Published : 18 Jun 2026, 09:12 PM
দীর্ঘ ১৫ বছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতায় থাকার পর নির্বাচনে হেরে ভাঙনের মুখে পড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবার দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
দলীয় কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের চলমান বিরোধের জেরে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেনে বিধিনিষেধ আরোপ করতে এইচডিএফসি ব্যাংকের প্রধান শাখায় চিঠি দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, যিনি নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ বলে দাবি করছেন।
আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, অরূপ বিশ্বাস এখন তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ নন। সম্প্রতি তার বদলে তৃণমূলের নতুন কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন দলের সাবেক এমপি শুভাশিস চক্রবর্তী। কিন্তু ব্যাংকে দেওয়া চিঠিতে অরূপ দাবি করেছেন, তিনিই এখনও দলের কোষাধ্যক্ষ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই এর বরাতে বৃহস্পতিবার দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের ভেতরে চরম নেতৃত্ব সংকট ও ‘নজিরবিহীন ভাঙনের’ প্রেক্ষাপটে অরূপ বিশ্বাস এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
গত ১২ জুন এইচডিএফসি ব্যাংকের কাছে তার লেখা দুই পৃষ্ঠার একটি চিঠি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে পিটিআই স্বাধীনভাবে এই চিঠির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পিটিআই লিখেছে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তারা অরূপ বিশ্বাসকে ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।
সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো চিঠিতে দেখা হয়, অরূপ বিশ্বাস দলের অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আবেদন করেছেন। সেইসঙ্গে নেতৃত্বের বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের টাকা তোলা বা অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস দাবি করেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু গোষ্ঠী নিজেদের দলের বৈধ প্রতিনিধি এবং পদাধিকারী হিসেবে দাবি করছে। এর ফলে তৃণমূলের নামে থাকা অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা করার প্রকৃত কর্তৃত্ব কার হাতে, তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘যথাযথ কর্তৃত্ব না থাকা’ ব্যক্তিরা দলের তহবিল ব্যবহার বা আত্মসাৎ করতে পারে।
দলীয় কোন্দলের সুযোগ নিয়ে আগে থেকে সই করা চেকগুলোর অপব্যবহার বা অননুমোদিতভাবে টাকা তোলার জন্য ব্যাংকে জমা দেওয়া হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এ বিষয়ে দলের ভাঙনের মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়া তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ বলেন, “আমরা এই ব্যাপারে কিছুই জানি না। অরূপ বিশ্বাস কিংবা ব্যাংক, কারো সঙ্গেই আমাদের কোনো কথা হয়নি।”
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের বরাতে দেশটির আরেক সংবাদ মাধ্যম নিউজ১৮ এর খবরে বলা হয়, ২০ জন এমপি এবং ৫৮ জন বিধায়কের বিদ্রোহের পর অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে যে, রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি এখন আর্থিক ও আইনি নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেও চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে তৃণমূল।
অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টগুলোতে মোট ৬২৫ কোটি ৭৯ লাখ রুপির বেশি জমা আছে। ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে আছে ২৫০ কোটি ৭৭ লাখ রুপির বেশি। এছাড়া চেক হিসেবে তৃণমূলের কাছে আরও ৫০ কোটি রুপি থাকার কথা।