০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা আর মুক্তিযুদ্ধের নতুন বয়ান তৈরির চেষ্টা কি সংসদকে অস্থির করে তুলছে? স্পিকারের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো কি কোনো গভীর সংকটের ইঙ্গিত?
একাত্তরের পরাজিত শক্তি যে চব্বিশের অভ্যুত্থানকে ঢাল বানিয়ে নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে চাইছে তা সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষেরই বোঝার কথা।
মুক্তিযুদ্ধকে যারা ‘ভাইয়ে-ভাইয়ে ঝগড়া’ এবং ‘ভারতের ষড়যন্ত্র’ বলে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারাই পাকিস্তানের বয়ানের বৈধতাদানকারী দোস্তরূপী দুশমন।
আমরা কি আবার ইতিহাসের সেই অন্ধকার গহ্বরে ফিরে যাচ্ছি, যেখান থেকে জন্ম নিয়েছিল বিভক্তি আর বৈরিতা?
৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো কি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে ভাষণকে পাকিস্তানি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেখেছিল পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত হিসেবে, সেই ভাষণ বাজানোর ‘অপরাধে’ শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ কয়েজনকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে কুতর্ক, বুদ্ধিজীবী হত্যার দায় অস্বীকার, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা—এই সবকিছু মিলিয়ে ইতিহাস আজ আক্রমণের মুখে।
‘স্লিপ অব টাং’ থেকে শুরু করে শরণার্থী শিবির, সংবাদপত্র, গণহত্যা গবেষণা ও জনসংখ্যা বিশ্লেষণ—সবকিছু মিলিয়ে এই লেখা দেখায়, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ নিয়ে সংখ্যার বিতর্ক আসলে ইতিহাস অস্বীকারের এক রাজনৈতিক প্রকল্প।
ভাষাসংগ্রামী, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিক শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নন, তিনি ছিলেন প্রেরণার উৎস।