Published : 10 Nov 2025, 07:16 PM
বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের হাওয়া জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে—এমন ধারণা তৈরি হলেও বাস্তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে জনমনে প্রতীতি জন্মালেও একদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের এই নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা, অন্যদিকে গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র মতবিরোধ—পুরো পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, সেই শঙ্কার কালোমেঘ আদৌ কাটল বলে মনে হচ্ছে না। তাই ভোটের মাঠে বদ হাওয়ার আছর লেগেছে কিনা—তা নিয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে বারবারই বলা হচ্ছে যে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবেই। সবশেষ ৯ নভেম্বর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তার আগের দিন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও একই কথা বলেছেন। এর মধ্যে প্রেস সচিব আরেকটু জোর দিয়ে বলেছেন যে, সরকার এখন দিনরাত কাজ করছে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য।
আইন উপদেষ্টা যেদিন জোর দিয়ে বললেন যে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, সেদিনই নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের ফেইসবুক পেইজে একটি ভিডিও শেয়ার করেছে, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনাররা আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন। ভোট যে একটি পবিত্র আমানত সেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন। এবারের নির্বাচন যে ইসির জন্য একটি ‘মাইলফলক’—প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দীন সে কথাও বলেছেন।
বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পরে…
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বিএনপি। শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও বরাবরের মতো এবারও তিনটি আসন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করবেন। তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করবেন বগুড়া-৬ আসনে।
অনেকেই মনে করেন, প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিএনপি হয়তো নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা কাটাতে অন্তর্বর্তী সরকার, জামায়াত ও এনসিপির ওপর চাপ তৈরি করতে চাচ্ছে। অর্থাৎ যাতে কোনোভাবেই ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনটা ঝুলে না যায়। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের বৈঠকের (১ নভেম্বর) একদিন পরেই বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বিএনপির এই প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ট্রেন চলা শুরু করেছে বলে অনেকের মনে ধারণা তৈরি হয়েছে। এমনকি বিএনপি যেদিন প্রার্থী ঘোষণা করল সেদিনই এনসিপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা কোন কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন, সেই তালিকাও সংবাদমাধ্যমে আসে। কিন্তু দেখা গেল, জাতীয় নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের ওপর গণভোটের দাবিতে জামায়াত ও কয়েকটি ইসলামীপন্থী দল একাট্টা।
জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল পাঁচ দফা দাবি আদায়ে ১১ নভেম্বর রাজধানীতে মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মহাসমাবেশ লক্ষ লক্ষ জনতার পদভারে মুখর হওয়ার আগে সরকার যদি পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাই সনদের গণ–আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করে তাহলে ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে।
জামায়াতসহ ৮ দলের দাবিগুলো হলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং ওই আদেশের ওপর নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করা; আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে বা উচ্চকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা; ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে—এই দাবির সঙ্গে জামায়াত ও তাদের সমমনা দলগুলো একমত নয়। বরং জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মনে করেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি পিছিয়েও যায়, তারপরও আগে গণভোট হতে হবে। যদিও ৮৪টি সুপারিশ ও ৭টি অঙ্গীকারসম্বলিত জুলাই সনদের ওপর একটি প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান না থাকায় এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। উপরন্তু কোনো বিষয় সংসদে পাস হওয়ার আগেই কী করে গণভোটে যায়, সেই তর্কেরও মীমাংসা হয়নি।
অর্থাৎ জুলাই সনদের ওপর গণভোটের আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নেরই যেখানে সুরাহা হয়নি, সেখানে জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার ও সংসদ গঠনের আগে গণভোটের দাবি প্রকারান্তরে জাতীয় নির্বাচনকেই অনিশ্চিত করে তুলবে কি না—সেই প্রশ্ন যেমন আছে, তেমনি জামায়াত ও অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোর এই আন্দোলন নির্বাচনে আসন সমঝোতা এবং নির্বাচনের পরে ক্ষমতার অংশ হওয়ার জন্য দর-কষাকষির কৌশল কি না—সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দ্রুতই হয়তো বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে।
১৩ নভেম্বর কী হবে?
