Published : 03 Nov 2025, 07:26 AM
পোকামাকড় পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও প্রাচুর্যপূর্ণ প্রাণী। মোট প্রাণী প্রজাতির প্রায় ৮০ শতাংশই হলো বিভিন্ন ধরনের পোকা। কিন্তু সম্প্রতি এক উদ্বেগজনক খবর বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে, বিশ্বজুড়ে পোকামাকড়ের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। অনেক বিশেষজ্ঞ এ সম্ভাব্য সর্বনাশ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ নিয়েই স্মিথসোনিয়ান বুকস থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘স্মিথসোনিয়ান হ্যান্ডবুক অফ ইন্টারেস্টিং ইনসেক্টস’ বইটি। পোকাদের বিলুপ্তি কেন জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। লন্ডন ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামের ৩৪ মিলিয়ন নমুনার বিশাল সংগ্রহ থেকে কীটতত্ত্ববিদ গ্যাভিন ব্রড, ব্লাঙ্কা হুয়ের্টাস, অ্যাশলে কার্ক-স্প্রিগস এবং দিমিত্রি তেলনভ ১০০টিরও বেশি আকর্ষণীয় পতঙ্গের প্রজাতি নিয়ে এই বইটি সংকলন করেছেন।
বইটিতে অত্যাশ্চর্য পূর্ণ-রঙিন ছবির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টলক-আইড ফ্লাই, যার চোখ লম্বা ডাঁটার প্রান্তে থাকে; উজ্জ্বল হলুদ-কালো ইকনিউমনিড ওয়াস্প এবং ধাতব সোনালি-সবুজ উইভিল। প্রতিটি ছবির সঙ্গে পোকাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, তাদের ভৌগোলিক অবস্থান এবং আকার সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
জাদুঘরের লেপিডোপ্টেরা-এর সিনিয়র কিউরেটর এবং বইটির সহ-লেখক ব্লাঙ্কা হুয়ের্টাস বলেন, “আমরা পোকামাকড়কে ছোট প্রাণী হিসেবে দেখি। তবে, পোকামাকড়ের আকার তাদের অবিশ্বাস্য অভিযোজন ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। তারা সবচেয়ে বিপজ্জনক আবাসস্থলেও টিকে থাকতে পারে এবং মানুষের অনেক আগে থেকেই পৃথিবীতে সফলভাবে বাস করে আসছে।”
‘ইন্টারেস্টিং ইনসেক্টস’-এর প্রকাশনা এমন একটি গবেষণার সঙ্গে মিলে গেছে যা ইঙ্গিত করে যে পোকাদের বিলুপ্তি হওয়ার পরিস্থিতি আগের ধারণার চেয়েও জটিল। ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণাপত্রের জন্য, গবেষকরা বিশ্বের ১ হাজার ৬৭৬টি স্থানের ১৬৬টি সমীক্ষা পর্যালোচনা করেছেন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, গত ৩০ বছরে পৃথিবীর স্থলজ পোকামাকড়ের সংখ্যা ২৭ শতাংশ কমেছে, যা প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ হারে হ্রাস পাচ্ছে। পোকামাকড়ের সংখ্যা হ্রাসের জন্য কোন একক কারণকে দায়ী করা যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে যে, তারা বাসস্থান ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন, কীটনাশক, নগরায়ণ এবং আলোক দূষণসহ বিভিন্ন হুমকির সম্মুখীন।
হুয়ের্টাস বলেন, “পোকামাকড়ের সংখ্যা হ্রাস বাস্তব ঘটনা। তবে এটি বিশ্বের খুব কম এলাকাতেই পরিমাপ করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, বিশ্বের যেসব এলাকায় সবচেয়ে বেশি পোকামাকড়ের বৈচিত্র্য রয়েছে (এবং অন্যান্য অনেক জীব), সেগুলোর ওপর সবচেয়ে কম গবেষণা হয়েছে। তাই সমস্যাটি আমাদের ধারণার চেয়েও বড়।”
জাদুঘরে পোকামাকড়ের প্রধান কিউরেটর গ্যাভিন ব্রড যোগ করেন, “আমরা আশা করি যে পোকামাকড়ের জীবনের আশ্চর্যজনক বৈচিত্র্যের প্রতি সতর্ক থেকে, মানুষ এই ক্ষুদ্র আকারের রঙিন ও বিচিত্র রূপগুলো আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবে। প্রাকৃতিক বিশ্ব সংরক্ষণে কাজ করা নিশ্চিত করবে যেন জীবনের এই বৈচিত্র্য চিরকাল টিকে থাকে, কেবল পুরানো জাদুঘরের নমুনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।”
‘ইন্টারেস্টিং ইনসেক্টস’-এর প্রকাশনা উপলক্ষ্যে, স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন বইটিতে কয়েকটি পতঙ্গের প্রজাতিকে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তুলে এনেছে। এর মধ্যে প্রথমে রয়েছে আধুনিক শিল্পের এক কিংবদন্তির নামে নামকরণ করা একটি শৈল্পিক প্রজাপতি। এর মধ্য থেকেই ১১টি আকর্ষণীয় পতঙ্গের পরিচিতি দেওয়া হলো-
১. পিকাসো মথ

বৈজ্ঞানিক নাম: বাওরিজা হায়ারোগ্লাইফিকা
বিস্তৃতি: উত্তর ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
আকার: ৫০ মিলিমিটার (২ ইঞ্চি) ডানার বিস্তার
এই প্রজাপতির সামনের ডানায় জ্যামিতিক রেখা ও আকার রয়েছে। এর প্রজাতির নাম ‘হায়ারোগ্লাইফিকা’ থেকে এসেছে। এই আকারগুলো হয়তো অ্যান্টেনা ও পা-সহ একটি লাল পোকার মাথার মতো বা জালের ভেতর একটি মাকড়সার মতো দেখতে। কেউ কেউ একে ‘পিকাসো মথ’ বললেও, স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী জোয়ান মিরোর রঙিন সৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ‘মিরো মথ’ নামটি হয়তো আরও উপযুক্ত।
২. রেড স্পটেড জুয়েল বিটল

বৈজ্ঞানিক নাম: স্টিগমডেরা ক্যানসেলাটা
বিস্তৃতি: পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া
আকার: ২৩ থেকে ৩৫ মিলিমিটার (১ থেকে দেড় ইঞ্চি) লম্বা
এই সুন্দর পোকাটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয়। এর লার্ভা ১৫ বছর পর্যন্ত মাটিতে এক ধরনের গুল্মের শিকড় খায়। প্রাপ্তবয়স্করা অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ওয়াইল্ডফ্লাওয়ার সিজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেরিয়ে আসে। স্ত্রী পোকা পুরুষদের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হয়। এদের সামনের শক্ত ডানাগুলো সবুজ বা নীলচে রঙের হয়, যাতে ছয়টি অনিয়মিত লাল দাগ এবং লাল পার্শ্বীয় প্রান্ত থাকে।
এই প্রতিরক্ষামূলক আবরণগুলো মোটা দাগযুক্ত হওয়ায় পোকাটিকে চকচকে দেখায়। এর সামনের অংশ সবুজ, তামাটে বা কালচে হতে পারে। হুয়ের্টাস এ পোকার শক্তিশালী শরীরকে সাঁজোয়া ট্যাঙ্কের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি জানান, এদের মজবুত পিঠের নিচে থাকা সূক্ষ্ম ডানাগুলো অন্যান্য পোকার মতোই কার্যকরভাবে উড়তে সাহায্য করে।
৩. ক্লাউডিনা বাটারফ্লাই

বৈজ্ঞানিক নাম: এগ্রিয়াস ক্লাউডিনা
বিস্তৃতি: ক্রান্তীয় দক্ষিণ আমেরিকা
আকার: ৮০ মিলিমিটার (৩ দশমিক ২৫ ইঞ্চি) ডানার বিস্তার
১৮৫০-এর দশকে ব্রিটিশ অভিযাত্রী হেনরি ওয়াল্টার বেটস ব্রাজিলের অ্যামাজনে এই প্রজাপতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এই রেইনফরেস্ট প্রজাপতির উপরের ডানায় উজ্জ্বল গাঢ় লাল ছোপ থাকলেও, এর নিচের ডানাগুলো আরও দর্শনীয়। তবে, এর খাদ্যাভ্যাস কিছুটা অরুচিকর, এটি পচা মাংস ও ফল থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে।
ক্লাউডিনা বাটারফ্লাইয়ের নিচের ডানাগুলো জটিল নকশার। এর পেছনের ডানায় ‘অ্যান্ড্রোকোনিয়া’ নামক হলুদ আঁশের গুচ্ছ থাকে। এই বিশেষ আঁশগুলো, যা লেপিডোপ্টেরা বর্গের অনেক পুরুষ সদস্যের মধ্যে দেখা যায়, যা প্রণয়ঘটিত ফেরোমোন ছড়ায়।
হুয়ের্টাস বলেন, “অনেক প্রজাপতির ডানায় দৃশ্যমান উজ্জ্বল রঙ দীর্ঘ-দূরত্বের যোগাযোগের জন্য অপরিহার্য এবং এটি পুরুষদের সুবিধার মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে, শক্তিশালী রঙ কিছু প্রজাতির প্রজাপতি শিকারিদের প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করে। প্রজাতির মধ্যে রঙের ধারণা এত বেশি পরিবর্তিত হয় যে এটি প্রয়োজন অনুসারে তাদের বিভিন্ন আচরণে সাহায্য করে।”
৪. ভায়োলিন বিটল

