Published : 01 Jul 2026, 05:31 PM
নকআউট পর্বের রোমাঞ্চের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে টাইব্রেকার ভাবনা। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচে জয়ী দল খুঁজে নিতে হয়েছে পেনাল্টি শুটআউটে। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল বলেছেন, এমন কিছুর জন্য তার দল পুরোপুরি প্রস্তুত। আর এই পর্ব তারা সেরেছেন, আগের কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের দেখিয়ে যাওয়া পথ ধরে।
শেষ বত্রিশের ম্যাচে বুধবার ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ম্যাচ শুরু হবে রাত ১০টায়। এই ম্যাচের আগের আলোচনায় এলো টাইব্রেকার প্রস্তুতি।
টাইব্রেকারে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিদায়ের পর দলগুলো আরও বেশি সাবাধানী। তবে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে ইংল্যান্ড প্রস্তুত আরও আগে থেকেই।
২০১৬ সালে সাউথগেট কোচ হয়ে আসার আগে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের রেকর্ড ছিল খুব বাজে। সাত পেনাল্টি শুটআউটের কেবল একটিতে জিততে পেরেছিল তারা, স্পেনের বিপক্ষে ১৯৯৬ ইউরোতে।
তবে সাউথগেটের কোচিংয়ে টাইব্রেকারের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি অন্য পর্যায়ে নিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফলও পায় তারা, এই সময়ে চার পেনাল্টি শুট আউটের তিনটিতে জেতে তারা।
টুখেল নিশ্চিত করলেন, ওই পরিকল্পনায় কোনো বদল আনেননি তিনি। বরং ওই একই ধারায় প্রস্তুতি নিয়েছেন ফুটবলাররা।
“বহু বছর ধরে এফএ-এর একটি কর্মসূচি রয়েছে এবং আমরা সেটা অনুসরণ করছি। আমরা প্রস্তুত। আমাদের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, খেলোয়াড়দের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে।”
এই পরিকলল্পনা থাকলেও টাইব্রেকার নিয়ে বেশ সাবধানী টুখেল।
“আমার মনে হয়, (টাইব্রেকারের) ম্যাচ পরিস্থিতি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা কঠিন। আমি থিয়েরি অঁরিকে বলতে শুনেছি, ফ্রান্সের হয়ে নিজের প্রথম পেনাল্টি শুটআউটের জন্য লাইন থেকে পেনাল্টি স্পটে হাঁটার কথা তার মনে নেই।”
প্রবল স্নায়ুচাপের টাইব্রেকারে শট নেবেন কিনা সেটা কি খেলোয়াড়দের বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবেন ইংল্যান্ড কোচ? সরাসরি উত্তর না দিয়ে টুখেল বললেন, “আমরা জানি কারা শট নেবে এবং এটাও জানি কে কার পর শট নেবে। কিন্তু যেটা জানি না সেটা হলো, কে ম্যাচ শেষ করবে।”
টাইব্রেকার নিয়ে সাউথগেটের দর্শন ছিল, এটা লটারি নয়, এখানে প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। দল নিয়মিত অনুশীলন করত এবং যতটা সম্ভব আসল ম্যাচের মতো করে করার চেষ্টা করত। যেন অনুশীলনের ওই অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাপারটি ‘মাসল মেমোরি’ দ্বারা বেশি পরিচালিত হয়।
অনুশীলনের ভিত্তিতে কে শট নেবে তা আগেভাগেই ঠিক করে রাখতেন সাউথগেট। খেলোয়ারদের উপর থেকে ভুলের দায় সরিয়ে নিতে প্রকাশ্যে সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতেন।
দীর্ঘ পথ হেঁটে আসা সতীর্থকে এগিয়ে আনতে প্রত্যকের জন্য একজন ‘বন্ধু’ ঠিক করে দিতেন সাউথগেট। যেন চাপ সবাই ভাগ করে নিতে পারে।
গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের শট নেওয়ার উপরে বিস্তারিত গবেষণা করতেন এবং তাদের শট নেওয়ার ধরন পানির বোতলে লেখে রাখতেন।
২০২০ ইউরোতে পেনাল্টি শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে জ্যাডন স্যানচো ও মার্কাস রাশফোর্ডকে মাঠে নামেন সাউথগেট। পরে তিনি বুঝতে পারেন ম্যাচের অংশ হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় তিনি তাদের দেননি। এরপর থেকে টাইব্রেকারে শট নিতে যাওয়া ফুটবলারদের আরও বেশি সময় দিতে তিনি।