১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাত খেলে কি পেটের মেদ বাড়ে?

ভাত খেয়েও মেদহীন দেহ ও ওজনের ভারসাম্য রক্ষায় রয়েছে কৌশল।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Sep 2026, 12:55 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’— এই প্রবাদের মতোই বাঙালির প্রতিদিনের তিন বেলার খাদ্যতালিকায় ভাতের অবস্থান অবিচ্ছেদ্য। তবে ওজন কমানো এবং পেটের চর্বি বা ভুঁড়ি কমানোর চক্করে, অনেকেই খাদ্যাভ্যাস থেকে ভাত পুরোপুরি বর্জন করেন।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ভুঁড়ি বাড়ার পেছনে মূল অপরাধী ভাত নয়; বরং ভাত খাওয়ার ভুল পদ্ধতি, অতিরিক্ত পরিমাপ এবং অলস জীবনযাত্রাই এর জন্য দায়ী।

কৌশল জানা থাকলে ভাত খেয়েও শরীরকে মেদহীন এবং সুস্থ রাখা সম্ভব।

স্বাস্থ্য-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেলথ’ এবং ‘হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং’-এর পুষ্টি কলামে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভাত একটি সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেইট, যা শরীরে শক্তির প্রধান উৎস হতে পারে।

ভাত খাওয়ার সঙ্গে ভুঁড়ি বাড়ার আসল কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের নিবন্ধিত পুষ্টিবিজ্ঞানী জিলিয়ান কুবাল্লা ব্যাখ্যা করেন, “সাদা ভাতে প্রাকৃতিকভাবেই চর্বি বা ফ্যাটের পরিমাণ থাকে শূন্য এবং এতে কোনো ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট বা কোলেস্টেরল নেই।”

তবে সাদা ভাত হল একটি ‘রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট’ বা পরিশোধিত শর্করা, যার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কিছুটা বেশি থাকে।

ইনসুলিনের গোপন বিক্রিয়া: যখন কেউ এক গামলা বা অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত একা খান, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়লে মস্তিস্কের সংকেতে শরীর থেকে ‘ইনসুলিন’ হরমোন উপচে পড়ে।

ইনসুলিনের প্রধান কাজ হল, রক্ত থেকে অতিরিক্ত শর্করা টেনে নিয়ে চর্বি হিসেবে শরীরের বিভিন্ন কোষে, বিশেষ করে পেটের চারপাশে জমা করা। অর্থাৎ, ভাতের দোষ নয়; অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণই ভুঁড়ি বাড়ার আসল কারণ।

ভাত খেয়েও ভুঁড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখার নিয়ম

পেটের মেদ না বাড়িয়ে ভাতের পুষ্টিগুণ উপভোগ করতে এই পুষ্টিবিদ ৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

পরিমাপ নিয়ন্ত্রণ ১-২-৩ পদ্ধতি: ভাত খাওয়ার প্রধান বৈজ্ঞানিক নিয়ম হল, পরিমাপ নিয়ন্ত্রণ। দুপুরের খাবারে ভাতের পরিমাণ হতে হবে সর্বোচ্চ ১ কাপ (রান্না করা অবস্থায় প্রায় ১৫০ গ্রাম)। প্লেটের মাত্র এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ ভাতে পূর্ণ থাকবে, বাকি অংশ শাকসবজি ও চর্বিহীন প্রোটিন দিয়ে সাজাতে হবে।

প্রোটিন ও আঁশের মিশ্রণ: খালি পেটে শুধু ভাত বা আলু-ভর্তা দিয়ে ভাত খাওয়া এড়াতে হবে। ভাতের সঙ্গে সবসময় পর্যাপ্ত আঁশ সমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি, ডাল এবং প্রোটিন হিসেবে ডিম বা মাছ রাখা উপকারী।

প্রোটিন ও আঁশ ভাতের ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজের পরিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যা ইনসুলিন শান্ত রেখে চর্বি জমতে বাধা দেয়।

বিকল্প হিসেবে লাল চাল বা বাসমতি চালের ভাত: সাধারণ মিলের ছাঁটা সাদা ভাতের চেয়ে লাল চালের ভাত বা কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত বাসমতি চালের ভাত নিরাপদ।

লাল চালের ভাতে প্রাকৃতিক আঁশ এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স থাকে, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে রাখা চাঙা।

রান্নার সঠিক পদ্ধতিতে স্টার্চ দূর করা: ভাত রান্নার সময় অতিরিক্ত মাড় বা ফ্যান ঝরিয়ে ফেলা, একটি কার্যকর কৌশল।

মাড় ফেলে দিলে ভাতের অতিরিক্ত স্টার্চ ও ক্যালরির মাত্রা প্রাকৃতিকভাবেই বেশ খানিকটা কমে যায়, যা ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

রাতের ভারী ভাত বর্জন ও হাঁটা: গভীর রাতে বা ঘুমানোর ঠিক আগ মুহূর্তে ভাত খাওয়া পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। কারণ রাতে মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ধীর থাকে।

রাতে ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে পরিমিত ভাত খাওয়া ভালো। আর খাওয়ার পর ১০ থেকে ২০ মিনিট হাঁটা উপকারী।

মনে রাখতে হবে

ভাত কোনো বিষাক্ত খাবার নয়; এটি শক্তির একটি উৎস। প্রতিদিন ৩০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার কসরত বা দ্রুত হাঁটা, সঠিক সুষম পরিমাণ পদ্ধতি অনুসরণ এবং পরিমিত ভাত খাওয়ার সমন্বয়ে, শরীরকে চর্বিমুক্ত রাখা যায়।

আরও পড়ুন

ওজন কমানোর পর বেড়ে যাওয়া রোধ করতে 'রিভার্স ডায়েটিং'

ইনজেকশন ছাড়াই কমবে ওজন

পুরুষ যে কারণে বয়সে বড় নারীর প্রেমে পড়েন