বৈজ্ঞানিক নাম: মর্মালাইস ফাইলোডেস
বিস্তৃতি: ইন্দো-মালয়েশিয়া
আকার: ৬০ থেকে ১০০ মিলিমিটার (২ দশমিক ৫ থেকে ৪ ইঞ্চি) লম্বা
গ্রাউন্ড বিটলের বিশাল বৈচিত্র্যময় ক্যারাবিডি পরিবারের মধ্যে এটি সম্ভবত সবচেয়ে অস্বাভাবিক পোকা। এর শরীরের আকৃতিকে একটি গিটার বা বেহালার সঙ্গে তুলনা করা হয় এবং পাশ থেকে দেখলে এটি সম্পূর্ণ সমতল মনে হয়। এই পোকা মৃতগাছের আলগা ছালের নিচে বা মাটির ফাটলে জীবনধারণের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত। যদি বিরক্ত হয়, তবে এটি পেটের ডগা থেকে একটি তরল ছুড়ে দেয়। তরলটির তীব্র গন্ধ নাইট্রিক অ্যাসিড ও অ্যামোনিয়ার মিশ্রণের মতো এবং তা চোখে লাগলে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
৫. গ্রিন মিল্কউইড গ্রাসহপার

বৈজ্ঞানিক নাম: ফাইমাটিউস ভিরিডিপেস
বিস্তৃতি: দক্ষিণ আফ্রিকা
আকার: ৭০ মিলিমিটার (২ দশমিক ৭৫ ইঞ্চি) লম্বা
এই বৃহৎ আফ্রিকান ফড়িং যখন ভয় পায়, তখন বুক থেকে একটি বিষাক্ত তরল নিঃসরণ করে। এই তরলটি বিষাক্ত মিল্কউইড উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন হয়, যা এটি অপরিণত নিম্ফ বা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। পেছনের রঙিন ডানাগুলো সাধারণত বিশ্রামের সময় লুকানো থাকে। সেগুলোও সম্ভাব্য শিকারিদের ভয় দেখাতে ঝলকানো যায়।
৬. গ্রে’স লিফ ইনসেক্ট

বৈজ্ঞানিক নাম: ফাইলিউম বায়োকুলেটাম
বিস্তৃতি: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইন্দো-মালয়
আকার: ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার (২ থেকে ৪ ইঞ্চি) লম্বা
গ্রে’স লিফ ইনসেক্ট হল ডালপোকা বা স্টিক ইনসেক্ট। এটি অত্যন্ত চ্যাপ্টা। অনিয়মিত আকৃতির শরীর ডানা ও পায়ে বিবর্তিত হয়েছে। প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে স্ত্রী পোকাদের বড়, চামড়ার মতো সামনের ডানার শিরা থেকে, যা পাতার শিরার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। এটি তাদের চমৎকার ছদ্মবেশ নিতে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পোকার স্বচ্ছ ডানা এবং পেটে সুস্পষ্ট দাগ থাকে। তাই তাদের বৈজ্ঞানিক নাম ‘ফাইলিউম বায়োকুলেটাম’, এর বাংলা হতে পারে ‘দুই-দাগযুক্ত’।
৭. পাপুয়ান গ্রিন উইভিল

বৈজ্ঞানিক নাম: ইউফোলাস শোয়েনহেরি
বিস্তৃতি: নিউ গিনি
আকার: ২১ থেকে ৩৪ মিলিমিটার (০ দশমিক ৭৫ থেকে ১ দশমিক ২৫ ইঞ্চি) লম্বা
ইউফোলাস গণের পোকাদের যথার্থই সবচেয়ে সুন্দর ‘উইভিল’ বলে মনে করা হয়। যদিও উজ্জ্বল রঙের হয়, তাদের রঙ আসলে এক ধরনের ছদ্মবেশ, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় নীল আকাশ, উদ্ভিদের সবুজ এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টের অন্ধকারকে একত্রিত করে। এই বিশেষ প্রজাতিটি উত্তর নিউ গিনিতে বেশ সাধারণ, যেখানে এটি প্রাথমিক বন ও স্থানীয় বাগানে বাস করে।
৮. কুককু ওয়াস্প

