অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্নায় ঝুঁকি

বিশেষ করে কমে যেতে পারে শিশুর বুদ্ধিমত্তা।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Jan 2017, 10:43 AM
Updated : 31 Jan 2017, 10:43 AM

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটিওয়েবসাইটের্ প্রতিবেদনে ‘সাইন্স অফ দ্য টোটাল এনভাইরোনমেন্ট’ শীর্ষক এক জার্নালে প্রকাশিতগবেষণার বরাত দিয়ে জানায়, শিশুদের মস্তিষ্কের জন্য ‘ক্যাডমিয়াম’ বিষের মতো ভয়ংকর। এটিকিডনি বা বৃক্ক নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ি যা হৃদরোগজনীত মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

দস্তারসংস্পর্শে আসার মাধ্যমে শিশুদের মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়, মানসিক ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে,মেধা কমে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়।

গবেষণা অনুযায়ি, অ্যালুমিনিয়ামেরহাঁড়ি-পাতিল যে ধাতু গলিয়ে তৈরি হয় তার একটি বড় অংশ আসে যানবাহন, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ,ক্যান ও অন্যান্য শিল্প-কারখানার বাতিল ধাতু থেকে। এতে রয়েছে মারাত্বক স্বাস্থ্যগতঝুঁকি, যা আগে সনাক্ত হয়নি।

গবেষণার প্রধান গবেষক,যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাশল্যান্ড ইউনিভার্সিটি’র জেফ্রি ওয়েইডেনহ্যামার বলেন, “এসব হাঁড়ি-পাতিলেরনিয়মিত ব্যবহারের কারণে দস্তা ও ক্যাডমিয়াম শিশুদের শরীরে প্রবেশ করে যা তাদের আইকিউকমাতে পারে উল্লেখযোগ্য হারে। পাশাপাশি হৃদরোগে আক্রান্ত ও মারা যাওয়া ঝুঁকিও বাড়ায়।”

১০টি উন্নয়নশীল দেশের অ্যালুমিনিয়াম থেকে তৈরি হাঁড়ি-পাতিল পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরাএবং এদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশেই দস্তাভিত্তিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।

হাঁড়ি-পাতিলে দস্তারপরিমাণ নির্ণয় করতে এসব পাত্রে দুই ঘণ্টা ধরে অম্লীয় দ্রবণ ফুটানো হয় এবং পরে দ্রবণেদস্তার মাত্রা পরিমাপ করা হয়।

পাশাপাশি এসব পাত্রথেকে বেরিয়ে আসে ঝুঁকিপূর্ণ পরিমাণে অ্যালুমিনিয়াম, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়াম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খাদ্যসম্পর্কীত নির্দেশনায় অ্যালুমিনিয়ামেরপরিমাণের তুলনায় এসব পাত্রে ছয়গুন বেশি অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া গেছে। আর সংগ্রহ করাবাসনে পাওয়া গেছে ৩১ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রার ক্যাডমিয়াম।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অকুপেশনাল নলেজইন্টারন্যাশনাল’য়ের পেরি গটসফেল্ড বলেন, “কম দামি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিলথেকে সৃষ্ট দস্তার ঝুঁকি দস্তাভিত্তিক রংয়ের ঝুঁকির চাইতেও বেশি গুরুতর আকার ধারণকরতে পারে। এসব পাত্রে রান্না করা খাবারে থাকা দস্তা, বর্তমান বিশ্বের দস্তাবিষক্রিয়ার পেছনে অনেকটাই দায়ী।”

সম্প্রতি আফ্রিকা ওএশিয়া মহাদেশে চালানো জরিপে দেখা গেছে, গ্যাসোলিনে দস্তা নিষিদ্ধ করার পরও এসবঅঞ্চলের মানুষের রক্তে দস্তার পরিমাণ এখনও বেশি।

ছবি: রয়টার্স।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক