প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য-দ্রব্য কেনাতেও বাজেটে বাড়তি চাপ ফেলে।
Published : 17 Mar 2025, 12:52 PM
প্রতিনিয়ত খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়া একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে রমজানে মাসে বাড়তি খরচের কারণে বাজারের বাজেটে পড়ে চাপ।
প্রতিমাসে বাজার করতে গিয়ে বাজেটের সাথে সঙ্গতি না থাকলে সঠিক ব্যবস্থাপনায় খরচ অনেকটাই কমানো পারে।
‘সেল বাই’ এবং ‘ইউজ বাই’ তারিখের গুরুত্ব
কেনা পণ্যগুলো কি সঠিক সময়ে শেষ হবে? সেগুলো কবে পর্যন্ত নিরাপদে খাওয়া যাবে? এসব বুঝতে হলে প্রথমেই প্যাকেটে থাকা ‘সেল বাই’ এবং ‘ইউজ বাই’ তারিখ বুঝে নিতে হবে।
খাদ্যদ্রব্যে সাধারণত এসব তারিখ লেখা থাকে, তবে তারিখের বিষয়ে সঠিক ধারণা অনেকেরই থাকে না।
ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী খাদ্যবিজ্ঞানী ড. ব্রায়ান লি ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “সেল বাই’ তারিখটি দিয়ে বোঝানো হয় এটি আর দোকানে রাখা উচিত নয়, তবে ভোক্তা ব্যবহারের জন্য পণ্যটি সাধারণত নিরাপদ থাকে। অর্থাৎ, ‘সেল-বাই’ তারিখটি কখনই খাদ্যের নিরাপত্তা নির্দেশ করে না।”
“এই তারিখগুলো মূলত খাদ্যের তাজা থাকা এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণের নির্দেশক। তবে কিছু বিশেষ পণ্য, যেমন- শিশুদের খাবার বা স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য, এসবের জন্য সুরক্ষা নির্দেশিকা হিসেবেও থাকে। তারিখটি সাধারণত দোকানের জন্য গাইডলাইন হিসেবে কাজ করে, গ্রাহকের জন্য নয়”- বলেন ‘ওয়ান ফিফটি ফুড সায়েন্স কোশ্চেনস অ্যান্সার্ড’- বইয়ের এই লেখক।
খাবার খাওয়ার উপযোগিতা কীভাবে যাচাই করবেন?
খাবারের গুণগত মান বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হল- গন্ধ, স্বাদ এবং গঠনের পরিবর্তন। কারণ খাবার নষ্ট হলে এর গন্ধ, স্বাদ এবং গঠনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘খাদ্য ও রন্ধন’-বিষয়ক নিবন্ধিত বিজ্ঞানী জেসিকা গ্যাভিন একই প্রতিবেদনে বলেন, “যদি কোনো খাদ্যের গন্ধ বা স্বাদ অস্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে সেটি খাওয়ার উপযোগী নয়।”
“তবে, অনেক খাবার, যেমন- শাকসবজি বা ফলমূল, ‘সেল-বাই’ তারিখ পার হওয়ার পরও কিছুটা গুণগত মান ধরে রাখতে পারে। তবে প্রক্রিয়াজাত ও প্রাণিজ খাদ্য যেমন- মাংস, দুধ এবং ডিমের ক্ষেত্রে সময় পার হওয়ার পর এই সব পণ্যের ‘প্যাথোজেন’ বা জীবাণূ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই এই এসব খাদ্য পণ্যগুলো সাবধানে ব্যবহার করতে হবে”- বলেন এই খাদ্য বিজ্ঞানী।
বাজারের বাজেট পরিকল্পনা
খাদ্য পরিকল্পনা: বাজারে যাওয়ার আগে ফ্রিজ এবং বাসায় কী কী খাবার আছে, তা দেখে পরিকল্পনা করতে হবে। একে বলা হয় ‘মিল প্ল্যানিং’ বা খাদ্য পরিকল্পনা। এ পদ্ধতি শুধু প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য সাহায্য করে যেন বাজারে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকা যায়। ফলে বাজারের বাজেট নিয়ন্ত্রণে থাকে।
গ্যাভিন বলেন, “যারা তালিকা তৈরি করে কেনাকাটা করেন, তারা প্রতি বছর শত শত টাকা বাঁচাতে পারেন।”
তাই একটি ভালো পরিকল্পনা বাজার খরচ কমিয়ে দিতে পারে।
প্রথমে কেনা, প্রথমে শেষ করা পদ্ধতি ব্যবহার
অনেকেই বাসায় থাকা পুরানো খাবার আগে খাওয়ার ব্যবস্থা করেন না। ফলে অনেক কিছুই ঘরে থেকে নষ্ট হয়ে যায়।
গ্যাভিনের পরামর্শ, “ফ্রিজে রাখা খাবারগুলোর ওপর কেনার তারিখ লিখে রাখলে সহজেই বোঝা যাবে কোনটি আগে খেতে হবে।”
এছাড়া, পুরানো খাবার আগে ব্যবহার করার জন্য খাবারের ‘র্যাংকিং’য়ের ব্যবস্থা করা যায়। যেমন- খাবারগুলো একটি আরেকটির ওপর রাখা যাবে না বরং পুরনো খাবারগুলো সবার ওপরের দিকে রাখতে হবে।
গবেষণা
খাদ্য সংরক্ষণ এবং তারিখের বিষয়টি জানার জন্য দোকানির সাহায্য নেওয়া যায়। অনেক সময়ে ওয়েবসাইটে গিয়েও খাদ্যের তথ্য পাওয়া যায়। অনেক খাবার ‘সেল-বাই’ বা ‘বেস্ট-বাই’ তারিখের পরও নিরাপদ থাকে। তবে এটি খাবারের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
বাইরে খাওয়ার পরিমাণ কমানো
এক মাসে একবার হলেও বাইরে কম খেলে অর্থ খরচ কমানো যায়। বিশেষ করে রমজান মাসে বাইরে খাওয়া কমিয়ে দিলে বাজেট আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।
রেসিপি দ্বিগুণ করা
রান্না করার পর যদি অতিরিক্ত সবজি বা সামগ্রী থেকে যায়; তবে ফ্রিজে রেখে দিতে হবে যেন নষ্ট না হয়।
একবারে বাজার করা সামগ্রী থেকে দুবার রান্না করার চেষ্টা করতে হবে। ফলে খাদ্য নষ্ট হবে না এবং বাজার খরচও কম হবে।
আরও পড়ুন