Published : 26 Jul 2026, 04:21 PM
চাঁদপুর পৌরসভার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ‘কিছুটা’ পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ; তারপরেও এখনও প্রায় ১৭ কোটি টাকা বাকি রয়েছে।
একসময় ২১ কোটি টাকা বকেয়া থাকলেও চলতি বিলের পাশাপাশি পুরনো বকেয়াও ধাপে ধাপে শোধ করায় তা কমেছে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর পৌর প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, “অতীতে জনপ্রতিনিধিদের সময় এই বকেয়া তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করছি। একই সঙ্গে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে পুরনো বকেয়াও দিচ্ছি।”
তার ভাষ্য, এতে বকেয়া ২১ কোটি টাকা থেকে কমে এখন প্রায় ১৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
“পৌরসভার আয়ের তুলনায় এত বড় বকেয়া হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না।”
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, “জেলায় প্রায় ৭৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে ৯০ শতাংশ প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন। চাঁদপুর পৌরসভা ছাড়া বড় কোনো বকেয়া নেই। বকেয়া আদায়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।”
বিপিডিবি জানায়, ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া জমতে শুরু করে।
এদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
শহরের নাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা নিশাত বলেন, “আমরা মিটারে টাকা না ভরলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পৌরসভা বছরের পর বছর টাকা না দিয়েও বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। আমাদের মত ওদেরও যদি প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হত, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হত না।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মোশারেফ হোসেন বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়মিত কর ও ফি আদায় করা হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল বছরের পর বছর বকেয়া থাকা আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।