেহেলগামে জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ বাধতে বাধতে থেমে যাওয়া যুদ্ধের সময়ও দেখা গেছে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিসেব দিচ্ছে, তারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে পরাজিত করেছিল। ১৯৭১ সালের আগে-পরেও কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৪৭, ১৯৬৫ এবং সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে যুদ্ধ হয়েছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে পূর্ণ মাপের অভিযান চালায় এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করে। ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপ না হলে পাকিস্তানের পরাজয় সম্ভব হতো না। অর্থাৎ ভারত এই ইতিহাসকে নিজের বিজয়ের প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে। তাহলে আমাদের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভারতীয় বয়ানের কোথায় আছে? তবু মন্দের ভালো ভারত স্বীকার করে, পূর্ববাংলার জনগণও যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, কিন্তু তার কেন্দ্রীয় গুরুত্ব অনেক সময় পরিপ্রেক্ষিত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পাকিস্তানি বয়ানও ভারতীয় বয়ানের কাছাকাছি প্রায়। পাকিস্তানের এই দৃষ্টিভঙ্গি মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত হিসেবে দেখায়, যেখানে বাংলার মানুষের স্বাধীনতার দাবিকে প্রাথমিকভাবে উপেক্ষা করা হয়। ওই যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে বলে মেনে নিলেও পাকিস্তানের বিভিন্ন সরকারের বয়ান, মূলত ১৯৭১ সালে তারা ভারতীয় ষড়যন্ত্রের কাছে পরাজিত হয়েছে। মুক্তিকামী মানুষের লড়াইকে ঘুরিয়ে ব্যাখ্যা করে তারা। পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতার দাবি করেছিল, কিন্তু ভারতের প্রত্যক্ষ সমর্থন ছাড়া তারা এতদূর এগোতে পারত না। ভারতীয় সেনারা পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ব্যবহার করে পাকিস্তানকে দুর্বল করতে চেয়েছিল।“
জামায়াতে ইসলামীর বয়ান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হলেও যুদ্ধকালীন সময়ে তারা মুক্তিকামী বাংলার মানুষের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মুক্তিযুদ্ধোত্তরকালে না হলেও যুদ্ধ চলাকালে তারা যে বয়ান দিয়েছে, তা পাকিস্তানি বয়ানের অনুরূপ এবং ভারতীয় বয়ানের কাছাকাছি। একাত্তরে তারা পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার নামে, পাকিস্তানি সেনাদের দোসর হিসেবে বাংলার মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। স্বাধীনতাকামী মাত্রই তাদের কাছে ‘গাদ্দার’ বলে বিবেচিত হতো।
জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধকে ‘ভারতীয় ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকায় জামায়াতের নেতাদের বক্তব্য দেখলে স্পষ্ট বুঝতে পারা যায়, তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের কূটনৈতিক ও সামরিক ষড়যন্ত্রের অংশ মনে করত। জামায়াত বাংলার মুক্তিকামী জনগণের এই যুদ্ধকে ভারত-নির্ধারিত ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে এসেছে বহুদিন ধরে।
হাল-আমলে জামায়াতে ইসলামীর বয়ান বদলেছে। সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মন্তব্য করেন, মুক্তিযুদ্ধকে না মানলে ‘বাংলাদেশকে অস্বীকার করা হবে’। সেদিন ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বৈঠক হয়, যেখানে জামায়াতে ইসলামীও ছিল। হামিদুর রহমান আযাদ সেখানে বলেন, “সবাই যেমন বাংলাদেশকে মেনে নিয়ে রাজনীতি করছে, জামায়াতও তাই।”
জামায়াতের নেতারা জনসমক্ষে যা বলেন, সাংগঠনিক পরিসরে তা বলেন কিনা? সংশয় করবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই বছর সেপ্টেম্বরে জামায়াত নেতা বললেন, তারা মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে মেনে নিয়ে রাজনীতি করছেন। অথচ এই বছরেরই ফেব্রুয়ারিতে তাদের ছাত্রসংগঠনের একটি প্রকাশনায় ছাপা হয়েছিল, ১৯৭১ সালে দেশে একটা গন্ডগোল হয়েছিল! যারা ভুল করে ’৭১-এ যুদ্ধ করেছিল, তাদের তওবা পড়া উচিত!
