Published : 02 Jan 2026, 01:44 PM
সব ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা লাভ করে না। দুই পক্ষের আন্তরিকতা থাকার পরও অনেক সম্পর্ক পরিস্থিতির কারণে অসমাপ্ত থেকে যায়।
জীবনে এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। কখনও কখনও বিচ্ছেদের পর দুজনের মধ্যে শ্রদ্ধা-সম্মানের অবশিষ্টও থাকে না। সম্বোধন ‘তুমি’ থেকে ‘তুই’-এ নেমে আসে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে গড়ায়, আক্রোশে কেউ কেউ একে অপরের ক্ষতি করতেও দ্বিধা করেন না।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান দিনা এ বিষয়ে পরামর্শ দেন।
ভালোবাসার সারাংশ হল আরেকজনকে সুখী রাখা। তাই বিচ্ছেদের পরও প্রাক্তনের মঙ্গল কামনা করা উচিত।
হঠাৎ দেখা হলে অনেকে আবেগ নিয়ন্ত্রণের ভয়ে কথা এড়িয়ে যান। তবে মুখোমুখি হলে অন্তত সৌজন্যমূলক আলাপ করা যায়। একটি স্বাভাবিক হাসিও ভদ্রতার প্রকাশ ঘটাতে পারে।
কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, সম্পর্ক ভেঙে গেলে শ্রদ্ধা দেখানোর প্রয়োজন কী?
জীবনের প্রতিটি প্রচেষ্টায় সাফল্য আসে না, ভালোবাসাতেও তাই। চেষ্টা করার মধ্যেই সার্থকতা নিহিত।
নিরন্তর ভালোবাসতে পারার মধ্যে ভালোবাসার সৌন্দর্য। প্রেমে পড়তে একটি মুহূর্তই যথেষ্ট, কিন্তু বিচ্ছেদের পর কুৎসা রটালে নিজের সামাজিক ‘ইমেজ’ও ক্ষুণ্ন হয়। তাই ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা জরুরি।
ভেঙে যাওয়া সম্পর্ককে প্রকৃত ভালোবাসা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে—যা অনির্বচনীয় এবং অমর।
ডা. ফারজানার মতে, “বিচ্ছেদের পর নিজের অনুভূতির যত্ন নেওয়া অপরিহার্য। বিচ্ছেদকে মেনে নিয়ে কাছের বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করলে মানসিক চাপ কমে। এতে সামনে এগোনো সহজ হয়। তবে সেই ব্যক্তি নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”
হঠাৎ প্রাক্তনের সঙ্গে দেখা হলে প্রথমে নিজের প্রতি যত্নশীল হোন। পরিপাটি পোশাক, সতেজ চেহারা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। ভাবনায় নিয়ন্ত্রণ আনুন— প্রাক্তনকে মানসিকভাবে ‘ডিলিট’ করার চেষ্টা করুন।
ভাঙা সম্পর্ক আর আগের মতো ফিরে আসে না, তাই প্রত্যাশা ত্যাগ করে বিচ্ছেদ মেনে নিন। এতে আকস্মিক দেখায় শান্ত থাকা সম্ভব হবে।
মুখ নিচু করে বা না দেখার ভান করে চলে যাওয়া উচিত নয়। বরং স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যান। শান্ত স্বরে সংক্ষিপ্ত কথা বলুন, বিনয় ও ভদ্রতা বজায় রাখুন।
শব্দচয়নে অভিযোগ বা আক্ষেপের সুর এড়িয়ে চলুন। সাধারণ শুভকামনা জানিয়ে মৃদু হাসি দিয়ে কথোপকথন শেষ করুন। দীর্ঘ গল্পের প্রয়োজন নেই।
এমন আচরণ নিজের পরিপক্বতা প্রকাশ করে এবং প্রকৃত ভালোবাসার সাক্ষ্য বহন করে। বিচ্ছেদের পরও শ্রদ্ধা ধরে রাখলে মানসিক শান্তি আসে এবং জীবন সামনে এগোয়।
আরও পড়ুন
প্রাক্তনের সঙ্গে কি বন্ধুত্ব রাখা সম্ভব?