০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মাথার ত্বকের সুরক্ষায় নারিকেল তেল ব্যবহারের ৩ নিয়ম

কেশপরিচর্যায় ভুলভাবে নারিকেল তেল ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2026, 07:11 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:57 PM

ঋতু পরিবর্তন, অতিরিক্ত ধুলাবালি কিংবা রুক্ষ আবহাওয়ার কারণে ‘স্ক্যাল্প’ মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়া এবং খুশকি ওঠার মতো সমস্যা খুবই সাধারণ। মাথার ত্বকের এই খসখসে ভাব তীব্র চুলকানি ও অস্বস্তির সৃষ্টি করে।

এই যাতনা কমাতে অনেকেই বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের কেমিক্যাল শ্যাম্পু বা সেরাম ব্যবহার করেন, যা অনেক সময় ত্বককে আরও বেশি শুষ্ক করে তোলে।

তবে পুষ্টি ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ খাঁটি নারিকেল তেল মাথার ত্বকের এই চটচটে ও শুষ্ক ভাব দূর করতে সহায়ক।

‘হেলথ ডটকম’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নারিকেল তেলের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজিং এবং ব্যাকটেরিয়া-রোধী উপাদান মাথার ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে চুলের স্বাস্থ্যকে ভেতর থেকে পুনর্গঠন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক ক্যারি ম্যাডোর্মা এবং বোর্ড-প্রত্যয়িত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুসান বার্ড  চুলের যত্নে নারিকেল তেল ব্যবহারের ৩টি প্রধান নিয়ম এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রতিবেদনে।

মাথার ত্বকের সুরক্ষায় নারিকেল তেল ব্যবহারের ৩ নিয়ম

মাথার ত্বকের শুষ্কতা দূর করে চুলের কোলাজেন ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা ৩টি সহজ পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন।

হেয়ার অ্যান্ড স্ক্যাল্প মাস্ক

নিয়ম: সামান্য নারিকেল তেল হালকা কুসুম গরম করে আঙ্গুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে এবং চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত সমানভাবে মালিশ করতে হবে। শ্যাম্পু করার অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে বা সারা রাত এটি চুলে লাগিয়ে রাখা উপকারী।

সুফল: এটি মাথার ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগায়, শুষ্কতা কমায় এবং চুলকে প্রাকৃতিকভাবে রেশমি ও নরম করে তোলে।

শ্যাম্পু করার আগের সুরক্ষা

নিয়ম: গোসল করতে যাওয়ার বা শ্যাম্পু করার অন্তত ৩০ মিনিট আগে হাতের তালুতে সামান্য তেল নিয়ে চুলে ভালো করে মেখে আঁচড়ে নিতে হবে।

সুফল: কড়া কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু করার সময় চুল যেন অতিরিক্ত পানি ও ক্ষার শোষণ করে শুষ্ক বা ক্ষতি না হয়, সেজন্য নারিকেল তেল চুলে সেই সুরক্ষামূলক হালকা দেয়াল তৈরি করে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত স্টাইলিং হিটার ব্যবহার করেন, তাদের রুক্ষ চুলকে সতেজ রাখতে এটি এক দারুণ থেরাপি।

কন্ডিশনারের ক্ষমতা দ্বিগুণ করা

নিয়ম: প্রাত্যহিক ব্যবহারের কন্ডিশনারের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা তরল নারিকেল তেল মিশিয়ে চুলে লাগানো যেতে পারে। অথবা কন্ডিশনারের সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবেও শুধু নারিকেল তেল চুলে ব্যবহার করা যায়। এটি চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে ডগা পর্যন্ত ২-৩ মিনিট লাগিয়ে রেখে পরিষ্কার কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

সুফল: এটি কন্ডিশনারের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতাকে বাড়িয়ে চুলের কিউটিকেলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে, যা চুলের ডগা ফেটে যাওয়া এবং কোঁকড়ানো ভাব দ্রুত রোধ করতে পারে।

সঠিক তেল নির্বাচন ও সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ডা. সুসান বার্ড সতর্ক করে বলেন, “রূপচর্চায় ভুলভাবে নারিকেল তেল ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।”

ভার্জিন অয়েলই সেরা: মাথার ত্বকের যত্নে সবসময় বোতলের গায়ে ‘আনরিফাইন্ড’ বা ‘ভার্জিন’ লেখা নারিকেল তেল বেছে নেওয়া উচিত। বাজারে প্রচলিত রিফাইন্ড বা প্রক্রিয়াজাত তেলগুলোতে ব্লিচ এবং তীব্র সুগন্ধি কেমিক্যাল থাকে, যা ত্বকে তীব্র অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে।

লোমকূপ বন্ধ হওয়া: নারিকেল তেল ঘন ও ভারী হওয়ায় এটি মাথার ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে, যা পরে তীব্র ব্রণের সৃষ্টি করে। তাই তেল ব্যবহারের পর অবশ্যই একটি মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথার ত্বক ভালো করে ধুয়ে ফেলা বাধ্যতামূলক।

খুশকি বৃদ্ধি ও তৈলাক্ত ত্বক: যাদের মাথার ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই অনেক তৈলাক্ত বা যারা ‘সেবোরিক ডার্মাটাইটিস’ নামক চর্মরোগে ভুগছেন, তারা মাথায় অতিরিক্ত তেল মাখলে খুশকির সমস্যা আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে। তাই খুব সূক্ষ্ম বা পাতলা চুল যাদের, তাদের সপ্তাহে একবারের বেশি নারিকেল তেল ব্যবহার করা অনুচিত।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

নারিকেল তেল ব্যবহারের আগে কনুইয়ের চামড়ায় সামান্য তেল লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে একটি ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া নিরাপদ, যেন কোনো অ্যালার্জির ঝুঁকি না থাকে।

পাশাপাশি শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখতে এবং চুলের গোড়া শক্ত করতে সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক।

আরও পড়ুন

চুল পড়া কমায় যেসব তেল

চুলের বৃদ্ধিতে রোজমেরি তেল

পুরুষের চুলের যত্নে পাঁচটি তেল