Published : 03 Nov 2025, 04:37 PM
উৎসব মানে উচ্ছ্বাস, অতিথি আপ্যায়ন আর পরিপাটি সাজানো টেবিল।
তবে অনেক সময় চিন্তা বাড়ে একটা জায়গায়! আর তা হল টেবিল সাজাব কীভাবে? বিশেষ করে যদি ঘরে থাকে শুধুই সাধারণ সাদা থালাবাসন সেট।
তবে এই সাদামাটা বাসন-প্লেটেই হতে পারে সাজসজ্জার সবচেয়ে বড় উপকরণ।
ধরে নিতে হবে সাদা রংয়ের থালাবাটি মানে, একবারে ফাঁকা ক্যানভাস। তাই যেখানে সহজেই যোগ করা যায় নিজের রুচি, রং, আর ঋতুর ছোঁয়া।
কাপড়ের কারুকার্যে বৈচিত্র্য
একঘেয়ে সাদা বাসনকে প্রাণবন্ত করতে প্রথমেই ভাবতে হবে টেবিলের কাপড় নিয়ে। টেবিলক্লথ, রানার, প্লেসম্যাট বা ন্যাপকিন সবকিছুতেই থাকতে পারে টেক্সচার ও নকশার খেলা।
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন পরামর্শ দেন, “যদি নানান প্রিন্টের কাপড় ব্যবহার করা হয়, তবে রংয়ের মিল রেখে সীমিত প্যালেট বা রংয়ের সংমিশ্রণ বেছে নিতে হবে। এতে সাজ হবে ছন্দময় এবং বিশৃঙ্খল লাগবে না।”
ঋতুর ছোঁয়ায় উৎসবের আবহ
উৎসবের মৌসুমে কিছু মৌসুমি উপাদান বা রং ব্যবহার করলেই টেবিলে আসে প্রাণ। সাদা বাসনপত্র তখন হয় নিখুঁত পটভূমি।
যেমন- উঁচু-নিচু ক্যান্ডেলস্টিক সাজানো যেতে পারে টেবিলের মাঝখানে। সঙ্গে কিছু ফুলের তোড়া বা সবুজ গাছের কোন শাখা।
সবসময় লাল-সবুজ, মেটালিক বা তামাটে রং হতে হবে এমন কোনো কথা নেই্ সোনালি বা রুপালি ছোঁয়াতেও ফুটে উঠতে পারে উৎসবের আবেদন।
কাটলারিতে ঝলমল ভাব
গয়না যেমন পোশাকে নতুন মাত্রা যোগ করে, ঠিক সেভাবেই কাটলারি বা কাঁটা-চামচ টেবিলে যোগ করে ঝলমল ছোঁয়া।
একই উপকরণের ভিন্ন আকারের চামচ-কাঁটা সাজিয়ে দেওয়া যায়।
গুলশান নাসরিন বলেন, “আবার ম্যাট (ধাতু), পালিশ বা ব্রাশড মেটাল (চকচকে ভাব বা টেক্সচার)-এর আধুনিক ঢঙে অথবা একই নকশার কাটলারি নিয়ে সাজানো যায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে।”
অতিথিদের জন্য ব্যক্তিগত স্পর্শ
অতিথিদের বিশেষ অনুভূতি দিতে ছোট ছোট ব্যক্তিগত ছোঁয়া যোগ করা যেতে পারে। যেমন- হাতে লেখা নামফলক বা ‘কাস্টম ন্যাপকিন রিং’ ব্যবহার করলে ভালো দেখাবে।
চাইলে শিশুদের নিয়ে তৈরি করুন রঙিন মেনু কার্ড যেখানে তারা আঁকতে পারে, স্টিকার লাগাতে পারে, কিংবা কাগজ কেটে সাজাতে পারে।
এতে যেমন টেবিল হবে শিল্পময়, তেমনি পরিবারের সময় কাটবে আনন্দে।
পুরানো সামগ্রীতে নতুন সৌন্দর্য খুঁজে নেওয়া
‘অ্যান্টিক’ বা ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ দোকান হতে পারে খাবার টেবিলের গুপ্তধন।
সেখানে মিলতে পারে অদ্ভুত সুন্দর লবণদানি, ছোট বাটি, মোমবাতির স্ট্যান্ড বা ছোট টেবিল অলংকার।
যা একদিকে সাজের অংশ, অন্যদিকে অতিথিদের জন্য স্মৃতিচিহ্ন। দোকানে যেতে না চাইলে, অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও পাওয়া যায় এমন অনেক হস্তশিল্প সামগ্রী।
টেবিল সাজে প্রকৃতির ছোঁয়া
উৎসবের দিনগুলো যেহেতু বছরের শেষের দিকেই বেশি থাকে তাই শীতের আবহ আনতে বিদেশি কোনো গাছের শাখা বা ফুল টেবিলের সাজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আসে।
ছোট আকারের সবুজ মালা দিয়ে তৈরি ন্যাপকিন রিং হতে পারে টেবিলের শান্ত, ঘরোয়া ছোঁয়া। শুকনো কমলার টুকরো, দারুচিনি স্টিক কয়েকটি, শুকনো লবঙ্গ – কিছুটা, ফুলের শুকনো পাপড়ি, রোজমেরি বা পুদিনা পাতা (শুকনো হলে ভালো), সামান্য লেবু দিয়ে পানি ভিজিয়ে ছোট বাটি টেবিলে রাখলে সাজসজ্জা শুধু সুন্দর হবে না বরং টেবিলে ছড়িয়ে দেবে মনভরা ঘ্রাণও।
ছোট থালায় শিল্পের রং
শেষ স্পর্শ হিসেবে সাদা বাসনপত্রের ওপর রাখা যায় ছোট, রঙিন সালাদ প্লেট। এতে টেবিলে আসবে রংয়ের ছটা আর স্তরবিন্যাসের মজা।
বড় দামি সেট কেনার দরকার নেই ছোট প্লেট তুলনামূলক সস্তা এবং মিশ্রণেও দারুণ মানায়।
গুলশান নাসরিনের পরামর্শ- স্থানীয় দোকান বা অনলাইন স্টোরে খুঁজে নেওয়া যায় নকশাযুক্ত প্লেট। এমনকি পুরানো সংগ্রহ থেকেও নতুন সমন্বয় গড়ে তোলা যায়।
আরও পড়ুন
বিছানার পাশের টেবিলটি গোছানো থাকলেই ঘুম হবে গভীর