সময় হলে বদলাতে হবে টুথব্রাশ

ব্রাশ যদি হয় নরম তবে দাঁত মাজাতে কাজ হবে না তেমন।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 August 2022, 02:35 PM
Updated : 11 August 2022, 02:35 PM

দাঁত মাজার ব্রাশ এমন একটি ব্যক্তিগত অনুষজ্ঞ যা নিয়মিত বদলানো খুবই জরুরি।

কারণ মুখের ভেতর প্রায় ৭শ’ প্রজাতির প্রায় ৬শ’ কোটি ব্যাক্টেরিয়ার বসবাস করে।

চিকিৎসা বিজ্ঞান আরও বলে, অন্ত্রের পর মুখের মধ্যেই সবচাইতে বেশি মাত্রায় ব্যাক্টেরিয়া থাকে। এদের মধ্যে কিছু উপকারী, কিছু আবার ক্ষতিকর।

আর টুথব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করার পর তা এই ব্যাক্টেরিয়াতে ভরপুর থাকে।

বদলানোর সময়

আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন’য়ের বরাত দিয়ে রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাধারণ যেসব ব্রাশ হাতের জোরে দাঁতে ঘষতে হয় সেগুলো প্রতি তিন থেকে চার মাস ব্যবহারের পর বদলে ফেলা নিরাপদ। তবে একই ব্রাশ ছয় মাসের বেশি কখনই ব্যবহার করা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি’ বিশেষজ্ঞ লাকুইয়া এ.ওয়াকার ভিনসন একই প্রতিবেদনে বলেন, “দাঁতের ব্রাশের কাজ হল মুখের ভেতরের ব্যাক্টেরিয়া ঘষে পরিষ্কার করা। অর্থাৎ এই ব্রাশ যতই ভালোভাবে ধোয়া হোক না কেনো তাতে অসংখ্য ব্যাক্টেরিয়া লেগে থাকবে।”

আবার ব্যবহারের কারণে ক্ষয় হওয়া ব্রাশ ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করতে পারে না। তাই তিন থেকে চার মাস পর পর ব্রাশ বদলানো ভালো অভ্যাস।

আর সর্বোচ্চ একটি ব্রাশ ছয় মাস ব্যবহার করা যায়।

ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশ

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক দন্ত্য চিকিৎসক থমাস ম্যাককারথি বলেন, “বৈদ্যুতিক ব্রাশের মাথা আরও জলদি বদলাতে হয়। একটি ‘ব্রিসলস’ এক মাস, সর্বোচ্চ দুই মাস ব্যবহারের পরই বদলে ফেলতে হবে। কারণ বৈদ্যুতিক ব্রাশ উচ্চগতিতে ‘ভাইব্রেট’ করে। তাই এর মাথাটি বা ‘ব্রিসল’টি সাধারণ ব্রাশের মতো স্থায়ি হয় না।”

জরুরি বদলনো যদি অসুস্থ বোধ হয়

ডা. ম্যাককারথি আরও বলেন, “মৌসুমি সর্দিজ্বর কিংবা যে কোনো ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণে অসুস্থ হলে অসুস্থ অবস্থায় যে ব্রাশ ব্যবহার করেছেন, সুস্থ হওয়ার পর সেই ব্রাশ আর ব্যবহার করা উচিত হবে না। এমনকি সেটা নতুন ব্রাশ হলেও বদলে ফেলা উচিত।”

খেয়াল করতে হবে

ডা. ভিনসন বলেন, “ব্রাশের গুণগত মানের ভিত্তিতে কিছু লক্ষণ দেখা দেবে যা বলে দেবে ব্রাশটি ফেলে দেওয়া জরুরি কি-না। যেমন ‘ব্রিসলস’ ক্ষয় হয়ে গেলে, বাঁকা হয়ে গেলে তা অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। কিছু রঙিন ব্রাশ থাকে যা ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় রং বদলে সাদা হয়ে যাওয়া মাধ্যমে। ব্রিসলস অনেক বেশি নরম হয়ে গেলেও বুঝে নিতে হবে ব্রাশটি ব্যবহারের অনুপযুক্ত।”

পরিষ্কার করে কি ব্রাশের স্থায়িত্ব বাড়ানো যায়?

লন্ডনের দন্ত্য চিকিৎসক পারনিত সেহমি বলেন, “দাঁতে ঘষার কারণে ‘ব্রিসলস’ ক্ষয় হবেই। পরিষ্কার করে ব্রাশের ক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়। বরং যতদিন তা ব্যবহার করবেন, ব্যবহারের আগে পরে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করা নিজে ভালো থাকার জন্যই জরুরি।”

ব্যবহারের আগে ও পরে গরম পানি দিয়ে ব্রাশ পরিষ্কার করা সবচাইতে ভালো। এতে পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি ‘ব্রিসলস’ একটু নরম হবে, ফলে মাড়ির ওপর চাপ কম পড়বে।

ব্রাশ জীবাণুমুক্ত করতে চাইলে, একটি কাপে ‘অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল মাউথওয়াশ’ নিয়ে ৩০ সেকেন্ড ব্রাশটি ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে।

আরও কিছু বিষয়

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি)’র মতে, প্রতিবার ব্যবহারের পর ব্রাশটিকে বাতাসে শুকানোর সুযোগ দিতে হবে। ব্রাশ ভেজা থাকলে তাতে ব্যাক্টেরিয়ার বিস্তার বাড়ে দ্রুত।

ব্রাশের ‘ব্রিসলস’ উপরে রেখে তা দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে, যাতে পানি ঝরে যেতে পারে।

একজনের ব্রাশ আরেকজন ব্যবহার করা যাবে না কোনো অবস্থাতেই। একই জায়গায় একাধিক মানুষের ব্যবহার করা ব্রাশ না রাখাই ভালো। যদি রাখতেই হয় তবে একটু দূরে দূরে রাখতে হবে যাতে একে অপরকে স্পর্শ করতে না পারে।

আর ভেজা ব্রাশে ওপর ক্যাপ না পরানোই ভালো। এতে ‘ব্রিসলস’ সহজে শুকাতে পারে না। ফলে ব্যাক্টেরিয়া বাড়ে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক