সারাদিনের নানান কাজের চাপে আর্থিক ব্যবস্থাপনার কাজটি চট করে সেরে ফেলাও যায় না।
Published : 07 Aug 2022, 01:51 PM
অর্থ ব্যবস্থাপনার কাজটি ঠাণ্ডা মাথায় করার জন্য ছোট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
মাসিক খরচের হিসাব করা, অর্থ ব্যবস্থাপনা- সবার জন্যই দরকার। তবে কাজটা করতে যেন কারও ইচ্ছা করে না। আজ নয় কাল করে কালক্ষেপনই হয়। পরে তা বিপদ ডেকে আনে।
আর যখনই মনে হয় কাজটি করা হয়নি, করতে হবে, তখনই মানসিক চাপ বাড়তে থাকে।
আর্থিক বিশৃঙ্খলা লজ্জার বিষয় নয়
যুক্তরাষ্ট্রের সনদস্বীকৃত ‘থেরাপিস্ট’ ও ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিজঅর্ডার (এডিএইচডি)’ বিশেষজ্ঞ অ্যাম্বার হাওলে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই যুগে মনে হতে পারে, আপনি ছাড়া পৃথিবীর সবাই তাদের অর্থ ব্যবস্থাপনাকে হাতের মুঠোর এনে ফেলেছেন। আসলে তা নয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ক্রেডিট কারমা’র পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক মানুষই তাদের আয় ব্যয়ের হিসাব রাখতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন, ভুগছেন মানসিক চাপে। কিন্তু কেউই তা নিয়ে মুখ খুলতে চায় না লজ্জায়। আর এই মানুষগুলো তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব সামলাতে পারেন না এমনটা দীর্ঘদিন ধরে শুনতে শুনতে এখন নিজেই মনে করেন যে তারা আসলে অর্থ ব্যবস্থাপনায় অযোগ্য।
এই মনভাব নিয়ে জীবনযাপন করা একজন মানুষ কোনো সঠিক আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না সিংহভাগ ক্ষেত্রেই।
“প্রথমত, অর্থ ব্যবস্থাপনায় নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। সবার আয়-ব্যয়ের হিসাব ভিন্ন, প্রয়োজন ভিন্ন। তাই নিজেই ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে, শিক্ষা নিতে হবে আগের করা ভুলগুলো থেকে,” পরামর্শ দেন হাওলে।
সহযোদ্ধা যোগাড় করা
ক্রেডিট কারমা’র ‘ফাইনান্সিয়াল অ্যাডভোকেট অ্যান্ড চিফ পিপল অফিসার’ কলিন ম্যাকক্রিয়ারি একই প্রতিবেদনে বলেন, “অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিটি মানুষ যুদ্ধ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এই যুদ্ধ মনে চেপে রেখে বাইরে সুখীভাব না দেখিয়ে বরং বুদ্ধিমানের কাজ হবে একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গে আলাপ করা। এতে করে একে অপরকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন। আর অর্থ নিয়ে হালে পানি না পাওয়া অবস্থায় আপনি যে একা নন, সেই অনুভূতিও কিছু মানসিক স্বস্তি দেবে।”
অ্যাম্বার বলেন, “এই পদ্ধতি আসলে ‘এডিএইচডি’ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মনযোগ ধরে রাখার একটি কৌশল, যাকে বলা হয় ‘বডি-ডাবলিং’। কোনো কাজ করার সময় পাশে কেউ বসে থাকলে তারা মনযোগ দিয়ে কাজ করে, ফলে কাজটা দ্রুত শেষ হয়। পাশে বসা মানুষটিও যে একই কাজ করবে তা জরুরি নয়, শুধু পাশে কেউ একজন থাকাই জরুরি।”
কারও জন্য সেই ব্যক্তিটি হওয়া চাই তার পরিচিতি বিশ্বস্ত কেউ, আর্থিক বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় এমন মানুষ পাশে থাকাই ভালো। কারও ক্ষেত্রে আবার যে কেউ একজন হলেই হল।
পরিবেশ বদলানো
যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান অরিজিন’য়ের সনদস্বীকৃত ‘ফাইনান্সিয়াল প্ল্যানার’ হিদার কোমেলা বলেন, “আর্থিক বিষয়গুলো আলোচনা করার জন্য ঘরের মধ্যেই থাকতে হবে এমনটা নয়। বরং আমি ও আমার সঙ্গী এই কাজগুলো করতে যাই কোনো একটা সুন্দর রেস্তোরাঁয়। সেখানকার অভিজাত পরিবেশে ভালো খাবার খেতে খেতে আমরা আমাদের অর্থ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তগুলো নেই। আশপাশে সুন্দর পরিবেশ আমাদের মানসিক চাপ কমায়, ফলে সঠিক ও কঠিন সিদ্ধান্তগুলো আমরা সহজে গ্রহণ করতে পারি।”
ছোট লক্ষ্য ও পুরষ্কার
ম্যাকক্রিয়ারি বলেন, “ছোট থেকে শুরু করার গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। বড় কোনো খরচকে রাতারাতি সামলে ফেলা যেমন সম্ভব না তেমনি তা স্বাভাবিকও না। বরং বড় খরচটাকে ছোট ছোট লক্ষ্যে ভেঙে নিন এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজান। পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপ পার হওয়া পর যে মানসিক তৃপ্তি পাবেন তাই হবে আপনার পুরষ্কার।”
তিনি আরও পরাশর্শ দেন, “সঞ্চয়ের পরিকল্পনাগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মাসের জন্য একটি সঞ্চয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করুন। মাস শেষে দেখুন তা অর্জন করতে পারেন কি-না, ভাবুন তা চালিয়ে যাওয়া যাবে কি-না। যদি যায় তবে তা শক্তভাবে অনুসরণ করুন। যদি কোনো মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হয় তবে তা পুষিয়ে নেওয়া পরিকল্পনা সাজান সামনের দিনগুলোতে।”
নিজে যদি নাই পারেন তবে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিন
ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা, কর পরিশোধের হিসাব, ঋণের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি মিলে আপনার অর্থ ব্যবস্থাপনার যদি গণ্ডির বাইরে চলে যায়, তবে পেশাজীবী অর্থ ব্যবস্থাপক নিয়োগ দিন।
একজন মানুষকে নিয়োগ দেওয়ার খরচের অংকটা হয়ত আপনাকে দ্বিধায় ফেলে দিতে পারে। তবে নিজে যদি আর্থিক বিষয়গুলো সামাল দিতে না পারেন তবে জোর করে তা করতে গিয়ে যে লোকসান হতে পারে তার ধাক্কা একজন পেশাজীবী নিয়োগ দেওয়ার খরচ থেকে কমই হবে।
আরও পড়ুন
আর্থিক বিষয় নিয়ে সাংসারিক বিবাদ- সমাধানের পন্থা
পুনরায় বিয়ের আগে যেসব আর্থিক বিষয় বিবেচনা করা দরকার