Published : 19 Nov 2025, 04:00 AM
দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন প্রধান মিজানুর রহমান সোহেলকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে রাজধানীর নতুন বাড্ডার বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী সুমাইয়া সীমা।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের বাসা থেকে সোহেলকে ডিবির (গোয়েন্দা পুলিশ) পোশাক গায়ে দেওয়া পাঁচ ব্যক্তি আটক করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ তার।
সোহেলের স্ত্রীর ভাষ্য, ওই পাঁচজনের একজন নিজেকে আশরাফুল পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান সোহেলের সঙ্গে কথা বলতে চান। এজন্য তাকে নিতে এসেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার তাকে ফিরিয়ে দিয়ে যাওয়া হবে।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সীমা বলেন, তিনি শুয়ে পড়েছিলেন, সোহেল তখনো ল্যাপটপে কাজ করছিলেন। এসময় কলিংবেলের শব্দ পেয়ে সোহেল গিয়ে দরজা খুলে দেখেন ডিবির জ্যাকেট গায়ে পাঁচজন দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন। পরে পাশের রুম থেকে তিনি এসে জানতে চান তারা কী জন্য এসেছেন। তখন ওই কর্মকর্তা সোহেলকে নিতে আসার কারণ তুলে ধরেন।
“আমি খুবই চিন্তায় পড়েছি। রাত বাজে আড়াইটা এখনো ওরা দিয়ে যায়নি। আমি অসুস্থ, আমার বাচ্চাও অসুস্থ,” যোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাতে ডিবির কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেইসবুকে পোস্টে দাবি করেছেন, সোহেলকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার সঙ্গে ঢাকা মহানগর ডিবির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা ডিবি কার্ালয়ে সোহেলকে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে সায়েরের পোস্টের ভাষ্য।
এদিকে সোহেল সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজম (সিটিজে) নামে ঢাকার তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকদের যে সংগঠনের সহসভাপতি, সেটির সাধারণ সম্পাদক সাইফ আহমাদ রাতে টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিটের সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো বার্তায় বলেন, “রাত ১২টার পর তাকে (সোহেল) বাসা থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা শুধু উদ্বেগের নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। ডিবিপ্রধান ঘটনাটি স্বীকার করলেও এত গভীর রাতে একজন সাংবাদিককে কেন এভাবে নেওয়া হল, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা অত্যন্ত জরুরি।
“আমরা সোহেলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, পূর্ণ ব্যাখ্যা ও তার দ্রুত মুক্তি দাবি করছি।"
আর রাতে সোহেলকে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া বিষয়ে ফেইসবুকের ওই পোস্টে সায়ের ডিএমপির গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে আলাপচারিতা তুলে ধরে লেখেন, “তিনি (অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল) সত্যতা স্বীকার করে জানালেন তাদের এখানেই আনা হয়েছে। কেন রাত ১২টার পর একজন গণমাধ্যম কর্মীকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে সেটা জানতে চাইলে- তিনি (ডিএমপির ডিবি প্রধান) বললেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মিজানুর রহমান সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ডিবি কার্যালয় আনা হয়েছে।”
কী কারণে ওই সাংবাদিককে মাঝরাতে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেই বিষয়েও সায়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন পোস্টে।
তিনি লেখেন, “বিশেষ একটি সিন্ডিকেটের প্ররোচনায় সাধারণ স্মার্টফোন বিক্রয়কারীদের সাথে কোনরূপ আলোচনা না করে, তাদের ব্যবসা হারানোর আশঙ্কাকে আমলে না নিয়ে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) শুরু করতে যাচ্ছিল নেদারল্যান্ডসের নাগরিক এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব।
"সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের দাবি দাওয়াতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং জনমত গঠনে বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজনে একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে পরামর্শ দিচ্ছিলেন মিজানুর রহমান সোহেল। এই সংবাদ সম্মেলন বানচাল করতে এবং ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাতে ফয়েজ তৈয়বের ইশারায় এমনটা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা।"
এ বিষয়ে গভীর রাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী তৈয়বের বক্তব্য জানতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।