Published : 07 Sep 2025, 06:15 PM
গরমের সময় এয়ার কন্ডিশনারের শীতল পরশ বেশ লাগে। তবে এর বাতাসেই থাকতে পারে অ্যালার্জিসহ নানান অসুস্থতার উপাদান।
কারণ এই যন্ত্র ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে আর্দ্রতা বের করে আর দেয় ঠাণ্ডা বাতাস। যে কারণে এসি’র ভেতর ছত্রাকসহ নানান অনুজীবের বিস্তার ঘটতে পারে।
“যদি ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করা হয় তবে এয়ার কন্ডিশনারে ছত্রাকের বিস্তার ঘটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়”- রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে মন্তব্য করেন ছত্রাক ও বাতাসের মান-বিষয়ক মার্কিন বিশেষজ্ঞ মাইকেল রুবিনো।
যে কারণে এয়ার কন্ডিশনার দুষিত হয়
রুবিনো বলেন, “আর্দ্রতা ও প্রাকৃতিক উপাদান হল অনুজীব বা জীবাণুর সংক্রমণের প্রধান উপাদান। তাই ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক বা অন্যান্য জীবাণু সহজেই এসি’র কয়েলে জন্মাতে পারে। কারণ কয়েলগুলো ঠাণ্ডা থাকে আর বাতাস থেকে আর্দ্রতা দূর করতে ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, “এসব জায়গায় যদি একবার ছাতা গজানো শুরু করে তবে সহজেই কয়েকদিনের মধ্যে ছত্রাকে কলনিতে রূপান্তরিত হতে পারে।”
আর চোখের সামনে কয়েল থাকে না বলে, খেয়ালও করা যায় না।
যেভাবে বোঝা যায় এসি’তে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়েছে
নানান লক্ষণে বোঝা সম্ভব। আর এগুলোর যে কোনো একটা হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
ছত্রাক জন্মাতে দেখা: এসি’র সামনের ঢাকনা খুলে ফিল্টারগুলো পরখ করলেই সহজেই চোখে পড়বে যদি ছত্রাক গজায়।
রুবিনো বলেন, “বিভিন্ন রংয়ের ছত্রাক হতে পারে, যেমন- সাদা, সবুজ, নীল, গোলাপি, ধূসর, কালো, বাদামি। আর গঠন হতে পারে নানান ধরনের- গুঁড়াগুঁড়া, আঠালো বা পিচ্ছিল।
বাতাসে মাটি মাটি গন্ধ: দেখার আগেই এসি’র বাতাস থেকেই বোধ হতে পারে, ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটেছে। কারণ এসি ছাড়ার পর একধরনের ভেজা বা মাটিমাটি গন্ধ বের হবে।
বাজে বোধ হওয়া: এই ধরনের অনুজীবনের সংস্পর্শে আসলে শরীরে নানান ধরনের অস্বস্তি দেখা দেয়। যেমন- মাথা খালিখালি লাগা, অবসাদ কাজ করা, শ্বাস নিতে সমস্যা, কাশি এবং মাথাব্যথা।
এসি ছাড়ার পর এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে বাতাস দুষিত হচ্ছে।
পেশাদাররা চিহ্নিত করতে পারে: এসি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে আসা পেশাদাররা সহজেই এই ছত্রাকের সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে।
আর নিজে বুঝতে চাইলে- ঘরের জানালা মেঝেতে থাকা ধুলার পরখ করেও সম্ভাব্য দুষিত পদার্থের উপস্থিত টের পাওয়া সম্ভব।
প্রতিকারের উপায়
ছত্রাক পরিষ্কার অভিজ্ঞতা থাকলে নিজেই করা সম্ভব।
তবে রুবিনো বলেন, “উইন্ডো এসি’তে ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটলে পুরো এসি’টাই পরিবর্তন করে ফেলা উচিত হবে। কারণ একটি দুটি যন্ত্রাংশের পরিবর্তনে এই সমস্যঅ দূর হবে না। আবার পরিষ্কার করলেও নতুন করে যে হবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
অল্প জায়গা আক্রান্ত হলে এসি খুলে ভালো মতো পরিষ্কার করলে লাভ হতে পারে। এক্ষেত্রে পেশাদারের সাহায্য নেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রতিরোধে যা করা যায়
সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে, সমস্যা দ্রুত ধরা সম্ভব হয়। সময় মতো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
রুবিনো্ বলেন, “নিয়মিত পরখ করলে সমস্যা প্রাথমিক অবস্থায় চিহ্নিত করা যায়। নিয়মিত যারা এসি ব্যবহার করেন তাদেরকে বলবো- সপ্তাহে অন্তত একবার পরখ করার সাথে ফিল্টার পরিষ্কার করুন। এতে জৈব কোনো পদার্থ সমস্যা তৈরি করার আগেই দূর করা সম্ভব হবে।”
আরও পড়ুন