কাঠের কাটিং বোর্ড জীবাণুমুক্ত করতে
রান্নাঘরে প্রতিদিনের কাটাকাটিতে দাগ পড়ে কাটিং বোর্ডে, যেখানে ময়লা জমে ছড়াতে পারে জীবাণু।
সবজি কাটা, মাংস প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে রুটি বা ফল কাটাসহ নানান কাজে ব্যবহার হয় কাটিং বোর্ড।
তবে প্রতিদিনের কাজে বোর্ডে ছোট ছোট আঁচড়, খাঁজ ও দাগ পড়ে, যা জীবাণুর জন্য আদর্শ বাসা হয়ে ওঠে। ফলে সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে ‘ক্রস-কন্টামিনেইশন’ বা খাদ্য দূষণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
যে কারণে কাঠের কাটিং বোর্ড পরিষ্কার রাখা এত জরুরি
"কাঠের বোর্ডের গঠন স্বাভাবিকভাবেই ছিদ্রযুক্ত। প্রতিবার ছুরি চালানোর পর বোর্ডে ক্ষুদ্র গর্ত ও ‘স্ক্র্যাচ’ বা দাগ তৈরি হয়। এগুলোতে খাবারের অংশ ও রস জমে থাকে, যা ব্যাক্টেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বিশেষ করে কাঁচা মাংস, মাছ কাটার পর বোর্ড ঠিকমতো পরিষ্কার না হলে ঝুঁকিপূর্ণ জীবাণু সেখানে বাসা বাঁধতে পারে”- বলেন গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শম্পা শারমিন।
কতবার কাঠের কাটিং বোর্ড পরিষ্কার করতে হবে
প্রতিবার ব্যবহারের পর, হালকাভাবে সাবান ও পানি দিয়ে ধুতে হবে।
মাসে অন্তত একবার ‘ডিপ ক্লিন’ বা গভীলভাবে পরীষ্কার করতে লেবু-লবণ দিয়ে স্ক্রাব বা জীবাণুনাশ করা উচিত।
বেশি ব্যবহার করলে দুই সপ্তাহে একবার তেল লাগিয়ে কন্ডিশন করা ভালো।
যদি শুধু রুটি কাটা বা স্যান্ডউইচ বানানোর কাজে ব্যবহার হয়, তবে শুধু শুকনোভাবে ঝেড়ে ফেললেই হয়।
পরিষ্কার করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বোর্ড কখনই পানিতে ভিজিয়ে রাখা যাবে না।
কখনই ডিশওয়াশারে দেওয়া যাবে না— তাপ ও পানি কাঠকে ফুলিয়ে ফাটিয়ে দিতে পারে।
কাঁচা মাংস কাটলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
ডিশওয়াশিং তরল সাবান দিয়ে কাঠের বোর্ড পরিষ্কার
এটি সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রতিদিনের ব্যবহারের পরের পরিষ্কার পদ্ধতি।
যা লাগবে: ডিশওয়াশিং লিকুইড, স্পঞ্জ বা ব্রাশ, তোয়ালে বা পেপার টাওয়েল।
বোর্ড ভেজানো: গরম পানি দিয়ে বোর্ড ভিজিয়ে নিতে হবে। তারপর সাবান লাগিয়ে স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে ভালভাবে ঘষতে হবে।
দুই দিকই পরিষ্কার করা: শুধু ওপরের দিক নয়, নিচের দিকও ধুতে হবে। কারণ রস বা পানি নিচের দিকে গড়িয়ে পড়তে পারে।
ভালোভাবে শুকানো: গরম পানি দিয়ে ধুয়ে কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে। সম্পূর্ণ শুকানো না পর্যন্ত উল্টে রেখে দিতে হবে।
ব্লিচ দিয়ে কাঠের কাটিং বোর্ড জীবাণুমুক্ত করা
বিশেষ করে কাঁচা মাংস বা মুরগি কাটলে এটি খুব কার্যকর।
যা লাগবে: ক্লোরিন ব্লিচ, ১ গ্যালন পানি, সাবান, তোয়ালে
ব্লিচ সলিউশন তৈরি: ১ গ্যালন পানিতে ১ টেবিলচামচ ব্লিচ মেশান।
বোর্ড ভিজিয়ে রাখা: বোর্ডটি দুতিন মিনিট ব্লিচ সলিউশনে ডুবিয়ে রাখতে হবে অথবা পুরো বোর্ডে ব্লিচ মিশ্রণ মাখিয়ে দিতে হবে।
পুনরায় ধোয়া ও শুকানো: ব্লিচের গন্ধ দূর করতে সাবান ও পানি দিয়ে আবার ধুয়ে নিতে হবে।
লেবু ও লবণ দিয়ে ডিপ ক্লিনিং (মাসে একবার)
এই পদ্ধতি বোর্ডের দাগ, গন্ধ এবং জমে থাকা ময়লা দূর করতে দুর্দান্ত।
যা লাগবে: মোটা দানার লবণ, একটি লেবু, তোয়ালে
বোর্ডে লবণ ছিটানো: কোশের বা সি-সল্ট ছিটিয়ে নিতে হবে।
লেবু দিয়ে স্ক্রাব: লেবু অর্ধেক কেটে কাটা দিক নিচে রেখে লবণের ওপর ছোট ছোট বৃত্তে ঘষতে হবে। লেবু-লবণ মিশ্রণটি বোর্ডে রেখে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।
ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়া: সব লবণ দূর করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
কাঠের বোর্ড দীর্ঘদিন ভালো রাখতে করণীয়
মাসে একবার বোর্ডে তেল লাগানো যে কারণে জরুরি
পানি শোষণ করে কাঠ। শুকিয়ে গেলে ফাটতে পারে। তাই ‘ফুড-গ্রেড মিনারেল অয়েল’ বা ‘কাটিং বোর্ড অয়েল’ ব্যবহার করতে হবে।
যেভাবে করতে হবে
কাঠ নাকি প্লাস্টিক—কোন বোর্ড বেশি নিরাপদ?
প্লাস্টিক বোর্ড: ভেতরে ছোট ছিদ্র বা গর্ত থাকে না। তবে ছুরির দাগ পড়ে ব্যাক্টেরিয়া জমে। ডিশওয়াশারে পরিষ্কার করা সহজ।
কাঠের বোর্ড: দাগ সহজে পড়ে, তবে নিয়মিত পরিচর্যা করলে নিরাপদ। ছুরি দীর্ঘদিন টিকে এবং কাঠের বোর্ড কম স্লিপ করে।
মূলত, ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও রক্ষণাবেক্ষণ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
আরও পড়ুন
