কাজে আত্ম-অনুপ্রেরণা না পাওয়া হতে পারে ‘এভোলিশন’য়ের লক্ষণ

“এভোলিশন হল লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো কাজে প্রয়োজনীয় মনোযোগ ও আচরণের ঘাটতি।”

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2024, 06:14 AM
Updated : 6 Feb 2024, 06:14 AM

অনেক কাজ বাকি কিন্তু কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না।

অনেক সময় আমরা কাজের আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা এমনকি স্বতঃস্ফূর্ততা হারিয়ে ফেলি। ফলে হয়ত কাজের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়।

যে কোনো মানুষের মনে অনুপ্রেরণার অভাব দেখা দিতে পারে। ফলে কাজ সম্পন্ন করার আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পায়। তবে চরম মাত্রায় অনুপ্রেরণা বা লক্ষ্য অর্জনে কাজ করার আগ্রহ হারানোকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হচ্ছে ‘এভোলিশন’।

এভোলিশন বলতে যা বোঝায়

রিয়েলসিম্পল ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্কিন ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানী ও সাফল্যের প্রশিক্ষক ওয়েন্ডি ও’কনার ব্যাখ্যা করেন, “এভোলিশন হল লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো কাজে প্রয়োজনীয় মনোযোগ ও আচরণের ঘাটতি।”

মাঝেমধ্যেই কাজে অনীহা আসতে পারে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। যা জীবনে বিষণ্নতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করে তিনি।

এটা হতাশা, বাইপোলার ডিজঅর্ডার এবং সিজোফ্রেনিয়ার মতো রোগের সাথে সম্পর্কিত।

যে কারণে মানুষ অনুপ্রেরণা হীনতায় ভোগে

‘এভোলিশন’ কিংবা সাধারণ মনোযোগের ঘাটতি যে কোনো কারণেই হতে পারে।

ও’কনার বলেন, “সারাদিন সকল কাজে শতভাগ অনুপ্রেরণার মাত্রা ধরে রাখার চিন্তা করাও অবাস্তব।”

“অনুপ্রেরণা সুখ, পরিপূর্ণতা এবং সাফল্য তৈরিতে কাজ করে যা অনেকটা আবহাওয়া পরিবর্তনের মতো কার্যকর” মন্তব্য করেন ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক এই মনোচিকিৎসক।

অনুপ্রেরণার ঘাটতি বর্তমান সমাজে বেশ পরিচিত রূপ। মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো বা খারাপ যেমনই হোক না কেনো অনুপ্রেরণা জরুরি। এটা যেহেতু স্থায়ী নয় তাই ফলাফলও অনিশ্চিত।

সমাজে অনুপ্রেরণার ঘাটতি দেখা দেওয়ার অন্যতম কারণ হল- অধিকাংশ লোকই এখানে অতি অভিভূত, বিভ্রান্ত, মানসিক চাপ গ্রস্ত এবং কষ্ট অনুভব করে থাকেন।

ও’কনর বলেন, “ফলে মনোবলের মাত্রার তারতম্য ঘটে।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, “জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে অনেকেরই পর্যাপ্ত অনুপ্রেরণা ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বর্তমানে অন্যে কতটা সফল তার প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়, কতটা সুখী জীবন কাটায় তার ওপরে নয়।” 

এভোলিশন দেখতে বা অনুভবে কেমন?

ও’কনর বলেন, “এভোলিশন’ একেক জনের কাছে একেক রকম।”

অনেকের ক্ষেত্রে এটি মেসেজ অথবা ই-মেইলে সাড়া দেওয়ার সাথে সম্পর্কিত, অনেকের কাছে এটা দেখতে কোনো কাজকর্ম ছাড়াই দিনে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন চুপচাপ বসে থাকা।

কারও কারও ক্ষেত্রে এটি অপরিচ্ছন্নতা এবং নিজের প্রতি অযত্নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটা এক ধরনের আগ্রহ হ্রাসের লক্ষণ যা কাজের মাঝে পক্ষাঘাত গ্রস্তের মতো অনুভূতি দেয়।

যখন এভোলিশন নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন

যখন কোনো কাজকে অসম্ভব বলে মনে হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়- অভ্যন্তরীণ, বাহ্যিক, ছোট বা বড় যেমন কাজই হোক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তখন তীব্র ‘এভোলিশন’ অনুভূত হতে পারে।

ও’কনর বলেন, “যদি অনুপ্রেরণা, আগ্রহ ও নিজের স্বাধীনতার ঘাটতি মনে হয় এবং সেটা সাময়িক না হয়ে থাকে তাহলে অন্যের সহযোগিতা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।”

আচরণগত সক্রিয়তা

মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে আচরণগত কিছু কৌশলের সুপারিশ করেন, ও’কনর। অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি ঘন ঘন জ্ঞানীয় আচরণগত থেরাপি (সিবিটি) ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, “অনুপ্রেরণার ঘাটতি দেখা দিলে লক্ষ্য অর্জনের জন্য, লক্ষ্যে সফল হয়েছেন এমন একটি মিথ্যা ভান করতে হবে। কারণ অনেকেই মনে করেন অনুপ্রেরণা যে কোনো কাজে আগ্রহ বা যে কোনো কাজের সক্রিয়তার প্রাথমিক স্তর হিসেবে কাজ করে।”

এতে মানুষ ক্ষুদ্রতম পদক্ষেপ ও অনুপ্রেরণায় উদ্ভাসিত হয় ফলে কাজটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও আগ্রহের মনে হয়।

সাময়িক বিরতি নেওয়া

লক্ষ্য অর্জনের আগে কাজে আচরণগত সাময়িক বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দেন. ও’কনর।

প্রকৃতপক্ষে, কাজে খুব বেশি তাড়াহুড়া করাও অনুপ্রেরণা নষ্ট করতে পারে। বিরতি দিয়ে কাজ করার ফলে অনুপ্রেরণা পুনরায় লাভ করা যায় এবং কাজটি সহজে করা হয়।

তবে কাজে এতটাও বিরতি দেওয়া উচিত নয় যা কি-না বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে। আর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং পুনরায় মনোবল জোগাতে পারে এমন সাময়িক বিরতি দেওয়াই ভালো।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া

অনুপ্রেরণা বাড়াতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা, সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও তার সমাধানে ভূমিকা রাখে।

এছাড়াও কেউ চাইলে শুরুতে চিকিৎসক অথবা মনোগবেষকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করলেও উপকার পেতে পারে।

ভালোবাসার মানুষদের কাছ থেকে সহযোগিতা চাওয়া

যদিও বিশেষজ্ঞরা সমস্যা সমাধানের সহায়তা করে।

তবে ও’কনর বলেন, “স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে এবং সুস্থ রুটিন অনুসরণ করে চলতে ভালোবাসার মানুষদের সহায়তার প্রয়োজন আছে।”

যদি দেখা যায় কাছের বন্ধু এই ধরনের কোনো সমস্যায় পড়েছে তাহলে তার দিকে সহভাগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

ও’কনর, এমন মানুষদের সান্নিধ্যে থাকার পরামর্শ দেন যারা বিপদে পাশে দাঁড়ায়, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় এবং কঠিন সময়ে অনুপ্রেরণা দান করে।

আরও পড়ুন

Also Read: একাকী জীবনেও সুখী হওয়া যায়

Also Read: ক্ষমাশীল হওয়ার উপায়

Also Read: ক্লান্তিতে ঘুম না আসার কারণ