সমালোচনার মুখে লেখাটি প্রত্যাহার করা হলেও তার কয়েক মাস পর, ২০ অগাস্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে বিমান হাইজ্যাকার বলে ফেইসবুকে পোস্ট দিলেন ওই ছাত্রসংগঠনের আরেক নেতা। তাকে সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছিল, পরে অবশ্য, সমালোচনার মুখে তাকে প্যানেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০ অগাস্ট ছিল মতিউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দলটির নানান পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করতে দেখা যায়।
এই যাদের অবস্থা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে কুতর্কের অবতারণাকারীদের পেছনে সাধারণ মানুষ তাদের ছায়া দেখতে পেলে, বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।
যারা মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা বড়জোর তিন লাখ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণার কিছু তথ্য তুলে ধরা যেতে পারে।
প্রথমত, কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গণহত্যা বিশেষজ্ঞ টেড রবার্ট গুর ও ইউ.এস. নেভাল একাডেমির গবেষক বারবারা হার্ফ ১৯৮৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ‘গণহত্যা ও রাজনৈতিক হত্যার প্রমাণভিত্তিক তত্ত্বের দিকে: ১৯৪৫ সালের পর থেকে ঘটনাগুলোর সনাক্তকরণ ও পরিমাপ’ (Toward Empirical Theory of Genocides and Politicides: Identification and Measurement of Cases since 1945) শিরোনামে ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ কোয়ার্টারলি (International Studies Quarterly) জার্নালে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। গুগল স্কলারে এই প্রবন্ধটির উদ্ধৃতির সংখ্যা ৫৯১। গবেষণায় বলা হয়, ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে আনুমানিক মৃত্যু হয়েছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩০ লাখ মানুষের।
দ্বিতীয়ত, ক্লিনজেন্ডেল ইনস্টিটিউটের গবেষক ও লেখক মিল্টন লেইটেনবার্গ ২০০৬ সালে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘বিশ শতকে যুদ্ধ ও সংঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা’ (Deaths in Wars and Conflicts in the 20th Century) নামে একটি বই প্রকাশ করেন। গুগল স্কলারে এর উদ্ধৃতি সংখ্যা ৩০৫। বইটির ১৫ নম্বর পৃষ্ঠার সারণি অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আনুমানিক ১৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল।
তৃতীয়ত, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রুডলফ জোসেফ রুমেল ১৯৯৭ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘গণহত্যার পরিসংখ্যান: ১৯০০ সালের পর থেকে গণহত্যা ও ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ’ (Statistics of Democide: Genocide and Mass Murder since 1900) নামে একটি বই প্রকাশ করেন। গুগল স্কলারে এর উদ্ধৃতি সংখ্যা ৩১৪। বইটির অষ্টম অধ্যায় অনুযায়ী, ২৬৭ দিনের মুক্তিযুদ্ধে আনুমানিক ১৫ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
উচ্চতর উদ্ধৃতি সংখ্যা, নির্ভরযোগ্য প্রকাশনালয় এবং গবেষকদের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতার কারণে ওপরের তিনটি গবেষণা বিবেচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বাংলাদেশী, পাকিস্তানি বা ভারতীয় গবেষকদের আর্থিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক বা অন্য কোন ধরণের স্বার্থ থাকতে পারে এবং তাদের গবেষণাগুলোও পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। সুতরাং, এই লেখায় অরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরের কিছু গবেষকের তিনটি গবেষণা বিবেচনা করা হয়েছে। গবেষণাগুলোর ভিত্তিতে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩০ লাখের মধ্যে। এগুলোর বাইরেও অনেক মানসম্মত গবেষণা আছে যেখানে সংখ্যাটির বিষয়ে বেশ তারতম্য থাকলেও ৩০ লাখের পাল্লাই ভারী।
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সংখ্যায় এত বড় তারতম্য কেন? প্রথমত, সংখ্যাগুলো গবেষকদের পরিসংখ্যানগত অনুমান এবং বিভিন্ন গবেষক তাদের অনুমান প্রক্রিয়াতে বিভিন্ন পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। দ্বিতীয়ত, কিছু গবেষক তাদের অনুমান প্রক্রিয়ায় যুদ্ধের সময় অনাহারে, মহামারীতে বা অন্য কোনো কারণে সারা দেশে এবং ভারতের শরণার্থী শিবিরের মৃত্যুকে বিবেচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ এই ধরনের মৃত্যুকে বিবেচনা করেননি। তৃতীয়ত, তথ্য-প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে এসেও কি আমরা ২০২৪-এর মাত্র ৩৬ দিনের গণআন্দোলনে প্রকৃত শহীদের সংখ্যা বলতে পারি? জাতিসংঘ বলে সংখ্যাটি প্রায় ১৫০০, কিছু মিডিয়া বলে ২০০০, আবার কেউ বলে ৩০০০। এবার বলুন, কিভাবে আপনি প্রায় অর্ধ-শতাব্দী আগের প্রযুক্তিবিহীন এক যুগে প্রায় ‘নয় মাস’ ধরে চলা যুদ্ধে শহীদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করেন?
আমি দায়িত্বের সঙ্গে বলছি, আপনি এমন কোনও বিশ্বাসযোগ্য গবেষণা পাবেন না, যেখানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা তিন লক্ষ বলা হয়েছে। তবে, কেন ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত সত্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন?
অনেকের কাছে মনে হতে পারে, মুক্তিযুদ্ধ অনেক পুরাতন বিষয় এবং ইতিহাস চর্চায় কালক্ষেপণ না করে, বর্তমানে জনগণের মৌলিক চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত। আমিও আপনাদের সঙ্গে একমত কিন্তু কেন একদল মানুষ দেশ ও দেশের জন্মের প্রতিষ্ঠিত সত্যগুলোকে কোন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বারবার বিতর্কিত করছেন? কেন নিজের জন্মকে দুর্ঘটনা বা গন্ডগোল বলছেন? কেন দেশের বীর সন্তানদের হাইজ্যাকার বলে গালি দিচ্ছেন? ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকা উচিত নয় কিন্তু বিকৃত করা কি শোভনীয়?