Published : 20 May 2026, 03:49 PM
ঘন, লম্বা ও নাটকীয় চোখের পাপড়ি ছিল আকর্ষণীয়। গাঢ় রংয়ের মাসকারা, কৃত্রিম পাপড়ি কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে লাগানো ‘এক্সটেনশন’ ঈদের সাজের অপরিহার্য অংশ ছিল।
তবে বদলেছে ঈদের সাজের ধারা। স্বাভাবিক সৌন্দর্যই এখন ফ্যাশনেইবল সাজ।
“সেই পরিবর্তনের ধারাতেই ঈদের দিন চোখ সাজানো যায় ‘ঘোস্ট ল্যাশ’ স্টাইলে। খুব হালকা, প্রায় অদৃশ্য কিন্তু পরিচ্ছন্ন ও কোমল এই চোখের সাজে চোখে আসবে প্রাকৃতিক লুক”, বলেন জারা'স বিউটি লাউঞ্জ অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টারের প্রধান ফারহানা রুমি।
স্বাভাবিক সৌন্দর্যে ঈদের সাজ
সাজগোজে অতিরিক্ত ভারীভাবের বদলে সহজ, স্বস্তিদায়ক ও বাস্তবধর্মী সৌন্দর্যই গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রবণতার সঙ্গে আসা ‘ঘোস্ট ল্যাশ’ স্টাইলে চোখের পাপড়ি কৃত্রিমভাবে মোটা বা অত্যন্ত লম্বা দেখানোর চেষ্টা থাকে না।
বরং স্বাভাবিক পাপড়ি সামান্য পরিচর্যার মাধ্যমে সুন্দর করে তোলা হয়।
এই রূপ-বিশারদের ভাষায়, “ভারী মাসকারা ছাড়াই স্বাভাবিক বা প্রায় খালি চোখের পাপড়ি মুখের অন্য অংশকে আরও বেশি উজ্জ্বল করে তোলে।”
‘ঘোস্ট ল্যাশ’ নাম যে কারণে
এই সাজের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, অদৃশ্য উপস্থিতি। মানে চোখের পাপড়িতে খুব সামান্য পরিবর্তন আনা হয়। ফলে দূর থেকে বোঝা যায় না কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়েছে কি-না। সে কারণে এর নাম হয়েছে ‘ঘোস্ট ল্যাশ’ বা অদৃশ্যরূপী হালকা উপস্থিতির পাপড়ি।
এটি আসলে ‘নো-মেইকআপ’ সাজেরই একটি অংশ।
ভারী মাসকারা থেকে ক্লান্তি
ভারী প্রসাধনী অনেক সময় চোখের পাপড়ির ক্ষতি করে। এছাড়া প্রতিদিন মাসকারা লাগানো ও পরিষ্কার করার কারণে পাপড়ি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আবার দীর্ঘদিন কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহারে স্বাভাবিক পাপড়ি ঝরে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।
এক্ষেত্রে বিকল্প সাজে চোখের সৌন্দর্য থাকবে, আবার অতিরিক্ত চাপও থাকবে না। ‘ঘোস্ট ল্যাশ’ সেই চাহিদাই পূরণ করছে।
কম সাজেও আত্মবিশ্বাস
আগের ধারণা অনুযায়ী, চোখে গাঢ় মাসকারা না থাকলে সাজ অসম্পূর্ণ লাগে। তবে স্বাভাবিক চেহারাও সমান সুন্দর হতে পারে।
এই রূপ-বিশারদ বলেন, “সব ধরনের সাজে ভারী চোখের পাপড়ি প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও মাসকারা পুরো সাজের কোমলতা নষ্ট করে দিতে পারে। তাই হালকা বা প্রায় খালি পাপড়ি শান্ত, স্বচ্ছ ও স্টাইলিশ আভা এনে দেয় মুখে।”
যেভাবে পাওয়া যায় এই স্বাভাবিক ‘লুক’
চোখের ওপরে ভেতরের রেখায় হালকা উজ্জ্বল রংয়ের আইলাইনার ব্যবহার করলে, চোখে কোমল গভীরতা আসে। তবে সেটা ভারী দেখায় না।
পাশাপাশি পাপড়ির গোড়ায় হালকা মাসকারার ছায়া ব্যবহার করলে একেবারেই স্বাভাবিক দেখায়।
এছাড়া স্বচ্ছ বা বাদামি রঙের হালকা মাসকারাও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চোখের পাপড়ি কিছুটা গোছানো দেখায়, তবে অতিরিক্ত নাটকীয় লাগে না।
পাপড়ির যত্নে গুরুত্ব
‘ঘোস্ট ল্যাশ’ সাজের পাশাপাশি চোখের পাপড়ির যত্ন নেওয়া একটি ধারা। ঈদের আগে চোখের পাপড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বিশেষ সেরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পাপড়ি স্বাভাবিকভাবেই ঘন ও স্বাস্থ্যবান হয়।
আরও পড়ুন