Published : 04 Feb 2026, 05:10 PM
বৃক্ক সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান অপরিহার্য। দেহের বিভিন্ন ক্রিয়া-বিক্রিয়া এবং বর্জ্য নিষ্কাশনে পানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত বলা হয়- প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন আট গ্লাস বা দুই লিটার পানি গ্রহণ করা উচিত। তবে এই হিসাব সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য নয়।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান, বৃক্ক প্রতিদিন দেহের বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করে। এই কাজ সঠিকভাবে না হলে বর্জ্য জমা হয়, যা বৃক্কের জটিল সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে— এমনকি ডায়ালাইসিস পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে।
একজন ব্যক্তির দৈনিক পানির চাহিদা নির্ভর করে বয়স, দেহের গঠন, কায়িক শ্রম, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা এবং পরিবেশের তাপমাত্রার ওপর। তাই ঢালাওভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বলা সম্ভব নয়।
ডা. নয়ন বলেন, “পানি কম পান করলে প্রস্রাবে সংক্রমণ বা বৃক্কে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত পানি গ্রহণে রক্তে লবণের মাত্রা কমে যায়- যা বমিভাব, পেশিতে খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।”
পানির পরিমাণ নির্ধারণের সহজ উপায় হল- শরীরের সংকেত লক্ষ করা। প্রস্রাবের রং হালকা খড়ের মতো হলদে হলে পানির পরিমাণ ঠিক আছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
তবে কিছু খাবার বা ওষুধের কারণে রং বদলাতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পানে দিনে চার থেকে আট বার স্বাভাবিক প্রস্রাব হয়, তৃষ্ণা অনুভূত হয় না এবং অকারণ ক্লান্তি থাকে না।
পানিশূন্যতার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে গাঢ় রংয়ের প্রস্রাব, পরিমাণে কম প্রস্রাব, দিনে চারবারের কম প্রস্রাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা অকারণ ক্লান্তি।
বিপরীতে- প্রস্রাব একেবারে রংহীন, পরিমাণে অত্যধিক বা দিনে আটবারের বেশি হলে অতিরিক্ত পানি পান করা হচ্ছে বলে বোঝা যায়।
আবহাওয়া গরম হলে, অতিরিক্ত ঘাম হলে, প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রম বা জ্বরের সময় পানির গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হয়। ঠাণ্ডা আবহাওয়াতে স্বাভাবিকভাবেই পানি পানের পরিমাণ কমে যায়।
পারিবারিকভাবে বৃক্কতে পাথরের ইতিহাস বা ঝুঁকি থাকলে অন্তত তিন লিটার পানি পান করা উচিত প্রতিদিন, যদি অন্য কোনো বিধিনিষেধ না থাকে।
কেবল বিশুদ্ধ পানি নয় স্যুপ, ডাল, পাতলা ঝোলের তরকারি, ফলমূল ও ফলের রস থেকেও পানি পাওয়া যায়।
লাউ, চিচিঙ্গা বা কুমড়ার মতো সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি। তবে কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংকস বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে বৃক্কের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অতিরিক্ত ক্যাফিন প্রস্রাব বাড়িয়ে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে। ভেষজ চা বা ডিক্যাফ কফি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
ডা. নয়ন বলেন, “সব মিলিয়ে দৈনিক পানির চাহিদা পূরণ হলে বৃক্ক সুস্থ থাকে। শরীরের সংকেত অনুসরণ করে পানির পরিমাণ নির্ধারণ করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।”
আরও পড়ুন
যেভাবে পানি পান করলে উপকার মিলবে বেশি