Published : 18 Jan 2026, 03:25 PM
বসার ঘরকে বলা হয় বাড়ির প্রাণকেন্দ্র। দিনের শেষে বিশ্রাম নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা বই পড়া, সিনেমা দেখার মতো কাজ- সবকিছুই হয় এই একটি জায়গায়।
তাই ঘর বড় হোক বা ছোট, বসার ঘরের বিন্যাস এমন হওয়া দরকার যাতে সেটি একদিকে আরামদায়ক হয়, অন্যদিকে ব্যবহারেও হয় স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ।
সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে দামি আসবাবও অগোছালো লাগতে পারে।
শুরু হোক একটি কেন্দ্রবিন্দু থেকে
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিনের মতে, “বসার ঘর সাজানোর প্রথম ধাপ হল- একটি কেন্দ্রবিন্দু নির্ধারণ করা। সেটি হতে পারে টেলিভিশন, বড় জানালা কিংবা পারিবারিক কোনো স্মৃতিচিহ্ন।”
“ঘরে ঢুকেই চোখ যেদিকে স্বাভাবিকভাবে যায়, সেটিকেই কেন্দ্র ধরে চারপাশের আসবাব সাজানো উচিত। এতে ঘর দেখতে ভারসাম্যপূর্ণ লাগে এবং বসার জায়গাগুলোও ব্যবহারবান্ধব হয়” পরামর্শ দেন এই অন্দরসজ্জাবিদ।
কার্পেটের অবস্থান আগেই ঠিক করা
কেন্দ্রবিন্দু ঠিক করার পর পরই ঘরের বিন্যাস ঠিক রাখতে কার্পেট কোথায় থাকবে, সেটি ভেবে নেওয়া জরুরি। কারণ কার্পেটই আসলে বসার ঘরের পরিসরকে ঠিক নির্ধারণ করে।
“সাধারণ আকারের বসার ঘরের জন্য মাঝারি মাপের কার্পেট সবচেয়ে কার্যকর। কার্পেট এমনভাবে বসানো উচিত, যাতে আসবাবের সামনের পা কার্পেটের ওপর থাকে এবং চারপাশে কিছুটা খালি মেঝে দেখা যায়। এতে ঘর গোছানো ও প্রশস্ত মনে হয়” বলেন গুলশান নাসরিন।
সোফার ক্ষেত্রে মাপের নিয়ম মানা
বসার ঘরের গুরুত্বপূর্ণ আসবাব হল সোফা। তাই এটি কেনার সময় মাপের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
গুলশান নাসরিনের মতে, একটি ভালো নিয়ম হল- ঘরের মোট দৈর্ঘ্যের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান সোফা বেছে নেওয়া। এতে সোফা খুব ছোট লাগে না আবার ঘরও দখল করে রাখে না।
তবে যেসব ঘরে একই জায়গায় খাওয়ার টেবিল বা কাজের জায়গা রয়েছে, সেখানে এই নিয়ম পুরোটা মানা যাবে না। সেক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও চলাচলের সুবিধাকেই প্রাধান্য দিতে হবে।
দেয়ালে ঠেঁসে নয়, একটু ফাঁকা রাখা
জায়গা বাঁচানোর জন্য সোফা একেবারে দেয়ালের গায়ে ঠেঁসে রাখা সজ্জা রীতি হয়ে গেছে।
তবে এই অন্দরসজ্জাবিদের মতে, সম্ভব হলে সোফা দেয়াল থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে রাখা ভালো। এতে ঘরের ভেতর বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং পর্দা বা জানালার ব্যবহারেও সুবিধা হয়।
সোফার পেছনে হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে ঘর আরও আরামদায়ক লাগে।
বহুমুখী আসবাব বেছে নেওয়া
পরিবারে সদস্য বেশি বা নিয়মিত অতিথি আসলে ঘরের জন্য বহুমুখী আসবাব খুবই উপযোগী। ভিন্ন ভিন্ন অংশে ভাগ করা যায় এমন সোফা বা হালকা চেয়ার সহজেই স্থান বদলানো যায়।
প্রয়োজনে বসার জায়গা বাড়ানো বা ছোট করাও সম্ভব হয়। এতে একই ঘর নানান কাজে ব্যবহার করা যায় এবং একঘেয়েমিও আসে না।
কেনার আগে মাপজোক দরকার
আসবাব কেনার আগে শুধু চোখের আন্দাজে সিদ্ধান্ত নিলে অনেক সময় বিপদে পড়তে হয়। একটি সোফা, তার পাশে টেবিল কিংবা আলাদা চেয়ার সব মিলিয়ে দেয়ালের পুরো দৈর্ঘ্য কতটা লাগবে, সেটি আগে মেপে দেখা জরুরি।
গুলশান নাসরিন পরামর্শ দেন, “মেঝেতে চিহ্ন এঁকে বা কাগজের সাহায্যে আসবাবের জায়গা কল্পনা করে নিলে ভুলের সম্ভাবনা কমে। এতে ঘর ভর্তি হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।”
এক ছাঁচে ফেলা সাজ নয়
বসার ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে কোনো একটি নির্দিষ্ট ছক সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ঘরে কীভাবে সময় কাটান, সেটিই ঠিক করবে ঘরের বিন্যাস কেমন হবে।
কেউ যদি বই পড়তে ভালোবাসেন, তার জন্য আলো ও আরামদায়ক চেয়ার গুরুত্বপূর্ণ। আবার কেউ যদি অতিথি আপ্যায়ন পছন্দ করেন, তার জন্য মুখোমুখি বসার ব্যবস্থা জরুরি।
তাই নিজের জীবনযাপনকে গুরুত্ব দিয়েই নকশা ঠিক করা উচিত।
ভারসাম্যই শেষ কথা
ঘরের সব আসবাব একদিকে জড়ো হলে অন্য পাশ ফাঁকা লাগে, আবার সবকিছু ছড়িয়ে দিলে ঘর এলোমেলো মনে হয়। ভারসাম্য রক্ষা করাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারী আসবাবের বিপরীতে হালকা কিছু রাখলে চোখে আরাম লাগে। ঘরের প্রতিটি কোণ ব্যবহার হলেও যেন কোনো অংশ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
আরও পড়ুন