Published : 04 May 2026, 04:01 PM
ভারতের চার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের ফলে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়জয়কার অব্যাহত রয়েছে। এবার তারা তাদের দীর্ঘ-আকাঙ্ক্ষিত পশ্চিমবঙ্গেরও দখল নিতে যাচ্ছে।
সোমবার দুপুর পর্যন্ত গণনাকৃত ভোটে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় এ রাজ্যে বিজেপির বড় জয়ের আভাস মিলেছে।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ১৯৫টি এবং গত তিন মেয়াদে রাজ্যটির ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ৯২টি আসনে এগিয়ে আছে। এখনো কোনো আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি।
ফলের এ ধারা অব্যাহত থাকলে মোদীর দলই এ রাজ্যে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে পারবে। তবে ঘাসফুল শিবির এখনই হাল ছাড়তে নারাজ।
সর্বশেষ এক জরুরি বার্তায় মমতা তার দলের নেতাকর্মীদের মনোবল দৃঢ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক গণনায় বিজেপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও সেটা আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘চাল’। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল জিতবে বলেই তিনি আত্মবিশ্বাসী।
“আমি সব আমাদের কাউন্টিং এজেন্টদের, আমাদের সমস্ত পার্টির কর্মীদের বলব—অত মন খারাপ করার কারণ নেই। আমি বলেছিলাম সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন রাউন্ড, চার রাউন্ড কাউন্ট হলেও এটা ১৪ রাউন্ড থেকে ১৮ রাউন্ড কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন।
“ওয়েট অ্যান্ড সি। ওয়াচ। আমরা সবাই আপনাদের সাথে আছি। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব,” বলেছেন তিনি।
এদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়ের সম্ভাবনা বাড়ায় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উল্লাস দেখা যাচ্ছে। কলকাতায় বিজেপি অফিসে একদিকে যেমন মিষ্টি বিতরণ হচ্ছে, তেমনি ঝালমুড়িতে মেতেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা।
গতবার বিধানসভায় এ রাজ্যে তৃণমূল জিতেছিল ২১৪টি আসন, বিজেপি ৭৭।
সোমবার কেবল পশ্চিমবঙ্গই নয়, দক্ষিণের দুই রাজ্য তামিল নাড়ু ও কেরালা, এবং আসামের বিধানসভার ভোটও গণনা হচ্ছে। কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরির নির্বাচনের গণনাও একইসঙ্গে চলছে।
তামিল নাড়ুতে প্রথমবার ভোটেই বাজিমাত করেছে দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার বিজয় থালাপতির তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। তার দল ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৬টিতেই এগিয়ে আছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এমকে স্ট্যালিন নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে আছে ৬৭টিতে। তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে তাদের প্রতিপক্ষ এআইএডিএম, তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে ৬০টি আসনে।
দুই বছরের নতুন দল নিয়ে বিজয়ের এ ‘ব্লকবাস্টার’ তামিল নাড়ুর রাজনীতির মোড় বদলে দেবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। সরকার গড়তে এ রাজ্যে ১১৮টি আসন লাগবে। সেক্ষেত্রে থালাপতি ডিএমকে না এআইএডিএমকে-র হাত ধরেন, সেটাই দেখার বিষয়।
তামিল নাড়ুতে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) নেতৃত্ব দিচ্ছে এআইএডিএমকে। পুদুচেরিতে এ দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছে এন রঙ্গস্বামীর অল ইন্ডিয়া এন আর কংগ্রেস (এআইএনআরসি)।
কেন্দ্রশাসিত এ অঞ্চলে এবারও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটই ক্ষমতায় বসতে চলেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত গণনায় এনডিএ জোটের প্রার্থীরা এখানকার ৩০টি আসনের ১৭টিতে এগিয়ে আছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইনডিয়ার প্রার্থীরা এগিয়ে মাত্র ৮টিতে। বিজয়ের টিভিকে এখানে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পথে, তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে ২টি আসনে।
কেরালায় টানা দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা বামেদের ভরাডুবির লক্ষণ স্পষ্ট। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলে মনে হচ্ছে, দক্ষিণের এ রাজ্যটিতে এক দশক পর সরকার গড়তে যাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)।
বিকাল ৩টা পর্যন্ত পাওয়া ফলে রাজ্যটির ১৪০ আসনের মধ্যে ৯১টিতেই এ জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে, বামদের এলডিএফ জোট এগিয়ে মাত্র ৩৪টি আসনে।
গতবার এ রাজ্যে ইউডিএফ মাত্র ৪০টি আসন ব্যাগে পুরতে পেরেছিল, এলডিএফ পেয়েছিল ৯২টি।
আসামে হ্যাটট্রিক জয়ের পথে রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। সর্বশেষ পাওয়া ফলে তাদের ৯৯টি আসনে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কংগ্রেস ও তার মিত্ররা এগিয়ে মাত্র ২৩টিতে।