Published : 30 Jul 2025, 06:02 PM
গাছের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে আশপাশে প্রচুর পরামর্শ ঘোরাফেরা করে। কখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায় ‘হ্যাক’ বা সহজ ঘরোয়া উপায়, আবার কখনও পরিবারের বড়দের মুখে শোনা যায় পুরানো দিনের পরামর্শ।
এরকমই একটি পরিচিত পরামর্শ হল গাছের ছত্রাক বা ফাঙ্গাস দূর করতে দারুচিনি ব্যবহার করা।
রান্নার মসলা হিসেবে পরিচিত এই উপাদান গাছের ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কতটা কার্যকর এ নিয়ে আছে নানান মত।
এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কোস্টা ফার্মস’–এর উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ ও হর্টিকালচারিস্ট জাস্টিন হ্যানকক-এর মতামত নিয়েছে রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
তার ভাষ্যমতে, “যেমনটা অনেক ঘরোয়া প্রতিকারের বেলায় হয়, এটার পেছনেও কিছুটা সত্যি লুকিয়ে আছে। দারুচিনিতে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান আছে যা ছত্রাকের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। তবে এসব উপাদান থাকা মানেই যে, দারুচিনি সব সময় কার্যকরভাবে ফাঙ্গাস দূর করবে- তা নয়।”
সব দারুচিনি এক নয়
দারুচিনি মূলত বিভিন্ন গাছের ছাল থেকে তৈরি হয় এবং বাজারে পাওয়া দারুচিনি সব সময় এক উৎস থেকে আসে না।
গাছের প্রজাতি ভেদে এর রাসায়নিক গঠন ভিন্ন হয়। ফলে একেক দারুচিনির মধ্যে ছত্রাকনাশক উপাদানের পরিমাণও একেক রকম।
জাস্টিন হ্যানককের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, “প্রাকৃতিক দারুচিনি একটি জীবন্ত গাছ থেকে আসে। সেই গাছের ধরন, বয়স, বড় হওয়া পরিবেশ এসবের ওপর নির্ভর করে এর কার্যকারিতা ভিন্ন হতে পারে। ফলে যে দারুচিনি ব্যবহার করছেন, সেটা কতটা কাজ করবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।”
অন্যদিকে, গবেষণাগারে তৈরি ছত্রাকনাশক বা ‘ফাঙ্গিসাইড’গুলোর গঠন ও কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য।
প্রতিবারই এক ধরনের রাসায়নিক মাত্রা থাকে এতে। তবে দারুচিনির ক্ষেত্রে এমন কোনো মানদণ্ড নেই। তাই এক ব্যাচ দারুচিনি আরেক ব্যাচের চেয়ে কম বা বেশি কার্যকর হতে পারে।
সমস্যার ধরন বুঝে সমাধান
জাস্টিন হ্যানককের মতে, “যদিও দারুচিনিতে কিছু কার্যকর উপাদান থাকে। তবে বাজারে পাওয়া দারুচিনি সেই পরিমাণ উপাদান সরবরাহ করতে পারে না যা গাছের ছত্রাক বা ফাঙ্গাস প্রতিরোধে যথেষ্ট।”
আবার ছত্রাকের ধরনভেদে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। যেমন- কোনো নির্দিষ্ট দারুচিনি যদি এক ধরনের ছত্রাক দমন করতে সক্ষমও হয়, তা অন্য প্রজাতির ফাঙ্গাসের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ফলে দারুচিনি ব্যবহার করে হয়ত অল্প কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি কখনই নির্ভরযোগ্য বা কার্যকর দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়।
এই বিশেষজ্ঞের মতে, “এটা সত্যি যে দারুচিনি কিছুটা সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এটি কোনো নিশ্চিত সমাধান নয়। তাই গাছের ছত্রাকের সমস্যা সমাধানে দারুচিনিকে ভরসা করার উপায় নেই।”
সুগন্ধ থাকলেও সমাধান নয়
অনেকেই ভাবেন গাছে দারুচিনি ছিটিয়ে দিলে ছত্রাক দূর হবে। বাস্তবে এটি না হলে হতাশ হতে হয়। তবে এতে একটা উপকার অবশ্যই আছে। আর তা হল চারপাশটা মিষ্টি একটা গন্ধে ভরে যাবে।
ছত্রাক প্রতিরোধে করণীয়
যেহেতু দারুচিনি নির্ভরযোগ্য প্রতিকার নয়, তাই ছত্রাক বা ফাঙ্গাস থেকে গাছ বাঁচাতে কিছু নিয়মগুলো মেনে চলাই শ্রেয়।
অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানো: গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকা ছত্রাক বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তাই সকালে গাছে পানি দিতে হবে, যেন রাতের দিকে মাটি শুকিয়ে যায়। আর পাতা ভেজা না থাকে।
পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত: গাছের শাখা-প্রশাখা ছেঁটে দিলে গাছের ভেতরে বাতাস চলাচল করে, যা ছত্রাক প্রতিরোধে সাহায্য করে।
সঠিক নিষ্কাশনের ব্যবস্থা: পাত্র বা বাগানের মাটিতে যেন পানি আটকে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায়: ব্যবহৃত কাঁচি, গাছের পাত্র বা সরঞ্জাম সব সময় পরিষ্কার রাখা জরুরি। যাতে কোনো ছত্রাক এক গাছ থেকে আরেক গাছে ছড়াতে না পারে।
প্রাকৃতিক বিকল্প ব্যবহার: যদি গাছের পাতা বা ডালপালা ছত্রাকে আক্রান্ত হয়, তবে আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলা উচিত। প্রয়োজনে কপার ভিত্তিক ছত্রাকনাশক বা প্রাকৃতিক বিকল্প, যেমন- নিম তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন
বৃদ্ধ বয়সে বাগান করা স্বাস্থ্যকর