নন-স্টিক প্যানে খাবার লেগে যায় কেন?
রান্না সহজ করতে ননস্টিক প্যান কেনা, আর কিছুদিন পরেই সেই প্যানে খাবার আটকে গেলে বিরক্ত হওয়া স্বাভাবিক।
প্যানের প্রলেপের ক্ষয়, অতিরিক্ত তাপ বা পরিষ্কারের পদ্ধতি- কারণ যেটাই হোক, রান্নার সময় খাবার লেগে যাওয়া বা পরিষ্কার করতে বেগ পাওয়ার মানে, পাত্রটি নষ্ট হয়ে গেছে নাকি ব্যবহারের কোথাও ভুল হচ্ছে?
এই বিষয়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “নন-স্টিক প্যানে খাবার আটকে যাওয়ার প্রধান কারণ হল, এর ওপরের বিশেষ প্রলেপের কার্যকারিতা কমে যাওয়া।”
নতুন প্যানে সাধারণত খাবার সহজে সরে যায়। তবে নিয়মিত ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে প্রলেপ ক্ষয় হতে থাকে।
“প্যান ব্যবহারের সময় অসতর্কতার কারণে এই ক্ষয় দ্রুত হতে পারে। ফলে একসময় প্যানটি আর আগের মতো খাবার ছাড়তে পারে না”, মন্তব্য করেন তিনি।
প্রলেপ নষ্ট হওয়ার কারণ
নন-স্টিক প্যানের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে এর ওপরের মসৃণ প্রলেপের ওপর।
এই প্রলেপ অক্ষত থাকলে খাবার সহজে আটকে যায় না। তবে অতিরিক্ত তাপ, ঘষাঘষি বা ভুলভাবে পরিষ্কার করার কারণে এর ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষ করে খুব বেশি আঁচে দীর্ঘ সময় প্যান গরম করলে প্রলেপের স্থায়িত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অনেক সময়ে দ্রুত রান্না করার জন্য চুলার আঁচ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আবার প্যান খালি অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ গরম করেও রাখা হয়।
অতিরিক্ত তাপে প্যানের প্রলেপের ওপর চাপ পড়ে। তাই সাধারণত কম থেকে মাঝারি আঁচে রান্না করাই ভালো। রান্নার ধরন অনুযায়ী তাপমাত্রা ঠিক করতে হবে। অকারণে খুব বেশি আঁচ ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্যান পরিষ্কারের পদ্ধতিও এর স্থায়িত্বের ওপর প্রভাব ফেলে। সময় বাঁচাতে নন-স্টিক প্যান পরিষ্কারের জন্য শক্ত বা ধারালো উপাদানের বাসন ধোয়ার মাজুনি ব্যবহার করা এবং তাপ, পানি ও পরিষ্কারের প্রক্রিয়া প্যানের প্রলেপের ক্ষতি করতে পারে।
আবার ধাতব খুন্তি, চামচ বা ধারালো কোনও উপকরণ ব্যবহার করলে প্যানের প্রলেপে আঁচড় পড়তে পারে।
খাবার নেড়েচেড়ে দেওয়া বা তুলে নেওয়ার সময় এসব উপকরণ ব্যবহার করলে ক্ষতি আরও বাড়ে।
“প্রথমে আঁচড় খুব ছোট মনে হলেও নিয়মিত ব্যবহারে তা বাড়তে পারে। তাই নন-স্টিক প্যানে রান্নার সময় কাঠের বা তাপসহনশীল নমনীয় উপকরণ ব্যবহার করা ভালো”, পরামর্শ দেন তাসমিয়া জান্নাত।
পরিষ্কারের সময় বাড়তি সতর্কতা
নন-স্টিক প্যান ব্যবহারের পর পরিষ্কার করার সময় তাড়াহুড়া না করাই ভালো। রান্না শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম প্যান ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনে প্যানের উপাদানের ওপর চাপ পড়তে পারে।
বরং চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা হতে দেওয়ার পরামর্শ দেন, এই অধ্যাপক। এরপর নরম স্পঞ্জ, পানি ও অল্প সাবান দিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করতে হবে।
প্যানে খাবার লেগে গেলে শক্ত খুন্তি, তারের জালি বা ধারালো কিছু দিয়ে তোলার চেষ্টা করা যাবে না। এতে প্রলেপে আঁচড় পড়তে পারে।
বরং কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে নরম স্পঞ্জ দিয়ে পরিষ্কার করাই সঠিক উপায়। এছাড়া প্যান পরিষ্কারের পর ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে শুকিয়ে রাখাও জরুরি।
কারণ ভেজা অবস্থায় অন্য বাসনের সঙ্গে গাদাগাদি করে রাখলে, প্যানের গায়ে ঘষা লেগে ক্ষতি হতে পারে।
তবে একটির ওপর আরেকটি প্যান বা হাঁড়ি রাখার অভ্যাস থাকলে মাঝখানে নরম কাপড় বা প্যানের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ আবরণ রাখা ভালো।
এতে বাসন সরানো বা রাখার সময় একটির সঙ্গে অন্যটির ঘষা লাগে না।
নষ্ট প্রলেপ কি আবার ঠিক করা যায়?
একবার নন-স্টিক প্যানের প্রলেপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্ভরযোগ্য কোনও উপায় নেই। রান্নার আগে প্যান কিছুটা গরম করে তেল ব্যবহার করলে খাবার আটকে যাওয়ার সমস্যা সামান্য কমতে পারে।
তবে এতে পুরানো প্যান নতুনের মতো হয়ে যায় না।
সব রান্নার জন্য নন-স্টিক নয়
নন-স্টিক প্যান আসলে এমন কিছু খাবার তৈরিতে সুবিধাজনক, যেগুলো সহজে লেগে যায়। যেমন- ডিম ভাজা, ডিমের ঝুরি, পিঠা বা অল্প তেলে রান্না করা কিছু খাবার।
তবে প্রতিদিনের সব ধরনের রান্নার জন্য নন-স্টিক প্যানের প্রয়োজন নেই।
বরং ঢালাই লোহার প্যান বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রও নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে খাবার আটকে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।
তাই বেশি তাপে রান্না বা দীর্ঘ সময় ধরে রান্নার ক্ষেত্রে উপযুক্ত পাত্র বেছে নেওয়া উচিত।
