বিশ্রাম নেওয়ার পরও পিঠ ও কোমর ব্যথা না কমার কারণ
কোনও কোনও সময় পিঠের ব্যথার ক্ষেত্রে বিশ্রামের পরিবর্তে একটু হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়ামে উপকার মেলে।
সাধারণত শরীরে কোথাও আঘাত লাগলে বা পেশিতে টান পড়লে চিকিৎসকেরা রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ‘ব্যাক পেইন’ মানে পিঠ বা কোমর ব্যথার চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়।
অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিলে পিঠের ব্যথা ও আড়ষ্টতা তীব্র আকার ধারণ করে, অথচ একটু হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রম করলে সেই ব্যথা অনেকটাই কমে আসে।
স্বাস্থ্য ও জীবনধারা-বিষয়ক ওয়েবসাইট সেল্ফ-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্রামের বদলে নড়াচড়া বা হাঁটাহাঁটিতে পিঠের ব্যথা কমে যাওয়া মূলত শরীরে বাসা বাঁধা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত কোনও রোগের লক্ষণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গন অর্থোপেডিক সেন্টারের, ‘স্পোর্টস মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন’ বিশেষজ্ঞ ডা. সালভাডর পর্তুগাল এই বিষয়ে বলেন, “ভারি কোনও জিনিস তুলতে গিয়ে পেশিতে টান পড়লে বা ডিস্কের সমস্যা হলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। তবে ব্যথা যদি সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করে, অর্থাৎ বিশ্রাম নিলে বাড়ে এবং হাঁটাহাঁটি করলে কমে, তবে তা মূলত ‘অটোইমিউন ডিজিজ’ বা প্রদাহজনিত বাতের কারণে হতে পারে।”
যেমন— ‘অ্যাক্সিয়াল স্পন্ডিলোআর্থ্রাইটিস’, যা মেরুদণ্ড এবং পেলভিস বা কোমর ও তলপেটের মধ্যবর্তী অংশের সংযোগস্থলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটি কলেজ অব মেডিসিন’-এর নিউরোসার্জারি বিভাগের সভাপতি এবং মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ ডা. জোসেফ চ্যাং, এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “মেরুদণ্ডের এই প্রদাহের কারণে হাড়ের সন্ধিস্থলগুলো শক্ত হয়ে যায়। মানুষ যখন হাঁটাহাঁটি বা হালকা নাড়াচড়া করে, তখন চারপাশের পেশিগুলো সক্রিয় হয়ে হাড়ের জোড়ের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপের বোঝা নিজেরা শুষে নেয়, ফলে ব্যথার তীব্রতা এবং আড়ষ্টতা দ্রুত কমে আসে।”
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী কোমর বা পিঠের ব্যথা দূর করতে ‘কোর’-এর পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম কার্যকর।
কোরের পেশি বলতে মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা পেট এবং পিঠের নিচের অংশের পেশিগুলোকে বোঝায়।
২০১৬ সালে প্রকাশিত এক ডজনেরও বেশি গবেষণার ক্লিনিক্যাল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ‘কোর’-এর পেশি শক্তিশালী করার নিয়মিত ব্যায়ামগুলো পিঠের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা প্রায় ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে।
ডা. জোসেফ চ্যাং-এর মতে, “কোর’ যত শক্তিশালী হবে, মেরুদণ্ড তত বেশি স্থিতিশীল থাকবে এবং পিঠের ওপর চাপ তত কম পড়বে।”
এছাড়া মাঝারি ধরনের ‘অ্যারোবিক’ ব্যায়াম, যেমন— নিয়মিত হাঁটা এবং সাইকেল চালানো মেরুদণ্ডের চারপাশে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে, যা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করতে এবং আড়ষ্টতা কমাতে সাহায্য করে।
একই সঙ্গে ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্ক থেকে ‘এনডোরফিনস’ নামক ভালো-বোধের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে শরীরের ব্যথা কমাতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
তবে ব্যথার তীব্রতা এবং মূল কারণ না জেনে, যত্রতত্র জটিল ব্যায়াম করা উচিত নয়। এতে উল্টা বড় ধরনের আঘাতের ঝুঁকি থাকে।
