Published : 31 May 2026, 01:54 PM
কোরবানির ঈদের পর অনেকের খাবারের ধরনে হঠাৎ পরিবর্তন আসে। কয়েক দিন ধরে গরু বা খাসির মাংস, ভাজাপোড়া, মসলাযুক্ত খাবার ও অনিয়মিত খাওয়ার কারণে পেটে অস্বস্তি, ফাঁপাভাব, গ্যাস কিংবা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে পেট সংবেদনশীল হলে অবস্থা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান ও পুষ্টি কর্মকর্তা আখতারুন নাহার আলো, এমন পরিস্থিতিতে হালকা আঁশযুক্ত কিছু ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেন। এগুলো পেটের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে, শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিও দিতে পারে।
তিনি বলেন, “পেটে অস্বস্তি, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা এমন ধরনের অবস্থায় অনেক সময় সাময়িকভাবে কম আঁশযুক্ত খাবার খেতে বলা হয়। এতে হজমতন্ত্র কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং অস্বস্তিও কমতে পারে।”
তরমুজ শরীর ঠান্ডা রাখে
ভারী খাবারের মাঝে তরমুজ শরীরকে স্বস্তি দিতে পারে। এতে পানির পরিমাণ বেশি এবং আঁশ তুলনামূলক কম। ফলে এটি সহজে হজম হয় এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতেও সাহায্য করে।
গরমের দিনে তরমুজ শরীর ঠান্ডা রাখতে ভালো কাজ করে। ঈদের পর ভারী খাবারের ফাঁকে এটি খেলে, শরীর কিছুটা হালকা অনুভব করতে পারে।
তরমুজ শুধু ফল হিসেবেই নয়, সালাদ বা ঠান্ডা পানীয় হিসেবেও ভালো।
কলা পেটের জন্য আরামদায়ক
পেট খারাপ বা অস্বস্তির সময় কলা পরিচিত খাবার। কারণ পাকা কলার নরম গঠন পেটের ওপর কম চাপ ফেলে। এতে থাকা পটাসিয়াম শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
এই পুষ্টিবিদের মতে, “অল্প পরিমাণ কলা সহজে হজম হয় এবং শক্তিও দেয়। ঈদের পর সকালে ভারী নাশতার বদলে দইয়ের সঙ্গে কলা খেলে পেট কিছুটা আরাম পেতে পারে।”
বাঙ্গি দিতে পারে স্বস্তি
গরমের সময়ে বাঙ্গি পেটের জন্য আরামদায়ক ফল হিসেবে ধরা হয়। এতে পানির পরিমাণ বেশি এবং আঁশ কম থাকায় সহজে হজম হয়।
বাঙ্গিতে ভিটামিন সি ও পটাসিয়াম পাওয়া যায়, যা শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। ঈদে ভারী খাবারের পর বিকেলে ঠান্ডা বাঙ্গি খেলে অনেকটাই ভালো লাগে। এটি দইয়ের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায়।
খোসা ছাড়ানো আলু হালকা খাবার হতে পারে
ঈদের পর একটানা মাংস খাওয়ার বদলে হালকা খাবার হজমবান্ধব। এক্ষেত্রে খোসা ছাড়ানো আলু, ভালো বিকল্প হতে পারে। কারণ আলুর বেশিরভাগ আঁশ থাকে খোসায়। খোসা ছাড়া আলু তুলনামূলক সহজে হজম হয়।
হজমের সমস্যা থাকলে, সাময়িকভাবে কম আঁশযুক্ত খাবার পেটকে বিশ্রাম দিতে সাহায্য করতে পারে। সেদ্ধ বা ভর্তা করা আলু আরামদায়ক হতে পারে।
রান্না করা পালংশাক
কাঁচা শাকসবজি অনেক সময় পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তবে রান্না করা পালংশাক তুলনামূলক নরম হয়। আর সহজে হজম হতে পারে।
রান্না করলে পালংশাকের গঠন আরও নরম হয়। তাই অল্প তেলে ভাজি, মাছের সাথে বা হালকা রান্না করে খাওয়া যেতে পারে।
এতে শরীর আয়রন পায়, যা ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।
হলুদ ক্যাপসিকামও ভালো পছন্দ
সব ধরনের মরিচ পেটের জন্য সমস্যা তৈরি করে না। হলুদ ক্যাপসিকামে আঁশ তুলনামূলক কম। পাশাপাশি রয়েছে ভিটামিন সি।
আলো বলেন, “এটি পাতলা করে কেটে হালকা রান্না করলে সহজে খাওয়া যায়। ঈদের পর ভারী মসলার বদলে হালকা সবজি রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে।”
আঁশ খুব কম থাকলেও কোনো সবজি কাঁচা খাওয়া, সবার জন্য সমানভাবে আরামদায়ক নাও হতে পারে। তাই পেট খুব সংবেদনশীল হলে সতর্ক থাকা উচিত।
কোন খাবার কার পেটে মানাবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
কম আঁশ মানেই অস্বাস্থ্যকর নয়
অনেকেই মনে করেন, আঁশ কম মানেই খাবার স্বাস্থ্যকর নয়।
তবে এই পুষ্টিবিদের ভাষায়, “সব সময় বেশি আঁশ খাওয়া সঠিক নয়। কিছু পরিস্থিতিতে শরীরকে স্বস্তি দিতে সাময়িকভাবে কম আঁশযুক্ত খাবার দরকার হতে পারে।”
আর ফল ও সবজির উপকারিতা শুধু আঁশে সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো শরীরকে পানি, ভিটামিন, খনিজ ও প্রয়োজনীয় শক্তিও দেয়।
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাবারে ফেরা ভালো
ঈদের পর হঠাৎ খুব ভারী বা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার বদলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরলে শরীর ভালো থাকে।
এসময় পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা ফল, নরম সবজি ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া স্বস্তি দেয়।
আরও পড়ুন
কিছু সাধারণ খাবারের অদ্ভুত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া