Published : 18 Nov 2024, 03:03 PM
ঘরের কোথায় কোন আসবাব থাকবে সেটা ভাবতে গিয়ে অনেক সময় কূলকিনারা পাওয়া যায় না।
আর জায়গা বুঝে না সাজালে চেয়ার, টেবিল বা সোফা যতই দামি হোক, দেখতে ভালো লাগবে না।
এই কারণে পেশাদার অন্দরসজ্জাকররা সাধারণত কয়েকটি নিয়ম অনুসরণ করেন।
জায়গার ব্যবহার কীভাবে হবে সেটা ভাবা
কোন ঘর কীভাবে ব্যবহার হবে সেই অনুযায়ী আসবাব বিন্যাস করা উচিত।
এই বিষয়ে রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যারোলিন লিওনা ডিজাইন’য়ের প্রতিষ্ঠাতা লিজ গোল্ডবার্গ বলেন, “যদি ‘লিভিং রুম’য়ে খাবার বা নাস্তা খাওয়ার ইচ্ছে থাকে তবে নিচু পার্শ্ব-টেবিল রাখা যেতে পারে আশপাশে। যাতে সহজেই খাবার রেখে খেতে খেতে আরাম করা যায়।”
আবার যদি দিন শেষে একটু এলিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে তবে একটা গদিওয়ালা টুল রাখা যেতে পারে, যাতে পা তুলে আরাম করা যায়।
যাতায়াতের জন্য যথেষ্ট জায়গা রাখা
ঘরের ভেতর যদি আসবাবপত্রের জন্য হাঁটা-চলায় অসুবিধা হয় তবে সেটা মোটেই আনন্দদায়ক হবে না।
এই বিষয়ে একই প্রতিবেদনে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘মেমো ইন্টেরিওরস’য়ের প্রতিষ্ঠাতা রোজানা বেসফোর্ড বলেন, “ঘরের আকারের ওপর নির্ভর করবে কতটা জায়াগা রাখা যায়। যেমন বড় ঘর হলে আসবাবপত্রের সামনে অন্তত তিন, চার ফিট জায়গা রাখা উচিত। ছোট ঘর হলে দুই থেকে তিন ফিট খালি থাকতে হবে, যাতে সহজে হাঁটা-চলা করা যায়।”
ডাইনিং টেবিলের চারপাশে অন্তত তিন ফিট করে জায়গা ফাঁকা রাখা উচিত। আর শোবার ঘরে বিছানা আশপাশে ছাড়তে হবে অন্তত চার ফিট জায়গা।
এভাবে কক্ষের মাপ বুঝে আসবাব কেনার চেষ্টা করতে হবে।
শিল্পকর্ম নিচু করে ঝোলানো

শিল্পকর্ম দিয়ে দেয়াল সাজাতে দিয়ে বেশিরভাগই বেশ খানিকটা ওপরের দিকে ঝোলায়। এটা ঠিক পন্থা না।
গোল্ডবার্গ পরামর্শ দেন, “গ্যালারির মতো উচ্চতায় শিল্পকর্ম ঝোলাতে হয়। অর্থাৎ মেঝে থেকে ৫৭ ইঞ্চি ওপরে।”
একই প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘থিংক চিক ইন্টেরিওর্স’য়ের প্রতিষ্ঠাতা মালকা হেল্ফট বলেন, “শিল্পকর্মের আকারের ওপর উচ্চতার পার্থক্য হতে পারে। তবে অবশ্যই মেঝে থেকে ৫৫ ইঞ্চি ওপরে থাকবে। সোফার পেছনের দেয়াল হলে সোফার হেলান দেওয়ার কুশন থেকে খানিকটা ওপরে ঝোলাতে হবে। প্রধান বিষয় হল শিল্পকর্মগুলো যেন ‘আই লেভেল’ বা চোখ বরাবর থাকে।”
আরেকটি বিষয় হল, শিল্পকর্মের নিচের অংশ যেন, চেয়ার বা সোফা থেকে অন্তত ১০ ইঞ্চি ওপরে থাকে।
বড় ঘর ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা
বড় ঘর হলে আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার কোনো দরকার নেই।
“যদি বড় কক্ষের অধিকারী হওয়ার ভাগ্যবান হন তবে মেঝেতে কার্পেট বা গালিচা বিছিয়ে ঘরটা ভাগ করে ফেলতে পারেন”- পরামর্শ দেন হেল্ফট।
ঘরের একদিকে রাখা যেতে পারে, ছোট টেবিল-চেয়ারের সেট বা আরামদায়ক কোনো ছোট সোফা। অন্য দিকে থাকতে পারে সাজানোর জিনিস বা অন্য কোনো আসবাব।
গালিচার আকার হতে হবে সঠিক
মেঝেতে গালিচা বা কার্পেট বিছাতে অবশ্যই সঠিক মাপটা রাখতে হবে। আর সেটা সারা মেঝে জুড়ে হলে হবে না।
লিভিং রুম’য়ে সোফার বা চেয়ারের সামনে দুই পা যেন গালিচার ভেতর থাকে এমন মাপ রাখতে হবে।
নিয়ম ভাঙাটাও নিয়ম
অন্দরসজ্জার এসব পন্থাগুলো যে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। নিয়ম ভেঙে ঘর ও আসবাবের আকার বুঝে নিজস্ব চিন্তাধারাতেও ঘর সাজানো যায়।
গোল্ডবার্গ বলেন, “সব কিছুই নির্ভর করবে ঘরের উচ্চতা ও জায়গাও ওপর। তবে সাধারণ নিয়মগুলোর সাথে নিজস্ব চিন্তাভাবনা মেলালে অন্দরসজ্জায় ভিন্নতা আনা সম্ভব।”
মাথায় রাখতে হবে একটাই বিষয়, আসবাবপত্রের চাপে ঘরের কার্যকারিতা যেন না হারায়। যাতে দেখতে জঞ্জাল না মনে হয়।
আরও পড়ুন
পুরান আসবাব কেনার ক্ষেত্রে যেসব ভুল করা যাবে না