Published : 20 Oct 2025, 05:19 PM
ডেঙ্গু জ্বর একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে বেশি দেখা যায়।
এ সময় এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়, যা উচ্চ জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক আফসানা হক নয়নের পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু হলে কী করতে হবে এবং কী এড়িয়ে চলতে হবে, তা জানানো হল।
ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ
ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান লক্ষণ হল উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর, যা ৯৯ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। জ্বর টানা থাকতে পারে বা ঘামের সঙ্গে কমে আবার ফিরে আসতে পারে।
অতিরিক্ত পেটব্যথা, ক্রমাগত বমি হওয়া, শরীরে পানি জমা, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা ও অস্থিরতা, লিভার বা যকৃত ফুলে যাওয়া (২ সেমি-এর বেশি), এবং হিমাটোক্রিটের মাত্রা বৃদ্ধি বা প্লেটলেট (অণুচক্রিকা) দ্রুত কমে যাওয়া।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ছাড়া নিম্নলিখিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে:
- শরীরে ও মাথায় তীব্র ব্যথা
- চোখের পেছনে ব্যথা
- চামড়ায় লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি
কখন হাসপাতালে যাবেন
ডেঙ্গু জ্বরকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়: ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’। এর ধরনের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা ভিন্ন হয়।
ক্যাটাগরি এ: এ ধরনের রোগীদের শুধু জ্বর থাকে এবং তারা সাধারণত স্বাভাবিক থাকে। বাড়িতে বিশ্রাম ও সঠিক পরিচর্যাই যথেষ্ট। হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই।
ক্যাটাগরি বি: পেটে ব্যথা, বমি, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, বৃক্ক (কিডনি) বা যকৃতের (লিভার) সমস্যা থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
ক্যাটাগরি সি: এটি সবচেয়ে গুরুতর। এতে বৃক্ক, যকৃত বা মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ধরনের রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে।
বাড়িতে করণীয়
পরিপূর্ণ বিশ্রাম: শরীরকে বিশ্রামে রাখুন, যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।
তরল খাবার গ্রহণ: প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন। যেমন- ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের রস এবং খাবার স্যালাইন। এটি শরীরে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করবে।
প্যারাসিটামল সেবন: জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। স্বাভাবিক ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দৈনিক সর্বোচ্চ আটটি প্যারাসিটামল (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী) খেতে পারেন।
তবে যকৃত, হৃদপিণ্ড বা বৃক্কে সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
যা করা যাবে না
ডেঙ্গু জ্বরে কিছু বিষয় এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলুন: এ ধরনের ওষুধ (যেমন- ক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন) রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্লাটিলেট নিয়ে উদ্বেগ নয়: ‘প্লাটিলেট কাউন্ট’ এখন ডেঙ্গু চিকিৎসার প্রধান বিষয় নয়। শুধুমাত্র প্লাটিলেট ১০ হাজারের নিচে নামলে বা রক্তক্ষরণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্লাটিলেট বা রক্ত দেওয়া যেতে পারে।
পেঁপে-পাতার রসের ওপর ভরসা নয়: পেঁপে-পাতার রস প্লাটিলেট বাড়ায় বলে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। জ্বর কমার পর প্লাটিলেট স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে শুরু করে।
রক্তচাপ বা রক্তক্ষরণের লক্ষণ উপেক্ষা না করা: জ্বরের শেষ দিকে রক্তচাপ কমে যাওয়া, মাড়ি, নাক বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। এক্ষেত্রে শিরাপথে স্যালাইন বা অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বরে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। ‘ক্যাটাগরি এ’ রোগীরা বাড়িতে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ হতে পারেন। তবে ‘বি’ বা ‘সি’ ক্যাটাগরির উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
প্রতিরোধে মশারি ব্যবহার, পানি জমতে না দেওয়া এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন