০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নেতৃত্বের আকস্মিক শূন্যতা ও ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে ওঠার মনস্তাত্ত্বিক উপায়

প্রতিষ্ঠানের প্রধান অভিভাবকের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়া স্বাভাবিক; তবে এর থেকে উত্তরণের উপায়ও আছে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Oct 2026, 04:08 PM

Updated : 03 Oct 2026, 04:08 PM

পেশাগত জীবনে কোনও দূরদর্শী নেতার আকস্মিক প্রস্থান বা ব্যক্তিগত জীবনে প্রিয় কোনও মানুষের চিরতরে চলে যাওয়া— দুটো ঘটনাই মনে এবং কর্মপরিবেশে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করে।

হঠাৎ করে তৈরি হওয়া এই শূন্যতা মানুষকে দিশেহারা করে তোলে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন উৎপাদনশীলতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর।

করপোরেট ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক সাময়িকী ‘ইনকর্পোরেইটেড’ এবং মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক ওয়েবসাইট সাইকোলজি টুডে-তে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন দুটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই ধরনের আকস্মিক ধাক্কা বা মানসিক আঘাত সামলানোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত মনস্তাত্ত্বিক স্তরে কিছু সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক কৌশল অবলম্বন করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতার আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে কর্মীবাহিনীর মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়।

‘ইনকর্পোরেইটেড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকট মোকাবিলার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হল— স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যোগাযোগ বজায় রাখা, যাতে কোনও ধরনের গুজব ছড়াতে না পারে।

দ্বিতীয়ত, কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অবিলম্বে ‘এমপ্লয়ি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’ বা পেশাদার ‘ক্রাইসিস কাউন্সেলর’দের যুক্ত করার প্রয়োজন পড়তে পারে।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও উত্তরসূরি নির্বাচন, স্বচ্ছতার সঙ্গে সবার সামনে তুলে ধরতে হবে, যা কর্মীদের অবচেতন মনকে শান্ত রাখতে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে সরাসরি সাহায্য করে।

অন্য দিকে, ব্যক্তিগত স্তরে এই গভীর শোক ও বিষণ্ণতা কাটানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সাইকোলজি টুডে-র মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় ৪টি শক্তিশালী ও কার্যকর আত্ম-উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।

প্রথমত- নিজের ভেতরের সব নেতিবাচক আবেগ যেমন— তীব্র দুঃখ, ক্ষোভ বা অপরাধবোধকে জোর করে চেপে না রেখে সেগুলোকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে ও অনুভব করতে হবে; কারণ আবেগ প্রক্রিয়াকরণ না হলে, সেটা দীর্ঘস্থায়ী আঘাতে রূপ নেয়।

দ্বিতীয়ত- মৃত্যুর চেয়ে জীবনের ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে অর্থ বা মানে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে, যা স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখে।

তৃতীয়ত- প্রার্থনা, আধ্যাত্মিকতা বা ‘মাইন্ডফুলনেস’-এর মাধ্যমে মনের গভীর থেকে অভ্যন্তরীণ শান্তি খোঁজার চেষ্টা করা উপকারী।

সর্বোপরি, প্রয়াত ব্যক্তির বা প্রিয়জনের ভালো কাজ, আদর্শ এবং শিক্ষাকে নিজের দৈনন্দিন আচরণ ও অর্জনের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমেই এই শোককে এক অদৃশ্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

পুরানো খবর:

দুঃখের পাঁচ স্তর আর সেসব সামলানোর পন্থা
দীর্ঘায়ু ও সুখী জীবনের মন্ত্রটা কী?
মাস শেষে মানিব্যাগ ফাঁকা করতে না চাইলে