আগামী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে কি না বা নির্বাচনের সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়ার পরেও ভোটের দিন সারাদেশে কী ঘটবে—তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে এই নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে।
অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ পলাতক, একটি অংশ কারাগারে। ফলে নির্বাচন প্রতিহত করার মতো সাংগঠনিক শক্তি তাদের আছে কি না, সেটি যেমন প্রশ্ন, তেমনি প্রতিহত করতে না পারলেও প্রতিহত করার চেষ্টার ধরনটা কী হবে তা নিশ্চিত নয়। এরকম পরিস্থিতিতে জনমনে যদি শঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে এই ভোট নিয়ে মানুষের মনে আগ্রহ কমতে থাকবে। এমনকি অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের মতো ভোটের দিন কেন্দ্র ফাঁকা থাকার আশঙ্কা থাকবে। অভ্যুত্থানের পরে প্রথম জাতীয় নির্বাচনের এমন চেহারা নিশ্চয়ই দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা দেশবাসীর প্রত্যাশিত নয়।
নির্বাচন প্রতিহত করার এই ঘোষণার পাশাপাশি আগামী ১৩ নভেম্বর লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ আসলে কী বার্তা দিতে চাইল—সেই প্রশ্নটি অনেকের মনে আছে। প্রসঙ্গত, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় কবে হবে, তা জানা যাবে ১৩ নভেম্বর।
কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে তার একটি অডিওবার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত। অডিওতে শেখ হাসিনাকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামার নির্দেশ দিতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। জনতার জয় হবেই।’ এর চেয়েও খারাপ অবস্থায়ও আওয়ামী লীগ আন্দোলন করেছে বলেও উল্লেখ করেন।
কর্মসূচি সফল করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণাসর্বস্ব হতে পারে। বিগত দিনেও দেখা গেছে যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির সামনের সারিতে দলের পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা না থাকলে সেই কর্মসূচি জনসমর্থন পায় না। গত কয়েক মাস ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের যেসব ঝটিকা মিছিল হচ্ছে, সেখানে কোনো পরিচিত মুখ দেখা যায় না। কারণ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সকলেই হয় পলাতক না হয় জেলে। তারপরেও যদি ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ বড় ধরনের শোডাউনের চেষ্টা করে তাহলে সেটি প্রতিহত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে এখনই বলা মুশকিল।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অবশ্য এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যদি কোথাও ঝটিকা মিছিল বা সভা-সমাবেশের চেষ্টা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল সদস্যকে সে নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, আওয়ামী লীগের ডাকা ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। ৯ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় বলা হয়, লকডাউনের কর্মসূচিতে কেউ মাঠে নামলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে। পাশাপাশি আগামী কয়েক দিন ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও পুলিশের এই বাড়তি সতর্কতার ভেতরেই রাজধানীতে শাহজাদপুর এবং মেরুল বাড্ডায় ১০ নভেম্বর সকালে আধাঘণ্টার ব্যবধানে দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। একই দিনে রাজধানীর আদালত পাড়ার কাছে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ফটকে দিনে দুপুরে গুলি করা হয়েছে এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে। একই দিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তারের প্রতিষ্ঠান প্রবর্তনার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ভোরবেলায় মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে পাঠ করার সুযোগ নেই।
অতীতেও দেখা গেছে, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নাশকতা, বিশেষ করে বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনায় বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানো হলেও তার অনেক ঘটনাই ঘটানো হয়েছে বিএনপি-জামায়াতকে ফাঁসানোর জন্য। বাস্তবতা হলো, এই ধরনের তৎপরতা আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলের জন্য কল্যাণ আনে না, সেটা আওয়ামী লীগের না বুঝবার কথা নয়।
জামায়াতের নেতৃত্বে ৮ দলের কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের লকডাউন ঘিরে দেশের রাজনীতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠলে সেটি আখেরে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনিশ্চিত করে দেবে কি না—ভাববার বিষয়।
হঠাৎ কেন ‘কাদিয়ানি’ ইস্যু?
রাজনৈতিক দলগুলোর এসব কর্মসূচি এবং নির্বাচন প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের হুমকির ভেতরেই কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার ইস্যু সামনে এনেছে সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদ নামে একটি সংগঠন। গত ৫ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
প্রশ্ন হলো, এই মুহূর্তে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিটা সামনে আনার উদ্দেশ্য কী? তুচ্ছার্থে কাদিয়ানি নামে কথিত আহমদীয়া সম্প্রদায় কি কোনো নাশকতা করেছে বা এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতিতে বড় কোনো ফ্যাক্টর? সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদ ও জাতীয় নির্বাচন নিয়েই যেখানে মূল আলোচনা, সেখানে হঠাৎ করে এই ধরনের দাবিতে রাজধানীতে বড় কর্মসূচি ঘোষণার পেছনে অন্য কোনো রাজনীতি আছে কি না বা কেউ কোনো কিছুর বিনিময়ে অন্য কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে কি না, সেটিও চট করে বোঝা মুশকিল। কিন্তু কোনো না কোনো সময়ে এটা খোলাসা হয়েই যায়।