Published : 22 Aug 2023, 03:04 PM
নির্দিষ্ট বয়সে আসলে নারীর দেহে প্রাকৃতিক নিয়মেই ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদন কমে আসে, সেই সাথে বন্ধ হয় মাসিক। যাকে বলা হয় মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তি।
এই সময়ে নানান ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। কিছু সমস্যা ঘরোয়া পদ্ধতি ও জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তন করে সমাধান করা যায়। আবার কিছু সমস্যার জন্য যেতে হয় স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞের কাছে।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, সেসব জানানো হল সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে।
রজোনিবৃত্তির সময় শ্রোণীদেশে ব্যথা
অর্থাৎ মাসিকের সময় পেট থেকে ঊরু পর্যন্ত যে ব্যথা হয়, রজোনিবৃত্তির সময় সেটা থাকবে না। তবে মাসিক বন্ধ হওয়ার ১২ মাস পরেও যদি শ্রোণীদেশে ব্যথা অনুভূত হয় তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বাঞ্ছনীয়।
মনোপজের পরে এরকম ব্যথা হওয়ার কারণ হতে পারে গর্ভাশয়ে টিউমার। যদিও তরুণীদের মাঝে এরকম দেখা যায়। আবার অন্ত্রের সমস্যার কারণেও এই ব্যথা দেখা দেয়- যা কিনা ডাক্তারই নির্ণয় করতে পারবে।
কিছু ক্ষেত্রে শ্রোণীদেশে ব্যথা হওয়ার কারণ হতে পারে জরায়ুর ক্যান্সার; যা কিনা বৃ্দ্ধাদের মাঝে দেখা দিতে পারে। এর সাথে অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে পেটফোলাভাব, রক্তক্ষরণ ও অবসাদ।
সঙ্গমে ব্যথা
রজোনিবৃত্তি হলে স্বাভাবিক নিয়মেই যোনি পথের কোষ-কলার স্থিতিস্থাপকতা কমে। ফলে শারীরিক মিলনে অস্বস্তি ও ব্যথা হয়। এই সমস্যা সমাধানে ‘ভ্যাজেনল লুব্রিকেন্টস’ বা ‘ভ্যাজেনল ময়েশ্চারাইজার’ ব্যবহার করা যায়।
তবে সমস্যা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শে ‘ভ্যাজেনল ইস্ট্রোজেন থেরাপি’ নেওয়া যেতে পারে; যা কিনা ক্রিম বা ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে মুখে খাওয়ার ওষুধ।
তবে এসবের কারণে ‘হট ফ্লাশেজ’ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে যা কি-না স্ট্রোক, রক্ত জমাট বাঁধা ও জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
‘হট ফ্লাসেজ’ এবং রাতে ঘামা
মাসিক বন্ধ হওয়ার সময় নারীদের মাঝে হঠাৎ গরম অনুভূত হওয়া ও রাতে কোনো কারণ ছাড়া ঘাম দেখা দেয়। এর কারণ জানা না গেলেও চিকিৎসা-বিজ্ঞানে আন্দাজ করা হয় যে- মস্তিষ্কের যে অংশ দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে সেই অংশের পরিবর্তনের কারণে এমন হয়।
এটা হওয়ার মাত্রা ও তীব্রতা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। হরমোন চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা নিরসন করা যায়। তবে পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মনোপজের পরে রক্তক্ষরণ
নানান কারণে যোনি থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। কারণ যেটাই হোক, এই লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে।
যোনির কোষকলা মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময় ভেতরে ও জরায়ুতে টান পড়ে ছিড়ে যায়, আবার টিউমার থাকলেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। অথবা হতে পারে ক্যান্সারের লক্ষণ। তাই অবহেলা করা মোটেই উচিত হবে না।
মূত্রনালীর অস্বস্তি
ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে মূত্রনালীর স্তর পাতলা হয়ে যেতে পারে। এছাড়া বয়সের কারণে শ্রোণীদেশের পেশিও দুর্বল হয়। যে কারণে রজোঃবন্ধ হলে নারীরা মূত্রনালীর অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন।
এটা হতে পারে জোরে হাসতে গিয়ে বা ব্যায়াম করার সময় কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব পড়া বা হতে পারে বার বার টয়লেটে যাওয়া চাপ।
চিকিৎসকের পরামর্শে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রা কমানোর মাধ্যমে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও কিছু ব্যায়ামও রয়েছে। তবে প্রয়োজন পড়লে অস্ত্রচিকিৎসাও লাগতে পারে।
যোনিতে চুলকানি জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি
রজোনিবৃত্তির কারণে যোনি ও যোনিমুখে প্রদাহ দেখা দিতে পারে, যাকে বলে ‘ভলভোভ্যাজেনাইটস’। রজোঃবন্ধ হওয়ার আগে যোনির কোষকলা এক ধরনের ক্ষারীয় অবস্থায় থাকে। তবে মাসিক বন্ধ হলে, ক্ষারীয় অবস্থার পরিমাণ আরও বাড়ে। যে কারণে মূত্রনালীতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
এরকম সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে সমস্যা নিরসরের জন্য অল্প বেইকিং সোডা ঠাণ্ডা পানিতে মিশিয়ে কাপড়ে ভিজিয়ে চাপ দিলে অস্বস্তি ও চুলকানি কমতে পারে। তারপর পাতলা কাপড় দিয়ে ওই জায়গা শুষ্ক করে নিতে হবে।
এছাড়া ভিটামিন ই ক্যাপ্সুল, ‘ভ্যাজেনল ক্রিম’ বা ‘ময়েশ্চারাইজার’ ব্যবহারেও উপকার পাওয়া যায়। আর চিকিৎসকের পরামশ্যে ‘ভ্যাজেনল ইস্ট্রোজেন’ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় হরমোন চিকিৎসায় এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
আরও পড়ুন