বৈজ্ঞানিক নাম: ক্রাইসিস রুডি
বিস্তৃতি: সমগ্র ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়াজুড়ে
আকার: ৭ থেকে ১০ মিলিমিটার (০ দশমিক ২৫ থেকে ০ দশমিক ৫ ইঞ্চি) লম্বা
কুককু ওয়াস্প মৌমাছি ও ওয়াস্পের বাসায় ডিম পাড়ার মাধ্যমে তাদের নামের সার্থকতা প্রমাণ করে। ক্রাইসিস রুডি বিশেষভাবে পটার ওয়াস্পের মাটির বাসায় বিশেষজ্ঞ। তরুণ কুককু ওয়াস্প বাসার আসল বাসিন্দা এবং তার খাদ্যভাণ্ডার খেয়ে ফেলে। যখন তারা মৌমাছি বা ওয়াস্প দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের তারা দখল করতে চাইছে, তখন কুককু ওয়াস্প একটি ভারী সাঁজোয়া, গহনার মতো বলের মধ্যে গুটিয়ে যেতে পারে।
৯. মেটালিক ট্যাকিনিড ফ্লাই

বৈজ্ঞানিক নাম: র্যাচোইপালপাস মেটালিকাস
বিস্তৃতি: ক্রান্তীয় দক্ষিণ আমেরিকা
আকার: ১২ থেকে ১৫ মিমি (০ দশমিক ৫ থেকে ০ দশমিক ৭৫ ইঞ্চি) লম্বা
এর বৈজ্ঞানিক নাম থেকে বোঝা যায় এই মাছিটির একটি আকর্ষণীয় ধাতব নীল আভা রয়েছে। এর পেট দীর্ঘ, মজবুত ও খাড়া লোমে আবৃত। এই মাছি পরিবারে ধাতব রঙ অস্বাভাবিক, তবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেশ কয়েকটি ধাতব প্রজাতি বিদ্যমান। আর মেটালিকাস ক্রান্তীয় দক্ষিণ আমেরিকার উচ্চ আন্দিজ অঞ্চলে পাওয়া যায়, যেখানে লার্ভা সম্ভবত শুঁয়োপোকা বা বিটলের লার্ভার অভ্যন্তরীণ পরজীবী হিসেবে বিকশিত হয়।
১০. ব্রাশ জুয়েল বিটল

বৈজ্ঞানিক নাম: জুলোডিস সিরিসিয়া
বিস্তৃতি: দক্ষিণ আফ্রিকা
আকার: ২৫ থেকে ২৭ মিলিমিটার (প্রায় ১ ইঞ্চি) লম্বা
এই ধাতব, নীল-সবুজ পোকার একটি নলাকার শরীর রয়েছে। এর পৃষ্ঠটি মোটাভাবে ছিদ্রযুক্ত, দীর্ঘ ও মোমের মতো সাদাটে, হলুদ বা কমলা লোমের গোছা দিয়ে আবৃত। লার্ভা বিভিন্ন ঝোপের কাণ্ড এবং শিকড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে। প্রাপ্তবয়স্ক পোকাগুলো স্বল্পস্থায়ী এবং দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে। তারা জলসমৃদ্ধ পাতা ও ফুল খায়।
১১. ওয়াক্স-টেইলড বাগ

বৈজ্ঞানিক নাম: আলারুয়াসা ভায়োলাসিয়া
বিস্তৃতি: মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা
আকার: ৮৫ মিলিমিটার (৩ দশমিক ২৫ ইঞ্চি) লম্বা
এ পোকাটি ফুলগোরিডি পরিবারের সদস্য। ফুলগোরিড নিম্ফের কিছু প্রজাতি পেটে ও শরীরের অন্যান্য অংশে বিশেষ গ্রন্থি থেকে মোমের মতো নিঃসরণ তৈরি করে। অনেক প্রজাতির প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী পোকাও মোম তৈরি করে, যা তাদের ডিম সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহৃত হতে পারে। মধ্য আমেরিকার রেইনফরেস্টের এই সুন্দর প্রজাতির পেটে মোমের মতো প্রক্ষেপণ বিশেষভাবে বিকশিত হয়। নিম্ফ ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই গাছের রস খায়।
সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন।