Published : 27 Jun 2026, 11:49 AM
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানসিন্দুক খুলে মিলেছে ৪৩ বস্তা টাকা, এখন চলছে গণনার কাজ। সর্বশেষ টাকা গণনার ছয়মাস পর এই দানবাক্স খোলা হল।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে মসজিদের লোহার দানসিন্দুকগুলি খোলা হয়।
এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর এ মসজিদের দানসিন্দুকের ৩৫ বস্তা টাকা গণনা করে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গেছিল। এছাড়াও পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ সোনা-রূপার অলঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা।

শনিবার দান বাক্স খোলার পর জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “বরাবরের মতো এবারও ৪৩ বস্তা টাকা ছাড়াও স্বর্ণ, রুপা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে এসব দান সিন্ধুকে।”
পরে ৪৩টি বস্তায় ভরে এসব টাকা নেয়া হয় ওই মসজিদের দোতলায়। সেখানে বস্তা থেকে মেঝেতে ঢেলে মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ জন ছাত্র, ১০ জন শিক্ষক, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় টাকাগুলো গণনা করছেন। দিনভর গণনা শেষে শনিবার সন্ধ্যায় টাকার পরিমাণ জানা যাবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মসজিদের দানের অর্থ মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহ ছাড়াও জনকল্যাণমুখি বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়ে থাকে।

সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা। জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় অবস্থিত তিনতলা মসজিদটি প্রায় চার একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত।
কথিত আছে, প্রায় পাঁচশত বছর পূর্বে বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী বারোজন জমিদারের অন্যতম ঈশা খাঁর আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা নামক এক ব্যক্তি নরসুন্দার তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে ওই স্থানটিতে মসজিদটি নির্মিত হলে তার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।