বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
Published : 24 Oct 2025, 03:06 AM
যে ‘বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের’ পথ ধরে বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদসেবার সূচনা হয়েছিল, সেই চেতনা ধারণ করে পরবর্তী প্রযুক্তি বিপ্লবের ডাকে সাড়া দেবার প্রত্যয় জানিয়ে প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর উদযাপন করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর র্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের বলরুমে দেশের প্রথম ইন্টারনেট সংবাদপত্রের এই উদযাপনে শামিল হয়েছিলেন সকল মতের প্রতিনিধিরা।
বাম, ডান, মধ্যপন্থি–বাদ যাননি কেউ। ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা যেমন এসেছিলেন, তেমনি এসেছিলেন আইনজীবী আর কূটনীতিকরা। কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী-ক্রীড়াবিদ-সংগঠক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এবারের আয়োজন।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তারা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পাঠক হিসাবে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা যেমন বলেছেন, তেমন বলেছেন দেশের সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রত্যাশার কথাও।
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ঝাণ্ডা ঊনিশ বছর ধরে রাখার গল্প শুনিয়ে তার পেছনে যে দায়িত্ববোধ কাজ করেছে, তা তুলে ধরেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
সংবাদমাধ্যমের এখতিয়ারের সীমানা স্মরণ করিয়ে তিনি বললেন, “সংবাদমাধ্যম হিসেবে আমাদের কাজ খবর প্রকাশ করা। শাসন করা নয়, শাসকদের জবাবদিহির আওতায় আনাই আমাদের দায়িত্ব।”
যে কর্মদর্শন নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ১৯ বছর পথ চলেছে, সেটি এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তিন শব্দেই প্রতিপাদ্যেই স্পষ্ট–‘শুধুই সাংবাদিকতা, সবসময়!’
সন্ধ্যা ৭টার এ আয়োজন শুরুর আগে থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হতে থাকেন অতিথিরা। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতার।

বক্তৃতার পর অতিথিদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের মঞ্চে ডেকে নেন প্রধান সম্পাদক খালিদী; অতিথিদের নিয়ে কাটেন ঊনিশ বছর উদযাপনের কেক।
মঞ্চে প্রধান সম্পাদকের সঙ্গী হয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, চিন্তক ও কলামিস্ট ফরহাদ মাজহার, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, অভিনেত্রী ডলি জহুর, নারী নেত্রী শিরীন পারভীন হক, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয়রা।

কেক কাটার পর প্রধান সম্পাদক অতিথিদের সবাইকে নৈশ ভোজে আমন্ত্রণ জানান। আলো ঝলমলে বলরুমে ঘুরে ঘুরে তিনি অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিমিয় করেন। তাদের আপ্যায়ন করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ১৯ বছরের পথচলার গল্প শুনিয়ে তৌফিক ইমরোজ খালিদী তার বক্তৃতায় বলেন, “আমাদের প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন করে যেতে হয়েছে। ধরে রাখতে হয়েছে নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা আর স্বাধীনতার নীতি। ভ্রান্তিময় এক যুগে আমরা চেষ্টা করেছি আপনার কাছে আস্থা আর স্পষ্টতার প্রতীক হয়ে উঠতে।
“তবে আজকের এই রাত শুধু অতীত স্মরণ করবার জন্য নয়, এটা পরবর্তী বিপ্লবের দিকে দৃষ্টি দেওয়ারও মুহূর্ত।”

তার ভাষায়, “আগামী দশক হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। তথ্যের জগতে সত্যের জন্য লড়াইয়ের যুগ, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় নতুন এক উল্লম্ফনের যুগ। আর এই সময়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য, দ্রুত, সবার জন্য উন্মুক্ত সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা হবে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
সেই নতুন সময়ের জন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পরিকল্পনা তুলে ধরে খালিদী বলেন, “আজ আমরা অঙ্গীকার করছি, ২০০৬ সালের সেই সিদ্ধান্তের চেতনা—‘উন্মুক্ত, যতটা সম্ভব বিনামূল্যে এবং প্রথম’ থাকার যে নীতি—সেটাই আমাদের পথপ্রদর্শক থাকবে। আমরা নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করব, তবে সাংবাদিকতাকে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়, শক্তিশালী করার জন্য।

“আমরা বিনিয়োগ করব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায়—যা ক্ষমতাকে জবাবদিহিতায় রাখে; বিনিয়োগ করব সেইসব প্ল্যাটফর্মে, যা সংবাদকে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার হিসেবে রক্ষা করবে, সুযোগ হিসেবে নয়।”
দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে রেখে তিনি বলেন, “আমরা থাকব আপনাদের অগ্রযাত্রার সহযাত্রী হিসেবে, গঠনমূলক সমালোচক এবং তথ্যের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে।”
প্রধান সম্পাদকের বক্তৃতার সময় গত ১৯ বছরের বড় ঘটনার ছবি নিয়ে একটি স্লাইড শো দেখানো হয়। মাঝে ভিডিও প্রদর্শনী হয় বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের সাফল্যগাথা নিয়ে।
বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার সূচনা থেকে শুরু করে ১৯ বছরের যাত্রাপথের সচিত্র উপস্থাপন ছিল অনুষ্ঠানস্থলে। সেইসঙ্গে ছিল ডিজিটাল সংবাদ পরিবেশনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমটির নানা প্রকাশনার প্রদর্শনীও।
ঊনিশের উদযাপনকে সামনে রেখে এক প্রকাশনায় লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ নানা মত-পথের প্রতিনিধিদের লেখা এক মলাটে এনেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আনন্দ আয়োজনে কারা এলেন, কী বললেন
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনকে আরও উজ্জ্বল করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিবুন নবী খান সোহেল ও শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ডাকসুর সাবেক এজিএস ও বিএনপি নেতা নাজিমউদ্দীন আলম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নুর মোহাম্মদ খান এবং তার কনা ব্যারিস্টার নুসরাত খান, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস।
হালনাগাদ তথ্য আর খবরের জন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ওপরই আস্থা রাখার কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠক হিসাবে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখানে আমি একদম আপডেটেড ইনফরমেশনসগুলো পাই, নিউজগুলো পাই। আর তাদের যে প্রেজেন্টেশন, ডেলিবারেশনস যেটা হয়, সেটা আমার কাছে মনে হয় যে বস্তুনিষ্ঠ এবং ভালো সবদিক থেকে।”
দলের আরেক নেতা আমানউল্লাহ আমান বলেন, “সঠিকভাবে সংবাদ প্রচার করায় অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর। আমি বিশ্বাস করি, সে বাধা পেরিয়ে যেহেতু আজ এতদূর আসতে পেরেছে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম অনেকদূর যাবে।”
রাজনীতিবিদদের মধ্যে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনও অতিথি হয়ে এসেছিলেন।
নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সত্য তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
তিনি বলেন, “বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম অনেকদিন আগে থেকে আমি খেয়াল করেছি। বিগত সরকারের আমলেও অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রেখেছে দীর্ঘদিন থেকে।
“তারা শত বাধার মধ্যেও সত্য তুলে ধরছে। মানে যারা এখনো মিডিয়াতে আছে, তাদের মধ্যে আমি মনে করি এই মিডিয়াটি মোটামুটি স্বাধীনভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে।”
চিন্তক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার, গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, যাদুশিল্পী জুয়েল আইচ ও তার স্ত্রী বিপাশা আইচ, চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, লেখক খালেকুজ্জামান ইলিয়াস, গবেষক ও শিক্ষক কামালউদ্দিন কবির, কবি ও লেখক ব্রাত্য রাইসু,লেখক সাইদ আহমেদ খান ও কবি তাসনিম হোসেনও যোগ দেন এই আয়োজনে।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার স্মরণ করিয়ে ফরহাদ মজহার বলেছেন, “জনগণের অধীন থেকে গণচেতনাকে তৈরি করা গণমাধ্যমের কাজ। গণমাধ্যমের ভূমিকাটা হল, গণচেতনার উপর ভিত্তি করে একটা গণবয়ান তৈরি করা।
“একদিকে গণমাধ্যম যেমন জনগণের অধীন। আবার অন্যদিকে গণমানুষের সার্বভৌম চিন্তাকে ধারণ করে গণবয়ান তৈরি করার কাজটাও গণমাধ্যমের।”
“যা হওয়া উচিত, যা বলা উচিত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর তাই করছে” বলে মন্তব্য করেছেন যাদুশিল্পী জুয়েল আইচ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমি অন্য অনেক সংবাদ মাধ্যম থেকে এখানে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে আলাদা করে দেখি। সাহসী সাংবাদিকতার জন্য আমার পছন্দের শীর্ষে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর।”
বিচারপতি মজিবুর রহমান রহমান মিয়া ও বিচারপতি জাফর আহমেদও যোগ দেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আয়োজনে।
ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা অনুষ্ঠানে এসেছিলেন স্ত্রী মানু ভার্মাকে সঙ্গে নিয়ে।
প্রণয় বলেন, “বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বাংলাদেশকে খুব ভালোভাবে কাভার করে এবং খবরের সবগুলো দিক কাভার করে। এটা হচ্ছে এমন একটা কিছু যেটা বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বাকি পৃথিবীর সম্পর্কের বিষেয়ে তথ্যের প্রাথমিক উৎস।

“তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম দেখতে আগ্রহী হই এবং মোবাইল ফোনের জন্য এর একটা ভালো অ্যাপও আছে, যেটা ব্যবহার করা অনেক সহজ। আমি এই সুযোগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদুলওয়াহাব সাইদানি, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা, সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি ও সেকেন্ড সেক্রেটারি হিউ কক সিআঙ, কসোভোর অ্যাম্বাসেডর লুলজিম প্লানা, ভারতের উপ-হাই কমিশনার পবন বাধে, রুশ দূতাবাসের কর্মকর্তা সোফিয়া কোতেপভা ও নাদেজদা নাচারোভা, ফিলিপিন্স দূতাবাসের দুই অ্যাটাশে আর্থার এল ব্লাস ও মাইকেল রে এম ক্যাস্টিলো এসেছিলেন অনুষ্ঠানে।
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত শাহেদ আখতার, মুন্সি ফয়েজ আহমদ, নাসিম ফেরদৌসও এসেছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বর্ষপূর্তির আয়োজনে।
অনুষ্ঠানে এসেছিলেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী এবং অধিকার কর্মী ও নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক।
দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ‘আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা অর্জন করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদা কে চৌধুরী।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ১৯ বছরের দুর্বার তারুণ্যে পৌঁছে যাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "বতর্মানে তথ্যপ্রযুক্তির যেসব অপব্যবহার শুরু হয়েছে সেখানে আস্থার জায়গাটা সবার নেই৷ সে জায়গাটা ধরে রাখায় প্রতিদিনই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম খুলে দেখি।”
সাবেক মুখ্য সচিব এম আবদুল করিম, সাবেক আইন সচিব গোলাম রাব্বানী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী এবং অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা এবং ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী যোগ দেন এ আয়োজনে।
১৯ বছরের পথচলায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ‘যথাযথ সাংবাদিকতার চর্চা করে গেছে’ মন্তব্য করে সাবেক মুখ্য সচিব আবদুল করিম বলেন, “বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অনেকক্ষেত্রে না হলে আমরা আশাহত হই।
“আমরা আশা করি, দেশের উন্নয়নে সমাজের উন্নয়নে ভুলত্রুটি দেখিয়ে দেওয়া, দেশের ভাবমূর্তি বাড়াতে যথাযথ সাংবাদিকতা আমরা কামনা করি।”
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান ও বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম এসেছিলেন অনুষ্ঠানে।
সংস্কৃতিজন রামেন্দু মজুমদার, অভিনেত্রী ডলি জহুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অভিনয়শিল্পী দম্পতি রহমত আলী ও ওয়াহিদা মল্লিক জলি, তারিক আনাম খান ও নিমা রহমান, অভিনেতা মুকিত জাকারিয়া, জীতু আহসান, চিত্রনায়ক শরিফুল রাজ, সুমন পাটোয়ারী, অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, মডেল সামিনা জামান রিবা ও নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত যোগ দিয়েছিলেন এ আয়োজনে।
পাঠক হিসাবে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রামেন্দু মজুমদার বলেন, “নিরপেক্ষ এবং সঠিক সংবাদ জানার জন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম একটা আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে। বিশেষ করে শিল্প-সংস্কৃতির সঠিক খবরটা এখানে পাই এবং আমি নিয়মিত পাঠকও।”
তিনি বলেন, “সামনের দিনগুলোতেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সঠিক খবর জানাবে এবং সংবাদ প্রকাশের যে সাহস ও বলিষ্ঠতা তারা দেখিয়েছে, তা সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত রাখবে বলে আশা করি।”
সংগীত শিল্পীদের মধ্যে এসেছিলেন খুরশীদ আলম ও তার মেয়ে মেহনাজ আলম দিয়া,ফাতেমা তুজ জোহরা, ফেরদৌস আরা, অদিতি মহসিন, নকীব খান, ্ নাসিম আলি খান, পথিক নবী, দিলশাদ নাহার কণা, ফিডব্যাক ব্যান্ডের ফোয়াদ নাসের ও লাবু রহমান, শিরোনামহীন ব্যান্ডের জিয়াউর রহমান জিয়া, ব্যান্ডশিল্পী এ কে রাহুল ও তার দল।

নকীব খান বলেন, “বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের ক্ষেত্রে বিডিনিউজ একটা ভরসার জায়গা তৈরি করেছে। আমাদের চারদিকে অনেক নেতিবাচক খবরের ভিড়ে ইতিবাচক খবরকে ছড়িয়ে দিতে পাঠকেরও দায় আছে। পাঠককে ইতিবাচক খবরের দিকে আগ্রহ বাড়াতে হবে।”
আরও ছিলেন অভিনেতা ও নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু, নির্মাতা তানিম নূর, শঙ্খ দাশগুপ্ত, মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম ও অপরাজিতা সংগীতা।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, পারসোনার প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কানিস আলমাস খান, রন্ধনশিল্পী রিতা খানম, প্রাভা হেলথের পরিচালক ডা. সিমিন আক্তার, বিশ্বরঙের ডিজাইনার বিপ্লব সাহা, যথাশিল্প কর্ণধারের শাওন আকন্দ, ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেডের পরিচালক এম হক ফয়সাল সঙ্গী হয়েছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এ উদযাপনে।
শুভেচ্ছা জানাতে আসেন বাংলাদেশের বন্ধু জুলিয়ান ফ্রান্সিস, সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও এহসানুল হক বাবু, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রকাশ বিশ্বাস, আহমেদীয় মুসলিম জামায়াতের নায়েবে আমির আহমেদ তাবসীর চৌধুরী, এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান মুকুর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ, সদস্য সর্বমিত্র চাকমা ও উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া যুক্ত হয়েছিলেন এ আনন্দ আয়োজনে।
আয়োজনে যোগ দেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বিটিএমএ’র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)-এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।
অনুমাননির্ভর না হয়ে প্রকৃত ঘটনাটা কী, সাংবাদিকতায় সেটাই লেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
বিসিআই সভাপতি বলেন, “পাঠক নেতিবাচক খবরের চেয়ে ইতিবাচক ঘটনা বেশি জানতে চান। কিন্তু কোনটা মানুষ ‘বেশি খাবে’, কোন ভিউ বেশি হবে, সেটা নিয়ে লেখার প্রবণতা দেখা যায়।”

সেনা কল্যাণ সংস্থার বিজনেজ ডিভিশন-১ এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জুবায়ের হাসনাত, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিনও এসেছিলেন এ আয়োজনে।
ব্যাংকের কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান, শাহজলাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান-উজ জামান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (কান্ট্রি চিফ রিস্ক অফিসার ও সেলফ ক্রেডিট অফিসার) এনামুল হক, ট্রাস্ট ব্যাংকের হেড অব বিজনেস মাহবুব হোসেন, ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) মো. আনোয়ার হোসেন যোগ দেন অনুষ্ঠানে।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান বলেন, "আমরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পড়ি। আপনারা একটা সংবাদ লিখলে মানুষ সেটা বিশ্বাস করে।”
সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতের ইতিবাচক খবর চাই। মানুষ যেন ব্যাংকে যায়। কোনো ইতিবাচক খবর হলে আমাদের গ্রাহক বেড়ে যায়। আমরা ভুল করলে লিখবেন, তারপরও সঠিক খবরটা চাই।”
অনুষ্ঠানে এসে শুভেচ্ছা জানান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি স্থপতি আবু সাঈদ আহমেদ, ব্র্যাক ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (কমিউনিকেশন) ইকরাম কবির, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কর্মকর্তা বিটপি চৌধুরী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কো. পিএলসির জেনারেল ম্যানেজার মো. আনোয়ার হোসাইন, টিএমএফএসবিডির পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আজহার বিএন, ট্রপিকাল হাউজ লিমিটেডের পরিচালক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) এম হক ফয়সাল, এশিয়া পাবলিশিং হাউজের চেয়ারম্যান শাহেদ আখতার, এইচ আর স্পেশালিস্ট সামিনা আমিন, বিকাশের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার রুকসানা আক্তার মিলি, করপোরেট মোটভিশনাল স্পিকার গোলাম সামদানি ডন।

১৯ বছরের পথরেখা
শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালের প্রথমার্ধে। অন্যান্য বার্তা সংস্থার মত ‘বিডিনিউজ’ তখন সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য খবর সরবরাহ করত। দেশের অন্য সংবাদ সংস্থাগুলো টেলিপ্রিন্টারে খবর সরবরাহ করলেও বিডিনিউজ কাজটি শুরু করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
২০০৬ সালে বার্তা সংস্থাটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা বদলের পর এর খোল-নলচে বদলে যায়। সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ সংবাদমাধ্যমকে দেশের প্রথম ডটকম কোম্পানির রূপ দেয়। ২৩ অক্টোবর নতুন আঙ্গিকে শুরু হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৪ ঘণ্টার পথচলা।
সেই দিনটির কথা স্মরণ করে প্রধান সম্পাদক বলেন, “১৯ বছর আগের একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের মুহূর্তকে আমরা উদযাপন করছি। নিছক একটি ওয়েবসাইট চালুর ঘটনা সেটি ছিল না, সেটি ছিল ডিজিটাল যুগের দ্বার উন্মোচনের দিন।”
তিনি বলেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম তখন ছিল পত্রিকা ও টেলিভিশনের জন্য একটি সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সংবাদসেবা।
“আমরা তখনো খবর প্রকাশ করতাম, তবে তা থাকত পে ওয়ালে ঘেরা। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, সেই দেয়াল আমরা ভেঙে ফেলব। আমরা রূপান্তরিত হলাম ২৪ ঘণ্টার, সবার জন্য উন্মুক্ত একটি সংবাদমাধ্যমে, যেখানে বাংলাদেশের প্রত্যেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিনামূল্যে খবর পড়তে পারেন।”
খালিদী বলেন, “সেই মুহূর্তে আমরা যে শুধু ব্যবসার ধরন পাল্টে ফেললাম, তা নয়; আমাদের নিয়তিও বদলে গেল। সীমিত গ্রাহককে সেবা দেওয়ার বদলে আমরা পৌঁছে গেলাম বৃহৎ জনপরিসরে। দেশের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র হয়ে উঠলাম আমরা। আমাদের বিশ্বাস, পুরো বিশ্বেও এই ধরনের প্রথম সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
“সংবাদপত্রের জন্য অপেক্ষায় থাকার যুগ শেষ হয়ে গেল সেই রাতে। ঘটনা আর সংবাদ প্রচারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ঘুচে গেল। বার্তাকক্ষের প্রথাগত কর্মধারা অতীত হয়ে গেল। খবরের ভবিষ্যৎ চলে এল আমাদের স্ক্রিনে, আর সেটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।”

তার ভাষায়, “এটি নিছক কাজের ধরন বদলানো নয়, এটি ছিল একটি ইশতেহার। মানুষের জানার অধিকার যে সীমাহীন, এটি ছিল তারই ঘোষণা।
“আমরা বাজি ধরেছিলাম বাংলাদেশের কৌতুহলী মানুষের ওপর। আর আপনারা—এই ঘরে উপস্থিত প্রত্যেকে এবং বাইরের লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছেন, আমরা ভুল করিনি।”
৫ অগাস্ট পরবর্তী অস্থির সময়ে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো যখন ব্যাপক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময়ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদকীয় অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় প্রশংসা পাওয়ার কথা বলেন প্রধান সম্পাদক।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনা এক গুরু দায়িত্ব। সেজন্য দরকার বৈধ ম্যান্ডেট। সেই দায়িত্ব থাকবে এমন মানুষের হাতে, যাদের তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা আছে; যারা জটিল পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে দর কষাকষি করতে পারেন; এবং যারা সেই লাখো মানুষকে ভুলে যাবেন না, যারা ৫৪ বছর আগে আমাদের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন।
“সেই আদর্শ চিত্র থেকে আমরা এখনো বহু দূরে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে আমরা, সংবাদমাধ্যম কেবল সহায়ক ভূমিকা নিতে পারি, কখনোই মূল ভূমিকা নয়।”